‘Exceptional’ Rasikh and ‘unbelievable package’ Krunal – RCB’s champion support হিরো
চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নেপথ্যের কারিগর
আইপিএল ২০২৬-এর আসরে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু (আরসিবি) যখন শিরোপা জিতল, তখন আলোচনার কেন্দ্রে ছিল দলের বোলিং আক্রমণের দুই বড় নাম ভুবনেশ্বর কুমার এবং জশ হ্যাজলউড। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ের গভীরে তাকালে বোঝা যায়, আসল পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন দুজন অলরাউন্ডার ও বোলার—রাসিখ সালাম এবং ক্রুনাল পান্ডিয়া। এই দুই ক্রিকেটারকে বলা হচ্ছে ‘Exceptional’ Rasikh and ‘unbelievable package’ Krunal – RCB’s champion support, যারা দলের সাফল্যে নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছেন।
রাসিখ সালাম: বোলিং আক্রমণের আস্থার প্রতীক
রাসিখ সালাম এই মৌসুমে মোট ১৯টি উইকেট শিকার করেছেন, যা জশ হ্যাজলউডের চেয়েও চারটি বেশি। ৯.৪৫ ইকোনমি রেটে বোলিং করলেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উইকেট নেওয়া ছিল তার বিশেষত্ব। গুজরাট টাইটানসের বিপক্ষে ফাইনালে তার বোলিং ছিল দেখার মতো। দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে নিশান্ত সিন্ধুকে আউট করে তিনি গুজরাটের ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন চুরমার করে দেন। পুরো ম্যাচে ৩ উইকেট শিকার করা রাসিখ হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগিয়েছিলেন।
ক্রিকেট বিশ্লেষক বরুণ অ্যারন ইএসপিএনক্রিকইনফোর ‘টাইমআউট’ শো-তে বলেন, রাসিখ পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে অত্যন্ত শান্তভাবে তার কাজ করে গেছেন। তিনি দলের বোলিং আক্রমণে তৃতীয় পেসারের ভারসাম্য এনে দিয়েছেন। বর্তমান ক্রিকেটে ডিফেন্সিভ বোলিংও যে আক্রমণাত্মক হতে পারে, তা রাসিখ তার বৈচিত্র্যময় বোলিংয়ের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন। তার ইয়র্কার, স্লোয়ার এবং নাকল বল ব্যাটারদের নাজেহাল করে ছেড়েছে। টম মুডির মতে, রাসিখ একজন পারফেক্ট ফয়েল হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, কারণ তিনি দলের প্রধান বোলারদের তৈরি করা চাপের সুযোগ নিতে দারুণ দক্ষ।
ক্রুনাল পান্ডিয়া: এক অবিশ্বাস্য প্যাকেজ
অন্যদিকে, ক্রুনাল পান্ডিয়া আরসিবির জন্য হয়ে উঠেছিলেন এক ‘আনবিলিভেবল প্যাকেজ’। টুর্নামেন্টে ১৪টি উইকেটের পাশাপাশি ২২৬ রান করেছেন ৩৭.৬৬ গড়ে এবং ১৪৫.৮০ স্ট্রাইক রেটে। এটি ছিল ক্রুনালের পঞ্চম আইপিএল ট্রফি। তার অভিজ্ঞতা এবং চাপের মুখে পারফর্ম করার ক্ষমতা আরসিবিকে বারবার ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছে।
টম মুডি ক্রুনাল সম্পর্কে বলেন, তিনি শুধুমাত্র একজন বোলার নন, বরং টপ-সিক্সে ব্যাট করতে সক্ষম একজন দক্ষ ব্যাটার। তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা দলের জন্য অমূল্য সম্পদ। বরুণ অ্যারন যোগ করেন, ক্রুনাল মানসিকভাবে অত্যন্ত চতুর। তিনি জানেন কখন কোন ব্যাটারকে কোন বল করতে হবে। বিশেষ করে স্পিনারদের ওপর যখন ব্যাটাররা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন, তখন ক্রুনাল তার ব্যাটিং এবং বোলিং পরিকল্পনার মাধ্যমে বিপক্ষ দলকে ধন্ধে ফেলে দেন। তার অফ-স্টাম্পে সরে গিয়ে শট খেলা বা বোলারদের পরিকল্পনা অনুযায়ী নিজেকে বদলে নেওয়ার দক্ষতা তাকে আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডারে পরিণত করেছে।
কেন এই দুই খেলোয়াড় অনন্য?
- চাপ সামলানোর ক্ষমতা: রাসিখ এবং ক্রুনাল দুজনেই চাপের মুখে শান্ত থেকে দলকে এগিয়ে নিয়েছেন।
- কৌশলগত বৈচিত্র্য: রাসিখের বোলিং ভ্যারিয়েশন এবং ক্রুনালের বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ব্যাটিং আরসিবিকে কৌশলগতভাবে এগিয়ে রেখেছে।
- দলের ভারসাম্য: তারা দুজনেই লোয়ার-মিডল অর্ডার এবং বোলিং অ্যাটাককে প্রয়োজনীয় গভীরতা প্রদান করেছেন।
পরিশেষে বলা যায়, আরসিবির ২০২৬ আইপিএল জয়ের গল্পে ভুবনেশ্বর বা হ্যাজলউড হয়তো শিরোনাম হয়েছেন, কিন্তু রাসিখ সালাম এবং ক্রুনাল পান্ডিয়া যেভাবে পর্দার আড়াল থেকে পারফর্ম করেছেন, তা নিশ্চিতভাবেই তাদের এই শিরোপা জয়ের প্রকৃত নায়ক করে তুলেছে। তাদের ধারাবাহিকতা এবং লড়াই করার মানসিকতাই আরসিবিকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
