Latest Cricket News

IPL 2026 Prize Money Revealed: What Winners, Runners-up and Every Player Earn?

Nikhil Rao · · 1 min read

আইপিএল ২০২৬: অর্থের ঝনঝনানিতে অন্য উচ্চতায় টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী এবং প্রভাবশালী টি-টোয়েন্টি লিগ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। প্রতি বছর এই লিগ কেবল রোমাঞ্চকর ক্রিকেটই উপহার দেয় না, বরং খেলোয়াড় এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিদের জন্য নিয়ে আসে বিপুল পরিমাণ অর্থ। আইপিএল ২০২৬-এর ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে, যেখানে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB) এবং গুজরাট টাইটানস (GT) শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে নামবে। এই লড়াইয়ের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এবারের বিশাল প্রাইজ মানি এবং খেলোয়াড়দের বেতন কাঠামো।

ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আর্থিক কাঠামো

বিসিসিআই আইপিএল ২০২৬ মৌসুমের জন্য প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজির অকশন পার্স বা নিলামের বাজেট নির্ধারণ করেছিল ১২৫ কোটি টাকা। তবে সামগ্রিক বেতন কাঠামো এর চেয়েও অনেক বড়। ২০২৬ সালে এসে মোট স্যালারি ক্যাপ বা বেতনের সীমা ১৫১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। টুর্নামেন্টের শীর্ষ চারটি দল মোট ৪৬.৫ কোটি টাকার প্রাইজ মানি নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেবে।

বিজয়ী ও রানার্স-আপদের জন্য কত টাকা?

৩১ মে আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচের বিজয়ী দল পাবে ২০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, রানার্স-আপ হিসেবে দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী দল পাবে ১৩ কোটি টাকা। টুর্নামেন্টের পয়েন্ট টেবিল এবং নকআউট পর্বের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে অন্যান্য দলগুলোর জন্যও আকর্ষণীয় পুরস্কার রয়েছে। যেমন:

  • তৃতীয় স্থান: রাজস্থান রয়্যালস, যারা কোয়ালিফায়ার ২-এ পরাজিত হয়েছিল, তারা পাবে ৭ কোটি টাকা।
  • চতুর্থ স্থান: এলিমিনেটরে পরাজিত হওয়া সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ পাবে ৬.৫ কোটি টাকা।

খেলোয়াড়দের প্রাপ্তি ও নিয়মাবলি

আইপিএলের নিয়ম অনুযায়ী, ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো একা সমস্ত প্রাইজ মানি পকেটে ভরতে পারে না। অর্জিত প্রাইজ মানির অন্তত ৫০ শতাংশ খেলোয়াড়দের মধ্যে বিতরণ করা বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ, প্রাইজ মানির অর্ধেক সরাসরি খেলোয়াড়দের পকেটে যায়, যা তাদের মূল চুক্তির অতিরিক্ত।

খেলোয়াড়দের চুক্তির বিষয়টি খুবই স্বচ্ছ। একজন খেলোয়াড় প্রতিটি ম্যাচ খেলুন বা পুরো সিজন বেঞ্চে বসে কাটান, তিনি তার নির্ধারিত নিলাম মূল্য বা চুক্তি অনুযায়ী পুরো অর্থ পাওয়ার অধিকার রাখেন। এর পাশাপাশি বিসিসিআই প্রবর্তিত ‘ম্যাচ ফি’ খেলোয়াড়দের আয়ের একটি বড় উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ম্যাচ ফি ও বাড়তি আয়

বিসিসিআই-এর ঘোষণা অনুযায়ী, প্লেয়িং ইলেভেনের প্রত্যেক খেলোয়াড় (ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারসহ) প্রতিটি ম্যাচের জন্য ৭.৫ লক্ষ টাকা করে পান। এর ফলে:

  • যদি কোনো খেলোয়াড় ১৪টি লিগ ম্যাচ খেলেন, তবে তিনি অতিরিক্ত ১.০৫ কোটি টাকা আয় করতে পারেন।
  • যদি তার দল ফাইনালে ওঠে এবং তিনি ১৭টি ম্যাচ খেলেন, তবে এই আয় ১.২৭ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

এই নিয়মটির ফলে, যে খেলোয়াড় মাত্র ৩০ লক্ষ টাকার বেস প্রাইসে দলভুক্ত হয়েছিলেন, তিনিও পুরো মৌসুম শেষে ১.৩৫ কোটি টাকার বেশি আয় করার সুযোগ পাচ্ছেন।

ব্যক্তিগত পুরস্কারের তালিকা

দলগত পুরস্কারের বাইরে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের জন্য রয়েছে বিশেষ সম্মাননা। এবারের মৌসুমে ব্যক্তিগত পুরস্কারের জন্য প্রায় ১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে:

  • অরেঞ্জ ক্যাপ (সর্বাধিক রান): ১০ লক্ষ টাকা
  • পার্পল ক্যাপ (সর্বাধিক উইকেট): ১০ লক্ষ টাকা
  • মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার (MVP): ১০ লক্ষ টাকা
  • ইমার্জিং প্লেয়ার অফ দ্য সিজন: ২০ লক্ষ টাকা

আইপিএল ২০২৬ কেবল মাঠের লড়াই নয়, এটি আধুনিক ক্রিকেটের অর্থনৈতিক সক্ষমতার একটি বড় নিদর্শন। খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক ও পুরস্কারের এই বিশাল অংক প্রমাণ করে যে, ক্রিকেটের বাণিজ্যিক ক্ষেত্রটি কতটা শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ হয়েছে।

Avatar photo
Nikhil Rao

Nikhil Rao analyzes fantasy cricket picks, probable XIs, captain choices, and player form ahead of major matches.