“I knew he would play for Bangladesh” – Ashraful shares untold stories about Nahid Rana
নাহিদ রানার অদম্য পথচলা
বাংলাদেশ ক্রিকেটের বর্তমান সময়ের অন্যতম আলোচনার নাম নাহিদ রানা। তার বিধ্বংসী গতি এবং বোলিংয়ের ধার মুগ্ধ করেছে পুরো ক্রিকেট বিশ্বকে। তবে এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে অনেক অজানা গল্প। সম্প্রতি বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং কোচ ও সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল তার সঙ্গে প্রথম দেখার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন, “I knew he would play for Bangladesh” – Ashraful shares untold stories about Nahid Rana শিরোনামের এই আলোচনায় যে, প্রথম দেখাতেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন এই তরুণ একদিন দেশের হয়ে খেলবেন।
প্রথম পরিচয়ের নেপথ্যে
আশরাফুল জানান, কক্সবাজারে নাহিদ রানার অভিষেক ম্যাচেই তার গতির মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে আশরাফুল বলেন, “আমি তখন ওপেনিংয়ে ব্যাট করছিলাম। তার বোলিংয়ের গতি দেখে আমি রীতিমতো অবাক হয়েছিলাম। ম্যাচ শেষে তাকে নিজের রুমে ডেকেছিলাম। অবাক হয়ে জেনেছিলাম, সে তখন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রাথমিক স্কোয়াডেও ছিল না। অথচ গতির বিচারে সে ছিল দেশের অন্য যে কোনো বোলারের চেয়ে আলাদা।”
অনূর্ধ্ব-১৯ নির্বাচকদের কাছে সুপারিশ
নাহিদের গতি দেখে আশরাফুল এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে তিনি তৎক্ষণাৎ অনূর্ধ্ব-১৯ নির্বাচকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আশরাফুল বলেন, “আমি শিপন ভাইকে ফোন করে বলেছিলাম একজন দারুণ ফাস্ট বোলারের কথা। তিনি পাল্টা বলেছিলেন যে স্কোয়াডে তার চেয়েও দ্রুতগতির বোলার আছে। সেটা শুনে আমি আরও আশ্বস্ত হয়েছিলাম যে আমাদের পেস বোলিংয়ের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত।” নিজের দীর্ঘ ১৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতার আলোকে আশরাফুল বুঝতে পেরেছিলেন, নাহিদ রানা দ্রুতই জাতীয় দলের দরজায় কড়া নাড়বেন।
শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা
গত সাত মাস ধরে জাতীয় দলের সেটআপে নাহিদের সঙ্গে কাজ করছেন আশরাফুল। তার মতে, নাহিদের বোলিংয়ের চেয়েও তার চারিত্রিক দৃঢ়তা বেশি প্রশংসনীয়। আশরাফুল উল্লেখ করেন, “সাধারণত তারকা খ্যাতি পাওয়ার পর অনেকের আচরণ বদলে যায়। কিন্তু নাহিদ রানা একেবারে মাটির মানুষ। দিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়মিত আদায় করেন এবং ফজরের সময় ঘুম থেকে উঠে নিজের রুটিন মেনে চলেন। খুব কম বয়সে এমন শৃঙ্খলা সচরাচর দেখা যায় না।”
ফিটনেসের প্রতি চরম নিবেদন
নাহিদের ফিটনেস নিয়ে আশরাফুল একটি চমৎকার ঘটনার কথা তুলে ধরেন। পিএসএল ফাইনালে খেলার পর হোটেলে ফিরে ব্যাগ রেখেই তিনি সোজা সুইমিং পুলে চলে যেতেন এবং দীর্ঘ সময় সাঁতার কাটতেন। নিজের শরীরের যত্ন নেওয়ার এই তাড়না থেকেই বোঝা যায়, কেন তিনি আজ সফল। চোট কাটিয়ে ফেরার লড়াইয়েও নাহিদ দেখিয়েছেন অদম্য মানসিকতা, যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
বিপিএল ও তার পরবর্তী লক্ষ্য
রংপুর রাইডার্সের হয়ে বিপিএলের দুই আসরে আশরাফুলের সঙ্গে কাজ করার সময় নাহিদ রানার নিবেদন খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। আশরাফুল বলেন, “সে ক্রিকেট নিয়ে কতটা সিরিয়াস, তা বিপিএলের ড্রেসিংরুমেই বোঝা যেত। আজকের এই সাফল্য কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং তার দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রমের ফল।”
মোহাম্মদ আশরাফুল নিজে তার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে অনূর্ধ্ব-১৩ দলে সুযোগ না পেয়ে ক্রিকেট ছাড়ার কথা ভেবেছিলেন। সেই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি নাহিদ রানার মাঝে একই ধরনের জেদ ও লড়াই করার মানসিকতা দেখতে পান। আশরাফুলের বিশ্বাস, নাহিদ রানা শুধু বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশই নয়, বরং ভবিষ্যতে বিশ্ব ক্রিকেটে নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তুলবেন। তার এই বিনয় এবং পরিশ্রমই তাকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে সাহায্য করবে।
