Andersson hits fifty, takes six wickets as Derbyshire romp home – ভাইটালিটি ব্লাস্ট: মার্টিন অ্যান্ডারসনের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে ডার্বিশায়ারের প্রথম জয়
মার্টিন অ্যান্ডারসনের মহাকাব্যিক পারফরম্যান্স
ভাইটালিটি ব্লাস্টের চলতি মৌসুমে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিতে ডার্বিশায়ার ফ্যালকনসের প্রয়োজন ছিল এক জাদুকরী পারফরম্যান্সের। সেই কাজটিই করে দেখালেন মার্টিন অ্যান্ডারসন। ব্যাটে-বলে লেস্টারশায়ার ফক্সের বিপক্ষে এককভাবে আধিপত্য বিস্তার করে দলকে ৮৫ রানের বিশাল জয় এনে দিলেন এই অলরাউন্ডার। তার ক্যারিয়ার সেরা ৬ উইকেট শিকারের রেকর্ডটি ডার্বিশায়ারের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করেছে।
ব্যাটিং তাণ্ডবে ডার্বিশায়ারের পাহাড়সম সংগ্রহ
টস জিতে লেস্টারশায়ার বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিলেও, ডার্বিশায়ারের ব্যাটাররা তাদের সেই সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করে ছাড়েন। পাওয়ারপ্লেতেই দুর্দান্ত গতিতে রান তোলা শুরু করে ফ্যালকনসরা। মাত্র ৬ ওভারের মধ্যেই স্কোরবোর্ডে জমা হয় ৭৮ রান। ডার্বিশায়ারের ইনিংসের মূল কারিগর ছিলেন ক্যলেব জুয়েল, মার্টিন অ্যান্ডারসন এবং অ্যানিউরিন ডোনাল্ড। ডোনাল্ড ২৪ বলে ৪৯ রান করে দলীয় রানের ভিত গড়ে দেন। অপরপ্রান্তে অ্যান্ডারসন ২৯ বলে ৫৭ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দলের সংগ্রহকে দুইশ রানের গণ্ডি পার করতে সাহায্য করেন। শেষ দিকে জুয়েলের অপরাজিত ৫৮ রানের কল্যাণে ডার্বিশায়ার নির্ধারিত ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৩০ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়, যা তাদের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর।
লেস্টারশায়ারের ব্যাটিং বিপর্যয় ও অ্যান্ডারসনের ঘূর্ণি
জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে লেস্টারশায়ার ফক্স। প্রথম ১১ বলের মধ্যেই মাত্র ৬ রান তুলতে গিয়ে হারায় ৩টি উইকেট। বেন অ্যাচিসন এবং জ্যাক মরলির বোলিং তোপে টপ অর্ডার ধসে পড়লে লড়াইয়ে ফেরার পথ কঠিন হয়ে পড়ে। যদিও অ্যাশটন টার্নার এবং বেন কক্স কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। টার্নার ২২ বলে ৫৩ রানের একটি মারকাটারি ইনিংস উপহার দেন। তবে অ্যান্ডারসনের সামনে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেননি কেউই। একই ওভারে টার্নার এবং কক্সকে সাজঘরে ফিরিয়ে ম্যাচ থেকে লেস্টারশায়ারের আশা প্রায় শেষ করে দেন অ্যান্ডারসন।
ঐতিহাসিক স্পেল
ম্যাচের আসল মোড় ঘুরে যায় যখন অ্যান্ডারসন বল হাতে জ্বলে ওঠেন। তিনি মাত্র ২৩ রান খরচ করে ৬টি উইকেট শিকার করেন, যা ডার্বিশায়ারের কোনো বোলারের জন্য টি-টোয়েন্টিতে সেরা পরিসংখ্যান। বিশেষ করে লেস্টারশায়ারের লোয়ার অর্ডারের বিরুদ্ধে তার বোলিং ছিল নিখুঁত। ইয়ান হল্যান্ড এবং জশ হালকে একই ওভারে আউট করে তিনি নিজের স্পেল শেষ করেন। শেষ পর্যন্ত লেস্টারশায়ার ১৫.২ ওভারে ১৪৫ রানে গুটিয়ে যায়।
ম্যাচের সারসংক্ষেপ
- ফলাফল: ডার্বিশায়ার ফ্যালকনস ৮৫ রানে জয়ী।
- ডার্বিশায়ার: ২৩০/৫ (জুয়েল ৫৮*, অ্যান্ডারসন ৫৭, ডোনাল্ড ৪৯)।
- লেস্টারশায়ার: ১৪৫ অল আউট (টার্নার ৫৩, অ্যান্ডারসন ৬/২৩)।
এই জয়টি ডার্বিশায়ার ফ্যালকনসের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। মার্টিন অ্যান্ডারসন, যিনি আগের দুই ম্যাচে বোলিং করার সুযোগ পাননি, তিনিই এই ম্যাচে জয়ের নায়ক বনে গেলেন। এখন দেখার বিষয়, সামনের ম্যাচগুলোতে ডার্বিশায়ার তাদের এই ছন্দ ধরে রাখতে পারে কি না। ক্রিকেট প্রেমীদের জন্য এটি নিশ্চিতভাবেই ভাইটালিটি ব্লাস্টের অন্যতম স্মরণীয় ম্যাচ হয়ে থাকবে।
