যুবেন্দ্র চাহালের আত্মহত্যার প্রবণতা নিয়ে মুখ খুললেন আরজে মাহভাশ: সম্পর্কের জল্পনার অবসান
যুবেন্দ্র চাহালের জীবনের সেই অন্ধকার অধ্যায়
ভারতীয় ক্রিকেট দলের তারকা লেগ স্পিনার যুবেন্দ্র চাহাল বরাবরই মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন। তবে গত কয়েক বছরে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা জল্পনা-কল্পনা দানা বেঁধেছে। বিশেষ করে নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী ধনশ্রী বর্মার সাথে তার বিবাহবিচ্ছেদের সময় আরজে মাহভাশের সাথে তার নাম জড়িয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল। অবশেষে এই বিষয়ে নীরবতা ভেঙেছেন আরজে মাহভাশ।
বন্ধুত্ব নাকি প্রেম?
দীর্ঘদিন ধরে ভক্তদের মনে প্রশ্ন ছিল, মাহভাশ এবং চাহালের মধ্যে আসলে সম্পর্কটা কী? গত বছর দুবাইয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল চলাকালীন তাদের প্রথমবার জনসমক্ষে দেখা যায়। এরপর থেকেই চাহালের জীবনের কঠিন সময়ে মাহভাশকে বারবার তার পাশে দেখা গিয়েছে। তবে মাহভাশ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাদের সম্পর্কের মধ্যে কোনো রোমান্টিক দিক ছিল না। তিনি বলেন, ‘মানুষ ছোট বিষয়কে বড় করে দেখতে পছন্দ করে। আমরা শুধুমাত্র বন্ধু ছিলাম এবং সেই কঠিন সময়ে বন্ধু হিসেবেই আমি তার পাশে দাঁড়িয়েছিলাম।’
আত্মহত্যার কথা ভেবেছিলেন চাহাল
সবচেয়ে মর্মান্তিক তথ্যটি উঠে এসেছে মাহভাশের সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে। তিনি জানিয়েছেন, বিবাহবিচ্ছেদের সময় চাহাল মানসিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত ছিলেন। মাহভাশের কথায়, ‘চাহাল সেই সময় আত্মহত্যার কথা চিন্তা করেছিলেন। আমরা চেয়েছিলাম সে যেন এই কঠিন সময়টা পার করে আসতে পারে। আমরা সবাই মিলে তাকে সহায়তা করেছি যাতে সে আইপিএলে ভালো খেলতে পারে।’
উল্লেখ্য যে, রাজ শামানির সাথে একটি পডকাস্টে চাহাল নিজেও স্বীকার করেছিলেন যে জীবনের সেই পর্যায়ে তিনি খুব কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছেন। তিনি সেই সময় মাহভাশকে ‘হোমব্রেকার’ বা সংসার ভাঙার জন্য দায়ী করার বিষয়টিতেও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।
কেন সোশ্যাল মিডিয়ায় আনফলো করলেন তারা?
সোশ্যাল মিডিয়ায় দুজনকে একে অপরকে আনফলো করতে দেখে অনেকে ভেবেছিলেন তাদের হয়তো ব্রেকআপ হয়েছে। কিন্তু মাহভাশ এই জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, কোনো প্রেমের সম্পর্ক শেষ হয়নি, বরং দুই বন্ধুর মধ্যে সাধারণ একটি তর্কাতর্কি থেকে এই ঘটনা ঘটে। তার মতে, ‘দুই বন্ধুর মধ্যে ঝগড়া হতেই পারে। এটা কোনো বড় বিষয় নয়। আমরা শুধুই বন্ধু ছিলাম এবং আমি সব সময় তার মঙ্গল কামনা করি।’
আইপিএলে চাহালের পারফরম্যান্স
মাহভাশের সহায়তা ও বন্ধুদের সমর্থন যে চাহালের পেশাদার জীবনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল, তা স্পষ্ট। আইপিএল ২০২৫ মৌসুমে পাঞ্জাব কিংসের হয়ে তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন। ১৪টি ম্যাচে ২৬.৮৭ গড়ে ১৬টি উইকেট শিকার করেছিলেন এই অভিজ্ঞ লেগ স্পিনার। যদিও চলতি মৌসুমে পাঞ্জাব কিংস কিছুটা ধুঁকছে, তবুও চাহাল দলের বোলিং ইউনিটে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে চলেছেন। এই বছর ১৩টি ম্যাচে তিনি ১০টি উইকেট শিকার করেছেন।
উপসংহার
একজন বন্ধুর প্রতি মাহভাশের এই অকৃত্রিম সমর্থন ক্রীড়া জগতের বাইরের এক মানবিক সম্পর্কের উদাহরণ হয়ে থাকবে। মিডিয়ার অতিরঞ্জিত প্রচারণার বিপরীতে তিনি চাহালের জীবনের সেই অন্ধকার সময়ে তার পাশে দাঁড়িয়ে যে নৈতিক সমর্থন জুগিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আপাতত চাহাল তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারে মনোনিবেশ করছেন এবং ভক্তরা আশা করছেন তিনি তার পুরনো ছন্দে পুরোপুরি ফিরে আসবেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় মাহভাশের দেওয়া এই সাক্ষাৎকারটি বিষয়টিকে স্পষ্ট করেছে যে, সব সম্পর্কই প্রেমের নয়, কিছু সম্পর্ক বিপদের সময়ে অটুট বন্ধুত্বের প্রতীক হয়েও টিকে থাকে।
