ভাইটালিটি ব্লাস্ট: ডারহামের শ্বাসরুদ্ধকর জয়, ব্যর্থ মন্টগোমারির লড়াই
ভাইটালিটি ব্লাস্টের উত্তেজনায় ডারহামের জয়
ডার্বির কো-অপ কাউন্টি গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ভাইটালিটি ব্লাস্ট নর্থ গ্রুপের ম্যাচে ডার্বিশায়ার ফ্যালকনসের বিরুদ্ধে শ্বাসরুদ্ধকর জয় পেয়েছে ডারহাম। ২০৪ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ডার্বিশায়ার শেষ পর্যন্ত লড়াই করলেও মাত্র ৬ রানের ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়ে। এই জয়ে ডারহামের বোলিং আক্রমণ, বিশেষ করে শেষ ওভারে ম্যাথু পটসের অসাধারণ ধৈর্য ও দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
ডারহামের দুর্দান্ত শুরু ও লক্ষ্য নির্ধারণ
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ডারহাম শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল। অ্যালেক্স লিসের ঝড়ো ৫৪ রান এবং ওলি রবিনসনের ৪৮ রানের সুবাদে ডারহাম ২০ ওভারে ২০৩ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করায়। পাওয়ারপ্লেতে ডারহামের ব্যাটাররা রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়ে ৬৭ রান তুলে নেন। লিস মাত্র ২৬ বলে ৫০ রান পূর্ণ করে দলকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে দেন। ডার্বিশায়ারের স্পিনার জ্যাক মরলি ৩টি উইকেট তুলে নিয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও ডারহামের ব্যাটারদের আগ্রাসন পুরোপুরি থামানো সম্ভব হয়নি। পনেরোতম ওভারে রবিনসন অনায়াসে তিনটি ছক্কা হাঁকিয়ে ডারহামকে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যান। তবে শেষ পাঁচ ওভারে ডার্বিশায়ারের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের কারণে ডারহাম স্কোরবোর্ডে মাত্র ৩৯ রান যোগ করতে সক্ষম হয়।
ডার্বিশায়ারের লড়াই ও মন্টগোমারির বীরত্ব
২০৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি ডার্বিশায়ারের। অধিনায়ক অ্যানেউরিন ডোনাল্ড দুটি ছক্কা মেরে ইতিবাচক শুরুর ইঙ্গিত দিলেও ক্যালুম পার্কিনসনের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে মাঠ ছাড়েন। এরপর মার্টিন অ্যান্ডারসন ও ওয়েইন ম্যাডসেন দ্রুত ফিরে গেলে দল চাপে পড়ে। তবে মন্টগোমারি ও রস হোয়াইটলি দলের হাল ধরেন। হোয়াইটলি যখন মারকুটে ভঙ্গিতে খেলছিলেন, তখন ডারহামের জন্য বিপদ সংকেত তৈরি হয়। হোয়াইটলি ও মন্টগোমারি ৪৪ বলে ৭০ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের স্বপ্ন দেখান। হোয়াইটলি তিনটি ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু পার্কিনসনের স্পিন জাদুতে তিনি ও অমৃত বাসরা দ্রুত আউট হলে ডার্বিশায়ার আবারও ব্যাকফুটে চলে যায়।
শেষ ওভারের নাটকীয়তা
ম্যাচের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার জন্য শেষ ওভারে ডার্বিশায়ারের প্রয়োজন ছিল ১৮ রান। উইকেটে ছিলেন সেট ব্যাটার ম্যাট মন্টগোমারি। প্রথম দুই বলে ১০ রান নিয়ে তিনি ডার্বিশায়ারকে জয়ের খুব কাছে নিয়ে আসেন। কিন্তু এরপরই দেখা দেয় নাটকীয়তা। ম্যাথু পটস তার দক্ষতার পরিচয় দেন। নো বলের পর চাপ সামলে তিনি দুর্দান্তভাবে ফিরে আসেন। শেষ কয়েকটি বলে ডট বল দিয়ে ডার্বিশায়ারের ব্যাটারদের হাত থেকে ম্যাচ বের করে আনেন পটস। মন্টগোমারি ৪৫ বলে অপরাজিত ৭৪ রান করেও দলকে জয় এনে দিতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ডার্বিশায়ার ৮ উইকেট হারিয়ে ১৯৭ রানে থামলে ৬ রানের জয় নিশ্চিত হয় ডারহামের।
ম্যাচের সারসংক্ষেপ
- ডারহাম: ২০৩/৮ (লিস ৫৪, রবিনসন ৪৮; মরলি ৩-৩৫)
- ডার্বিশায়ার: ১৯৭/৮ (মন্টগোমারি ৭৪*, হোয়াইটলি ৪৫; পার্কিনসন ৩-৩৮)
- ফলাফল: ডারহাম ৬ রানে জয়ী।
এই ম্যাচটি আবারও প্রমাণ করল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে শেষ ওভার পর্যন্ত স্নায়ুর চাপ ধরে রাখা কতটা জরুরি। ডার্বিশায়ার ফ্যালকনস তাদের ব্যাটিং গভীরতা দেখানোর পরেও ডারহামের বোলারদের পরিকল্পিত বোলিংয়ের সামনে হার মানতে বাধ্য হয়। বিশেষ করে ডেথ ওভারে ম্যাথু পটসের নিখুঁত ইয়র্কার এবং ডট বল আদায় করে নেওয়ার ক্ষমতা ছিল ডারহামের জয়ের মূল চাবিকাঠি।
