From BCCI Ban To RCB Match-Winner In IPL 2026: Rasikh Salam’s Incredible Comeback
ক্রিকেটের মাঠে রাসিখ সালামের পুনরুত্থান
রাসিখ সালামের নাম বর্তমানে আইপিএল ২০২৬-এর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। আরসিবির জার্সিতে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ক্রিকেট ভক্তদের মুগ্ধ করেছে। কিন্তু এই সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে আছে এক দীর্ঘ ও কঠিন সংগ্রামের ইতিহাস। একসময় বিসিসিআই-এর নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে যে ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার পথে ছিল, আজ সেই রাসিখই আইপিএলের মঞ্চে ম্যাচ-উইনার।
বিসিসিআই-এর নিষেধাজ্ঞা ও ক্যারিয়ারের ধাক্কা
রাসিখ সালামের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়টি আসে ২০১৯ সালে। তরুণ এই পেসার যখন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে আইপিএলে সুযোগ পেয়েছিলেন এবং ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের উদীয়মান তারকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছিলেন, তখনই ঘটে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। বিসিসিআই তার জন্ম সনদে অসঙ্গতি খুঁজে পাওয়ায় তাকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে ইংল্যান্ড সফরের আগে অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়। মাত্র কয়েকটি ঘরোয়া ম্যাচ এবং একটি আইপিএল ম্যাচ খেলার পরই তার সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার হঠাৎ থমকে যায়।
অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফেরার লড়াই
নিষেধাজ্ঞার সেই দুই বছর রাসিখের জন্য ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি ভয় পেয়েছিলেন যে তার পেশাদার ক্রিকেট জীবন হয়তো এখানেই শেষ। তবে হাল ছাড়েননি তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রস্তুত করতে থাকেন। বিশেষ করে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স সেই সময়ে তাকে মানসিকভাবে সহায়তা করে। নিষেধাজ্ঞা শেষে তিনি ২০২১-২২ মৌসুমে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে আসেন। এরপর কলকাতা নাইট রাইডার্স এবং দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা তাকে আরও পরিপক্ক করে তোলে। ২০২৫ সালে আরসিবি তাকে ৬ কোটি রুপিতে দলে ভেড়ায় এবং ২০২৬ আইপিএলে তিনি দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে নিজের জায়গা পাকা করেন।
আইপিএল ২০২৬: রাসিখের ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট
আইপিএল ২০২৬ মৌসুমে রাসিখ সালামের উত্থান ছিল দেখার মতো। যদিও তিনি শুরুর চারটি ম্যাচে খেলার সুযোগ পাননি, তবে দলে ফেরার পর তিনি ভুবনেশ্বর কুমার এবং জশ হ্যাজলউডের সাথে মিলে এক শক্তিশালী পেস আক্রমণ গড়ে তোলেন। পুরো মৌসুমে তিনি ১৯টি উইকেট শিকার করেন, যার গড় ছিল ২১.৩১ এবং ইকোনমি রেট ৯.৪৫।
তার বোলিংয়ের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল চাপের মুখে উইকেট তুলে নেওয়ার ক্ষমতা। আহমেদাবাদে গুজরাট টাইটানসের বিপক্ষে ফাইনালে তার ৩/২৭ স্পেল ছিল তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স। বিপক্ষ দলের ব্যাটিং লাইনআপকে ধসিয়ে দিতে তিনি যে ভূমিকা রেখেছিলেন, তা আরসিবির শিরোপা জয়ের পথে ছিল মাইলফলক।
উপসংহার
রাসিখ সালামের এই ভ্রমণ প্রমাণ করে যে, প্রতিভা ও ধৈর্য থাকলে যেকোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব। বিসিসিআই-এর নিষেধাজ্ঞা থেকে আইপিএল ২০২৬-এর ম্যাচ-উইনার হয়ে ওঠার এই যাত্রা প্রতিটি উদীয়মান ক্রিকেটারের জন্য একটি বড় শিক্ষা। তিনি দেখিয়েছেন যে ব্যর্থতা মানেই শেষ নয়, বরং সঠিক মানসিকতা থাকলে সেখান থেকেও ঘুরে দাঁড়ানো যায়।
কেন রাসিখের এই গল্পটি বিশেষ?
- ধৈর্যের ফল: দুই বছরের দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে ফিরে আসা সহজ ছিল না, কিন্তু তিনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন।
- অভিযোজন ক্ষমতা: বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা তাকে একজন বুদ্ধিদীপ্ত বোলারে পরিণত করেছে।
- ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স: চাপের মুহূর্তে পারফর্ম করার দক্ষতা তাকে আরসিবির অন্যতম আস্থার প্রতীকে পরিণত করেছে।
রাসিখ সালামের এই পুনরুত্থান কেবল তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি খেলার প্রতি তার অকৃত্রিম ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ। আগামী দিনগুলোতে তার হাত ধরে আরও অনেক সাফল্য আসবে বলে আশাবাদী ক্রিকেট ভক্তরা।
