ICC Approves Pink Ball Trial in Tests, New Women’s Events and Major Governance R – আইসিসির নতুন সিদ্ধান্ত
আহমেদাবাদ সভায় আইসিসির যুগান্তকারী সিদ্ধান্তসমূহ
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ভারতের আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত তাদের বোর্ড সভায় বিশ্ব ক্রিকেটের উন্নয়নে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ এবং যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছে। রবিবার সমাপ্ত এই সভায় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ নীতি, নারী ক্রিকেটের অগ্রগতি, সহযোগী দেশগুলোর বিকাশ, শাসনতান্ত্রিক সমস্যা এবং বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আইসিসির এই বড় সংস্কার কর্মসূচির মূল ভিত্তি হলো ICC Approves Pink Ball Trial in Tests, New Women’s Events and Major Governance R। এই নীতিমালার অধীনে ক্রিকেটের সনাতন ফরম্যাট থেকে শুরু করে সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাট এবং নারী ক্রিকেটের প্রসারে একাধিক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
টেস্ট ক্রিকেটে গোলাপি বলের ট্রায়াল ও প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন
আইসিসি টেস্ট ক্রিকেটে আলোর স্বল্পতার কারণে খেলা বন্ধ হওয়ার সমস্যা দূর করতে একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। এখন থেকে টেস্ট ম্যাচে গোলাপি বলের ট্রায়াল বা পরীক্ষামূলক ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তবে এর জন্য খেলুড়ে দুটি দলের পূর্ব সম্মতির প্রয়োজন হবে। আলোর স্বল্পতার কারণে মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়া রোধ করতেই এই অভিনব সিদ্ধান্ত। এছাড়া, খেলার মাঠের লাইটিং বা আলোক ব্যবস্থার মানোন্নয়নে মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)-এর সাথে যৌথভাবে কাজ করবে আইসিসি, যাতে আম্পায়ার এবং আয়োজকেরা প্রতিকূল আলোর পরিস্থিতিতেও খেলা চালিয়ে যেতে পারেন।
একই সাথে, বোলিং অ্যাকশন রিভিউ করার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সহায়তার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশন পর্যালোচনার জন্য আম্পায়ার ও ম্যাচ অফিশিয়ালদের সহায়তায় এখন থেকে হক-আই (Hawk-Eye) প্রযুক্তি ব্যবহার করা যাবে, যা খেলায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।
খেলার নিয়মে বড় কিছু পরিবর্তন ও লেগ-সাইড ওয়াইড নিয়ম
আহমেদাবাদের সভায় খেলার মাঠের নিয়মে বেশ কিছু তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন অনুমোদন করা হয়েছে। মাঠের খেলায় গতিশীলতা এবং রোমাঞ্চ বজায় রাখার জন্য আইসিসি কিছু নতুন নীতি গ্রহণ করেছে। এই পরিবর্তনের মধ্যে প্রধান বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো:
- অফিশিয়াল ড্রিংকস ব্রেকের সময় দলের হেড কোচ বা নির্ধারিত টিম স্টাফরা মাঠে গিয়ে খেলোয়াড়দের সাথে সরাসরি কৌশলগত আলোচনা করতে পারবেন।
- টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক (T20I) ম্যাচে দুই ইনিংসের মধ্যবর্তী বিরতির সময় ২০ মিনিট থেকে কমিয়ে ১৫ মিনিট করা হয়েছে, যা খেলার সময় সাশ্রয় করবে।
- খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার সাথে সাথেই ব্যাটারদের অবিলম্বে ক্রিজে প্রস্তুত থাকতে হবে, কোনো রকম বিলম্ব করা যাবে না।
- পরীক্ষামূলকভাবে চালু থাকা লেগ-সাইড ওয়াইড (leg-side wide) নিয়মটি এখন থেকে স্থায়ীভাবে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- এমসিসি (MCC) প্রণীত অবশিষ্ট সমস্ত ক্রিকেটীয় নিয়মাবলি, যা ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে, আইসিসি বোর্ড তা অনুমোদন করেছে।
নারী ক্রিকেটের বিশাল উন্নয়ন ও নতুন টুর্নামেন্ট
নারী ক্রিকেটের প্রসারে আইসিসি বেশ কিছু বড় সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিয়েছে, যা নারী ক্রিকেটারদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে। প্রথমত, ২০২৭ সালের আইসিসি নারী চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সময়সূচিতে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। পূর্বে এই টুর্নামেন্টটি জুন এবং জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এটি ২০২৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।
দ্বিতীয়ত, ২০২৬ সালে শুরু হতে যাচ্ছে আইসিসি নারী ইমার্জিং নেশনস ট্রফি (ICC Women’s Emerging Nations Trophy 2026)। এই উদ্বোধনী টুর্নামেন্টে মোট ১০টি দল অংশ নেবে, যার মধ্যে ৫টি পূর্ণ সদস্য দেশ এবং ৫টি সহযোগী সদস্য দেশ থাকবে। এর ফলে উদীয়মান দেশগুলোর নারী ক্রিকেটাররা আন্তর্জাতিক স্তরে খেলার দারুণ সুযোগ পাবেন।
তৃতীয়ত, ২০২৮ সালের আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য ১২ দলের এই টুর্নামেন্টে ভারতের ম্যাচগুলো একটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। ১০টি দল সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করবে, আর বাকি দুটি দল গ্লোবাল কোয়ালিফায়ার টুর্নামেন্ট খেলে মূল পর্বে জায়গা করে নেবে।
সহযোগী দেশগুলোর জন্য গ্লোবাল কোয়ালিফায়ার ও নতুন সুযোগ
বিশ্ব ক্রিকেটে সহযোগী দেশগুলোর অংশগ্রহণ ও মান বাড়াতে আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য একটি নতুন গ্লোবাল কোয়ালিফায়ার (Global Qualifier) চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ক্রিকেট কর্মকর্তারা এখন এই প্রতিযোগিতার কাঠামো এবং যোগ্যতা অর্জনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে কাজ করছেন, যা আইসিসির পরবর্তী বোর্ড সভায় উপস্থাপন করা হবে। এর ফলে সহযোগী দেশগুলোর বড় আসরে অংশ নেওয়ার পথ আরও সুগম হবে।
ক্রিকেট কানাডার সদস্যপদ স্থগিত
আইসিসি তাদের কঠোর শাসনতান্ত্রিক নীতির অংশ হিসেবে ক্রিকেট কানাডার (Cricket Canada) সদস্যপদ অবিলম্বে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গুরুতর প্রশাসনিক ও পরিচালনাগত ত্রুটি এবং নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে স্থগিতাদেশ সত্ত্বেও কানাডার জাতীয় দলগুলো আইসিসি টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবে। আইসিসি একটি নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কানাডার জাতীয় দলের অনুমোদিত প্রোগ্রামগুলোর জন্য অর্থায়ন অব্যাহত রাখবে, যতক্ষণ না ক্রিকেট কানাডা তাদের সদস্যপদ ফিরে পাওয়ার নির্দিষ্ট শর্তগুলো পূরণ করতে পারছে।
বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ
বাংলাদেশ ক্রিকেটের বর্তমান পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের জন্য আইসিসির দুই প্রতিনিধি—ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকার ড. মোহাম্মদ মুসাজি এবং জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের তাভেঙ্গওয়া মুকুলানি বাংলাদেশ সফর করবেন। তারা সেখানে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সাথে বৈঠক করবেন এবং পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবেন।
অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট প্রশাসনের চলমান পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য আইসিসির ডেপুটি চেয়ার ইমরান খাজা এবং বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া ইতিমধ্যে দেশটির মূল স্টেকহোল্ডারদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করছেন।
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ ও জয় শাহের বক্তব্য
বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগের অতিমাত্রায় বিস্তার নিয়ে আইসিসি বোর্ড উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যালেন্ডারের সাথে এই লিগগুলোর সামঞ্জস্য বজায় রাখতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি নির্ধারণ করবে কীভাবে ঘরোয়া লিগ এবং আন্তর্জাতিক সূচির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা যায়।
আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ এই সভা নিয়ে বলেন যে, এই সমস্ত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত ক্রিকেটের শাসন কাঠামো জোরদার করতে, নারী ক্রিকেটের বিকাশ ঘটাতে, উদীয়মান দেশগুলোকে সহযোগিতা করতে এবং বিশ্বজুড়ে ভক্তদের কাছে ক্রিকেটকে আকর্ষণীয় রাখতে আইসিসির দৃঢ় প্রতিশ্রুতিরই বহিঃপ্রকাশ।
