কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে সারের বিপক্ষে ইয়র্কশায়ারের দুর্দান্ত জয়
রথেসে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে ইয়র্কশায়ারের দাপুটে জয়
কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের চলতি মৌসুমে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে সারের বিপক্ষে ইনিংস এবং ১২৭ রানের বিশাল জয় তুলে নিয়েছে ইয়র্কশায়ার। চতুর্থ দিনের মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগেই সারের শেষ পাঁচটি উইকেট তুলে নিয়ে ইয়র্কশায়ার তাদের দ্বিতীয় জয় নিশ্চিত করে। এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলে ইয়র্কশায়ার ২৩ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে, যেখানে সারে পেয়েছে মাত্র ২ পয়েন্ট।
ম্যাচের নাটকীয় মোড়
চতুর্থ দিনের সকালে সারে তাদের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছিল ৮৩ রানে ৫ উইকেট নিয়ে, তখনও তারা ইয়র্কশায়ারের চেয়ে ১৯৯ রানে পিছিয়ে ছিল। দিনের শুরুতেই ডম সিবলি এবং জশ ব্লেকের বিদায়ে সারের পরাজয় অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায়। সিবলি ৩৪ রানে আউট হওয়ার পর জশ ব্লেক ১৯ রানে বিদায় নেন। জ্যাক হোয়াইট এবং হ্যারি ব্রুকের বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ের সামনে সারে তাদের প্রথম ছয় ম্যাচে প্রথমবারের মতো হারের স্বাদ পায়। গত মে মাসের পর সারের জন্য এটিই প্রথম ইনিংস পরাজয়।
জ্যাক হোয়াইট ও হ্যারি ব্রুকের আধিপত্য
ইয়র্কশায়ারের জয়ের নায়ক ছিলেন জ্যাক হোয়াইট। তিনি মাত্র ২৭ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট তুলে নেন। দিনের শুরুতে সিবলিকে স্লিপে জীবন পেলেও শেষ পর্যন্ত তাকে জেই রিচার্ডসনের ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফেরান হ্যারি ব্রুক। এরপর হোয়াইট এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন ব্লেককে। হোয়াইটের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে জর্ডান ক্লার্ক বোল্ড হলে সারের আশা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়। ক্লার্কের জন্য সেই বলটি খেলার খুব একটা সুযোগ ছিল না। হোয়াইট ১১ ওভার বোলিং করে ৩টি উইকেট শিকার করেন, যা ইয়র্কশায়ারের জয়ের পথ প্রশস্ত করে দেয়।
ব্যাটিং ব্যর্থতায় সারে
পুরো ম্যাচে সারের ব্যাটসম্যানরা ইয়র্কশায়ারের বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি। প্রথম ইনিংসে ২০৪ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৫৫ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা। দুই ইনিংসেই সারের সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলেন শন অ্যাবট, যিনি ৯ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে ৫৬ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ৩৩ রান করেন। এটি প্রমাণ করে যে দলের মূল টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা কতটা ব্যর্থ ছিলেন। অন্যদিকে, ইয়র্কশায়ারের বিশাল সংগ্রহ ৪৭৬ রানের পেছনে ছিল অ্যাডাম লিথ (১৪১) এবং জনি বেয়ারস্টোর (১২০) অসাধারণ দুটি সেঞ্চুরি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
এই জয়ের ফলে ইয়র্কশায়ার তাদের গত সপ্তাহের পরাজয় থেকে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হলো। এখন পর্যন্ত ছয় ম্যাচে ইয়র্কশায়ারের জয় দুটি, পরাজয় দুটি এবং ড্র দুটি। বিপরীতে সারের পরিসংখ্যান কিছুটা ভিন্ন; তারা জিতেছে একটি, হেরেছে একটি এবং ড্র করেছে চারটি ম্যাচ। জেই রিচার্ডসন তার ওভারসিজ স্পেল শেষ করে এখন দলের সঙ্গে নেই, তবে তার ছোট কিন্তু কার্যকর অবদান ইয়র্কশায়ারের এই জয়কে সহজতর করেছে। এখন উভয় দলই তাদের মনোযোগ সরিয়ে নিচ্ছে ভাইটালিটি ব্লাস্টের দিকে, যা আগামী শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। ইয়র্কশায়ার এই আত্মবিশ্বাস নিয়ে টুর্নামেন্টে ভালো কিছু করার প্রত্যাশা করছে।
ম্যাচ পরিসংখ্যান
- ফলাফল: ইয়র্কশায়ার ইনিংস এবং ১২৭ রানে জয়ী।
- ইয়র্কশায়ার: ৪৮৬ অলআউট (লিথ ১৪১, বেয়ারস্টো ১২০)।
- সারে প্রথম ইনিংস: ২০৪ অলআউট (অ্যাবট ৫৬, হিল ৪-৩৪)।
- সারে দ্বিতীয় ইনিংস: ১৫৫ অলআউট (সিবলি ৩৪, ব্রুক ৩-১১, হোয়াইট ৩-২৭)।
ইয়র্কশায়ারের এই জয় ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটের চলতি মৌসুমে তাদের লড়াইয়ের মানসিকতা আরও একবার সামনে নিয়ে এল। বিশেষ করে বল হাতে দলগত প্রচেষ্টা তাদের জন্য এই বিশাল জয় সম্ভব করেছে। এখন দেখার বিষয়, ভাইটালিটি ব্লাস্টের টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও তারা এই ফর্ম ধরে রাখতে পারে কি না।
