Scrivens and Macleod keep Essex rolling: ভাইটালটি ব্লাস্টে দুর্দান্ত জয়
ভাইটালটি ব্লাস্টে এসেক্সের জয়যাত্রা
নারী ক্রিকেটের ভাইটালটি ব্লাস্ট প্রতিযোগিতায় এসেক্সের জয়যাত্রা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক ম্যাচে ল্যাঙ্কাশায়ার থান্ডারের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে ছয় উইকেটের ব্যবধান জয় তুলে নিয়েছে দলটি। এই জয়ের মূল কারিগর ছিলেন গ্রেস স্ক্রিভেনস এবং লিসি ম্যাকলিওড, যাদের অসামান্য প্রচেষ্টায় পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানের লড়াইয়ে এসেক্স নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করল।
গ্রেস স্ক্রিভেনসের বোলিং জাদু
ম্যাচের শুরুতে এসেক্সের অধিনায়ক গ্রেস স্ক্রিভেনস বল হাতে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে ফেলেন। ল্যাঙ্কাশায়ার থান্ডার নির্ধারিত ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১২৮ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। স্ক্রিভেনস তার চার ওভারের স্পেলে মাত্র ২৩ রান খরচ করে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। তার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্যাটাররা বড় কোনো জুটি গড়ে তুলতে ব্যর্থ হন। বিশেষ করে ১৪তম ওভারে তিনি পরপর দুই বলে এলি থ্রেলকেল্ড এবং ফি মরিসকে আউট করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি এসেক্সের হাতে নিয়ে আসেন।
মেগ ল্যানিংয়ের ব্যর্থতা ও ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্যাটিং বিপর্যয়
ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্যাটিং লাইনআপের বড় ভরসা ছিলেন মেগ ল্যানিং। তবে এদিন তিনি মাত্র তিন বল খেলে কোনো রান না করেই সাজঘরে ফিরে যান। সোফি মুনরোর বলে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়ে তার বিদায় ল্যাঙ্কাশায়ারকে বড় ধাক্কা দেয়। পাওয়ার প্লের মধ্যেই ইভ জোনস এবং ড্যানিয়েল কলিন্স প্যাভিলিয়নে ফিরে গেলে ল্যাঙ্কাশায়ারের ইনিংস আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ষষ্ঠ ওভারের পর এসেক্সের ফিল্ডারদের আঁটসাঁট ফিল্ডিং এবং সুশৃঙ্খল বোলিংয়ের কারণে ল্যাঙ্কাশায়ার মাত্র তিনটি বাউন্ডারি মারতে সক্ষম হয়েছিল।
ম্যাকলিওডের ব্যাটে জয়ের বন্দরে এসেক্স
১২৯ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে শুরুতেই কিছুটা ধাক্কা খায় এসেক্স। ফিল্ডিংয়ের সময় কর্ডেলিয়া গ্রিফিথ চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ায় দল কিছুটা চাপে পড়েছিল। কিন্তু সেই চাপ বুঝতে দেননি লিসি ম্যাকলিওড। তিনি ৩৮ বলে অপরাজিত ৫৪ রানের একটি চমৎকার ইনিংস খেলেন, যা তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের দশম অর্ধশতক।
- জুটিবদ্ধ প্রয়াস: গ্রেস স্ক্রিভেনসের সাথে ৪০ রানের এবং জোডি গ্রিউককের সাথে ৬৬ রানের জুটি এসেক্সের জয়ের ভিত গড়ে দেয়।
- নির্ভরযোগ্য ব্যাটিং: ম্যাকলিওডের পাশাপাশি জোডি গ্রিউকক ৩৯ রানের একটি কার্যকর ইনিংস উপহার দেন।
যদিও ইনিংসের শেষ দিকে জো গার্ডনার এবং ফ্লো মিলার দ্রুত আউট হওয়ায় বোনাস পয়েন্টের সুযোগ হাতছাড়া হয়, তবুও ১৩ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় এসেক্স। ম্যাকলিওড মিড-অনের ওপর দিয়ে শট খেলে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
পয়েন্ট টেবিলে এসেক্সের অবস্থান
এই জয়ের ফলে এসেক্স এখন পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে। প্রতিযোগিতায় এখন পর্যন্ত মাত্র একটি ম্যাচে পরাজয়ের স্বাদ পাওয়া দলটি তাদের জয়ের ধারা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। অন্যদিকে, ল্যাঙ্কাশায়ার থান্ডার সাত নম্বরে থেকে টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াইয়ে বেশ পিছিয়ে পড়েছে। সামগ্রিকভাবে, স্ক্রিভেনস এবং ম্যাকলিওডের ছন্দময় পারফরম্যান্স এসেক্সকে শিরোপার দৌড়ে অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাদের এই ধারাবাহিকতা পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদী সমর্থকরা।
