আইপিএল ইতিহাসে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ধীরগতির ইনিংসের লজ্জার রেকর্ড তিলক ভার্মার
আইপিএল ২০২৬: তিলক ভার্মার ধীরগতির ব্যাটিংয়ে অস্বস্তিতে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স
আইপিএল ২০২৬ আসরে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের দুঃসময় যেন শেষ হওয়ার নাম নেই। ইডেন গার্ডেন্সে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ম্যাচে হার্দিক পান্ডিয়ার দল যখন লড়াইয়ে ফেরার অপেক্ষায়, ঠিক তখনই তিলক ভার্মার ব্যাট থেকে এল এক ধীরগতির ইনিংস যা ফ্র্যাঞ্চাইজির ইতিহাসে নতুন এক লজ্জার রেকর্ড গড়েছে। দলের যখন বড় স্কোরের প্রয়োজন ছিল, তখন তিলকের এমন ব্যাটিং সবাইকে অবাক করেছে।
১৪ বছরের পুরনো রেকর্ড ভাঙলেন তিলক
ম্যাচটিতে কেকেআর বোলিং আক্রমণের সামনে মুম্বাইয়ের ব্যাটাররা শুরু থেকেই চাপে ছিলেন। তিলক ভার্মা যখন উইকেটে আসেন, তখন দলের স্কোর ছিল নাজুক। কিন্তু সেই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে খেলা তো দূরের কথা, তিনি উল্টো বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। শেষ পর্যন্ত ৩২ বলে মাত্র ২০ রান করে কার্তিক ত্যাগীর বলে সাজঘরে ফেরেন তিনি। তার এই ইনিংসের স্ট্রাইক রেট ছিল মাত্র ৬২.৫০। আইপিএল ইতিহাসে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে ন্যূনতম ৩০ বল খেলা কোনো ব্যাটারের এটিই সর্বনিম্ন স্ট্রাইক রেট। এই রেকর্ডের মাধ্যমে তিনি ২০১২ সালে গড়া জেমস ফ্র্যাঙ্কলিনের ১৪ বছরের পুরনো রেকর্ডটি ভেঙে দিলেন।
দলের বিপর্যয়ে তিলকের ব্যর্থতা
পিচের আচরণ খুব একটা সহজ ছিল না, একথা সত্য। কিন্তু তিলকের এই ধীরগতির ব্যাটিং মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে বড় বিপদে ফেলে দিয়েছিল। যখন তার কাছ থেকে দায়িত্বশীল ব্যাটিং প্রত্যাশা করা হচ্ছিল, তখন তিনি উল্টো চাপের মুখে নতি স্বীকার করেছেন। তিলক যখন আউট হন, তখন মুম্বাইয়ের স্কোর ছিল মাত্র ৮৪ রানে ৫ উইকেট। একজন অভিজ্ঞ ব্যাটার হিসেবে তার কাছ থেকে এমন পারফরম্যান্স দলের জন্য সত্যিই হতাশাজনক।
আইপিএল ২০২৬-এ তিলকের ফর্ম
চলতি আইপিএল মৌসুমটি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের জন্য ভুলে যাওয়ার মতো। পয়েন্ট টেবিলের নবম স্থানে থেকে তারা ইতিমধ্যেই প্লে-অফ রেস থেকে ছিটকে গেছে। তিলক ভার্মার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ১২ ইনিংসে ৩২.২৬ গড়ে ৩৫৬ রান সংগ্রহ করলেও, তার ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতার বড় অভাব দেখা গেছে। দলের অন্যতম প্রধান ব্যাটার হিসেবে তিনি প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। সূর্যকুমার যাদবের ফর্মহীনতা এবং মিডল অর্ডারে ব্যর্থতা মিলিয়ে মুম্বাইয়ের ব্যাটিং লাইনআপ পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে মুম্বাই
তিলক ভার্মার ধীরগতির ইনিংসের পরও মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স শেষ পর্যন্ত লড়াই করার মতো একটি স্কোরে পৌঁছাতে পেরেছে। করবিন বশ এবং দীপক চাহারের ৪২ রানের মূল্যবান পার্টনারশিপের কল্যাণে মুম্বাই ২০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৭ রান সংগ্রহ করে। ইনিংসের শেষ ওভারে কার্তিক ত্যাগী ১৯ রান খরচ করায় মুম্বাই কিছুটা স্বস্তি পায়। তবে কেকেআর বোলিং ছিল দুর্দান্ত। সৌরভ দুবে, ক্যামেরন গ্রিন এবং কার্তিক ত্যাগী প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। সুনীল নারিন তার ৪ ওভারে মাত্র ১৩ রান খরচ করে একটি উইকেট শিকার করেন, যা মুম্বাইয়ের ব্যাটারদের ওপর চাপ বজায় রাখতে সাহায্য করেছিল।
উপসংহার
কেকেআর-এর জন্য এই ম্যাচটি প্লে-অফের দৌড়ে টিকে থাকার লড়াই। অন্যদিকে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের জন্য এই ম্যাচটি ছিল কেবল সম্মানের লড়াই। তিলক ভার্মার মতো উদীয়মান তারকার কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল ব্যাটিং প্রত্যাশা করেছিলেন সমর্থকরা। এই মরসুম মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের জন্য এক বড় শিক্ষা হয়ে থাকবে, যেখানে অভিজ্ঞ ও তরুণ ব্যাটারদের ব্যর্থতাই তাদের আইপিএল থেকে ছিটকে দিয়েছে। আগামী মরসুমের আগে মুম্বাই ম্যানেজমেন্টকে তাদের ব্যাটিং অর্ডারের দুর্বলতাগুলো নিয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবতে হবে।
