IPL 2026: বিরাট কোহলির ক্যাচ মিস ঘিরে পাঞ্জাব কিংসের দুই সতীর্থের মধ্যে উত্তপ্ত তর্ক
আইপিএল ২০২৬: মাঠেই পাঞ্জাব কিংসের দুই খেলোয়াড়ের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়
আইপিএল ২০২৬ মরশুমে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর (আরসিবি) হয়ে বিরাট কোহলি ধারাবাহিকভাবে দুর্দান্ত পারফর্ম করে চলেছেন। তবে এবারের আলোচনার বিষয়বস্তু কেবল তার ব্যাটিং নয়, বরং তার বিরুদ্ধে ফিল্ডিং করতে গিয়ে পাঞ্জাব কিংসের দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে তৈরি হওয়া বিবাদ। ১৭ মে, ২০২৬ তারিখে ধর্মশালার হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে আরসিবি এবং পাঞ্জাব কিংসের ৬১তম ম্যাচে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সাক্ষী থাকল ক্রিকেট বিশ্ব।

রজত পাতিদারের অনুপস্থিতি
ম্যাচের টস পর্বেই ক্রিকেটপ্রেমীরা কিছুটা অবাক হয়েছিলেন। নিয়মিত অধিনায়ক রজত পাতিদারের পরিবর্তে এদিন আরসিবির হয়ে টসে এসেছিলেন জিতেশ শর্মা। প্লে-অফের দৌড়ে থাকা আরসিবির জন্য পাতিদারের অনুপস্থিতি কিছুটা দুশ্চিন্তার কারণ ছিল। তবে টসের সময় জিতেশ শর্মা জানান, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই পাতিদারকে এই ম্যাচে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে এবং সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচে তিনি দলের সঙ্গে যোগ দেবেন।
বিরাট কোহলির দাপট
চলতি আইপিএল মরশুমে কোহলি তার পুরনো ছন্দ ফিরে পেয়েছেন। ১২ ম্যাচে ৫৩৪ রান সংগ্রহ করে তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন কেন তাকে আইপিএলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান বলা হয়। ১৬৫.৩২ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করে তিনি এবারের মরশুমে ইতিমধ্যে একটি সেঞ্চুরি ও চারটি অর্ধশতক হাঁকিয়েছেন। পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে এই ম্যাচেও তিনি ৩৭ বলে ৫৮ রানের একটি ঝকঝকে ইনিংস উপহার দেন, যেখানে ছিল ৪টি চার ও ৩টি ছক্কা।
কেন ক্ষুব্ধ হলেন হরপ্রীত ব্রার?
ম্যাচের ১৪তম ওভারের শেষ বলটি ছিল গেম-চেঞ্জার মুহূর্ত। হরপ্রীত ব্রারের অফ-স্টাম্পের বাইরের একটি বলে কোহলি ঠিকঠাক সংযোগ করতে পারেননি এবং বলটি বাতাসে ভাসতে ভাসতে লং-অন পজিশনের দিকে যায়। সেখানে ফিল্ডিং করছিলেন কুপার কনোলি। ক্যাচটি ধরার জন্য কনোলি চেষ্টা করলেও তার প্রচেষ্টাটি যথেষ্ট ছিল না বলে মনে করেন বোলার হরপ্রীত ব্রার। ক্যাচটি হাতছাড়া হওয়ার পর হরপ্রীতের ক্ষোভ স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং তিনি মাঠে কনোলির ওপর চিৎকার করে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এই ঘটনাটি মাঠের দর্শকদের এবং দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
প্লে-অফের লড়াইয়ে পাঞ্জাব কিংস
পাঞ্জাব কিংসের জন্য এই ম্যাচটি ছিল টিকে থাকার লড়াই। শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্বাধীন দলটি দুর্দান্ত শুরুর পর টানা পাঁচটি ম্যাচে হেরে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ থেকে চতুর্থ স্থানে নেমে এসেছিল। প্লে-অফে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করতে এই জয়টি তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মাঠের এই উত্তজনা তাদের মানসিক দৃঢ়তায় কোনো প্রভাব ফেলে কি না, তা নিয়ে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ক্রিকেট মাঠে সতীর্থদের মধ্যে এমন ছোটখাটো তর্কের ঘটনা নতুন নয়, তবে চাপের মুখে থাকা পাঞ্জাব কিংসের জন্য এই ধরনের ঘটনা তাদের টিম স্পিরিটের ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিরাট কোহলির মতো ব্যাটারকে আটকানো যে কতটা কঠিন, তা এই ম্যাচে আবারও প্রমাণিত হলো। আরসিবি বনাম পাঞ্জাব কিংসের এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত কার দিকে ঝুঁকল, তা নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে রয়েছে।
