Shreevats Goswami to Vaibhav Sooryavanshi: List of IPL Emerging Player Award Winners
আইপিএলের উদীয়মান তারকাদের যাত্রা
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (IPL) মানেই নতুন নতুন প্রতিভার উন্মেষ। প্রতিটি আসরেই এমন কোনো তরুণ খেলোয়াড় উঠে আসেন, যারা তাদের পারফরম্যান্স দিয়ে ক্রিকেট বিশ্বের নজর কেড়ে নেন। কেউ কেউ কেবল অল্প সময়ের জন্য আলো ছড়ান, আবার অনেকে এই টুর্নামেন্টকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করে বিশ্ব ক্রিকেটের বড় মঞ্চে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেন। ‘এমার্জিং প্লেয়ার অফ দ্য সিজন’ পুরস্কারটি মূলত সেই প্রতিভাবানদেরই চিহ্নিত করার একটি মাধ্যম।
বৈভবের অনন্য কীর্তি
চলতি মৌসুমে এই বিশেষ পুরস্কারটি পেয়েছেন বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ১৫ বছর বয়সে রাজস্থান রয়্যালসের এই ওপেনার যা করে দেখিয়েছেন, তা অনেকের কাছেই ছিল অবিশ্বাস্য। অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক বোলার এবং আইপিএলের পোড় খাওয়া তারকাদের বিপক্ষে তিনি যে সাহসিকতা ও আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছেন, তা সত্যিই বিরল। তিনি এই মৌসুমে মোট ৭৭৬ রান সংগ্রহ করেছেন এবং ৭২টি ছক্কা হাঁকিয়ে এক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি ছক্কা মারার নতুন রেকর্ড গড়েছেন।
পরিসংখ্যানের বাইরেও বৈভবের সবচেয়ে বড় গুণ ছিল তার নির্ভীক মনোভাব। অনেক তরুণ ক্রিকেটার আইপিএলে পা রেখে ভুল করার ভয়ে গুটিয়ে থাকেন, কিন্তু সূর্যবংশী শুরু থেকেই প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চেয়েছেন। তা লক্ষ্য তাড়া করা হোক কিংবা আগে ব্যাট করা—তার খেলার ধরন ছিল সবসময়ই আক্রমণাত্মক।
ইতিহাসের পাতায় পুরস্কার বিজয়ীগণ
বৈভবের এই অর্জন আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে যখন আমরা বিগত বছরগুলোর বিজয়ীদের তালিকার দিকে তাকাই। এই তালিকায় এমন সব ক্রিকেটার রয়েছেন, যারা পরবর্তীতে ভারতীয় ক্রিকেটের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছেন। ২০০৯ সালে রোহিত শর্মা এই পুরস্কার জেতার পর ভারতীয় দলের অন্যতম সফল অধিনায়ক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। এছাড়া শ্রেয়াস আয়ার, ঋষভ পন্ত, শুভমান গিল এবং যশস্বী জয়সওয়ালও এই তালিকায় নাম লিখিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছেন।
রাজস্থান রয়্যালসের বিশেষ সংযোগ
এই তালিকার সাথে রাজস্থান রয়্যালসের এক অদ্ভুত মিল রয়েছে। বৈভবের আগে সঞ্জু স্যামসন সবচেয়ে কম বয়সী এমার্জিং প্লেয়ার হওয়ার রেকর্ডটি ধরে রেখেছিলেন। ২০১৩ সালে স্যামসনের পারফরম্যান্স তাকে ভারতীয় ক্রিকেটের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ হিসেবে পরিচিত করে তুলেছিল। এক দশকেরও বেশি সময় পর, রাজস্থান রয়্যালসেরই অন্য এক তরুণ সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস তৈরি করলেন। অন্যদিকে, রুতুরাজ গায়কওয়াদ ২০২১ সালে এই পুরস্কার জেতার মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে বয়স কেবল একটি সংখ্যা মাত্র; সঠিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে যেকোনো বয়সেই এই স্বীকৃতি অর্জন করা সম্ভব।
আইপিএল এমার্জিং প্লেয়ার পুরস্কার বিজয়ীদের তালিকা (২০০৮-২০২৬)
| মৌসুম | খেলোয়াড় | দল | বয়স (প্রায়) |
|---|---|---|---|
| ২০০৮ | শ্রীভৎস গোস্বামী | রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর | ১৯ বছর |
| ২০০৯ | রোহিত শর্মা | ডেকান চার্জার্স | ২২ বছর |
| ২০১০ | সৌরভ তিওয়ারি | মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স | ২০ বছর |
| ২০১১ | ইকবাল আব্দুল্লাহ | কলকাতা নাইট রাইডার্স | ২১ বছর |
| ২০১২ | মানদীপ সিং | কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব | ২০ বছর |
| ২০১৩ | সঞ্জু স্যামসন | রাজস্থান রয়্যালস | ১৮ বছর |
| ২০১৪ | অক্ষর প্যাটেল | কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব | ২০ বছর |
| ২০১৫ | শ্রেয়াস আয়ার | দিল্লি ডেয়ারডেভিলস | ২০ বছর |
| ২০১৬ | মুস্তাফিজুর রহমান | সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ | ২০ বছর |
| ২০১৭ | বাসিল থাম্পি | গুজরাট লায়ন্স | ২২ বছর |
| ২০১৮ | ঋষভ পন্ত | দিল্লি ডেয়ারডেভিলস | ২০ বছর |
| ২০১৯ | শুভমান গিল | কলকাতা নাইট রাইডার্স | ১৯ বছর |
| ২০২০ | দেবদূত পাডিক্কাল | রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর | ২০ বছর |
| ২০২১ | রুতুরাজ গায়কওয়াদ | চেন্নাই সুপার কিংস | ২৪ বছর |
| ২০২২ | উমরান মালিক | সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ | ২২ বছর |
| ২০২৩ | যশস্বী জয়সওয়াল | রাজস্থান রয়্যালস | ২১ বছর |
| ২০২৪ | নীতিশ কুমার রেড্ডি | সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ | ২০ বছর |
| ২০২৫ | সাই সুদর্শন | গুজরাট টাইটানস | ২৩ বছর |
| ২০২৬ | বৈভব সূর্যবংশী | রাজস্থান রয়্যালস | ১৫ বছর |
বর্তমানে বৈভব সূর্যবংশী তার এই স্মরণীয় মৌসুমটি উপভোগ করছেন। এই কিশোর ইতিমধ্যেই আইপিএলের ইতিহাসে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করেছেন। তবে তার জন্য পরবর্তী চ্যালেঞ্জটি আরও বড়—এই স্বপ্নের শুরুর বছরটিকে একটি দীর্ঘ ও সফল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারে রূপান্তরিত করা। ক্রিকেট ভক্তরা এখন তাকিয়ে থাকবে দেখার জন্য যে, এই তরুণ প্রতিভা আগামী দিনে ভারতীয় ক্রিকেটকে কোন উচ্চতায় নিয়ে যান।
