Hasan Mahmud receives Kent county deal and LPL contract on same day
এক দিনে দুই বিশাল প্রাপ্তি
ক্রিকেটের দুনিয়ায় অনেক রেকর্ড তৈরি হয়, কিন্তু একই দিনে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ এবং কাউন্টি ক্রিকেটের চুক্তি পাওয়ার ঘটনা সত্যিই বিরল। বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রতিশ্রুতিশীল পেসার হাসান মাহমুদের জন্য ১ জুন, ২০২৬ তারিখটি তেমনই এক স্মরণীয় দিন হয়ে রইল। একদিকে শ্রীলঙ্কার লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের ড্রাফটে দল পাওয়া, আর অন্যদিকে ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী কাউন্টি দল কেন্টের হয়ে খেলার সুযোগ—সব মিলিয়ে দিনটি তার জন্য ছিল স্বপ্নের মতো।
কেন্ট কাউন্টির নতুন সৈনিক হাসান মাহমুদ
জাতীয় দৈনিক ডেইলি সানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইংলিশ কাউন্টি দল কেন্টের সাথে চুক্তি সম্পন্ন করেছেন হাসান মাহমুদ। বাংলাদেশ দলের লাল বলের ক্রিকেটে নিয়মিত মুখ তিনি। যদিও ইনজুরির কারণে বেশ কিছুদিন মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল, তবে কঠোর পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষ করে তিনি এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) পরবর্তী রাউন্ডে ফেরার অপেক্ষায় থাকা হাসান মাহমুদ এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের জাত চেনাতে মুখিয়ে আছেন।
নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করতে গিয়ে হাসান বলেন, ‘একই দিনে কাউন্টি এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের চুক্তি পাওয়াটা সম্ভবত একটি রেকর্ড। আমি এটিকে সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ হিসেবে দেখছি। আমার ধৈর্য এবং পরিশ্রমের ফসল এটি।’
ইংল্যান্ডে অনুশীলনের ফসল
এই বিশাল সুযোগটি হঠাৎ করে আসেনি। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পরিশ্রম এবং সঠিক পরিকল্পনা। হাসান জানান, ইংল্যান্ডে অবস্থানকালে তিনি কেন্টের সাথে প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছিলেন। সেখানে তার বোলিং নৈপুণ্য দেখে কোচ এবং ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত মুগ্ধ হন। তিনি বলেন, ‘যখন আমি ইংল্যান্ডে ছিলাম, তখন কেন্টের হয়ে অনুশীলন করার সুযোগ পেয়েছিলাম। আমার বোলিং দেখে তারা সন্তুষ্ট ছিল। এরপর আমি কেবল স্পোর্টস ভিসার অপেক্ষায় ছিলাম, যা সোমবার হাতে পেয়েছি। এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) চাইব, যাতে এই বছর কয়েকটি কাউন্টি ম্যাচ খেলতে পারি।’
বাংলাদেশের জন্য এক গর্বের মুহূর্ত
হাসান মাহমুদের এই কাউন্টি চুক্তি বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। এর আগে মোস্তাফিজুর রহমান সাসেক্সের হয়ে কাউন্টি ক্রিকেটে আলো ছড়িয়েছেন। এছাড়া বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ওরচেস্টারশায়ার এবং সারের মতো দলের হয়ে খেলেছেন। সেই তালিকায় এবার নাম লেখালেন হাসান মাহমুদ। এটি কেবল তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশি পেসারদের ক্রমবর্ধমান প্রভাবেরই প্রতিফলন।
ভবিষ্যতের পথে হাসান
হাসান মাহমুদের এই যাত্রা তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। দীর্ঘ ইনজুরি কাটিয়ে যেভাবে তিনি আবার ক্রিকেটে ফিরছেন এবং একই সাথে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পাচ্ছেন, তা তার মানসিক শক্তির পরিচয় দেয়। কেন্টের হয়ে তার পারফরম্যান্স কেমন হয়, এখন সেটি দেখার অপেক্ষায় পুরো দেশ। আশা করা হচ্ছে, কাউন্টি ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা তার বোলিংকে আরও ধারালো করবে, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ জাতীয় দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখবে।
একজন বোলার হিসেবে হাসান মাহমুদ বরাবরই তার গতির জন্য পরিচিত। কাউন্টির কন্ডিশন তাকে বৈচিত্র্যময় বোলিং শিখতে সাহায্য করবে। লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ (এলপিএল) এবং কেন্টের হয়ে তার এই নতুন মিশন সফল হোক, এটিই প্রত্যাশা ক্রিকেটপ্রেমীদের। বাংলাদেশি ক্রিকেটের নতুন এই দিগন্ত উন্মোচনে হাসান মাহমুদের পথচলা মসৃণ হোক।
