IPL 2026: প্লে-অফ কি বন্ধ দরজার আড়ালে? বিসিসিআই-এর ওপর চাপের মুখে জ্বালানি সংকট
আইপিএল ২০২৬-এর প্লে-অফ কি সংকটের মুখে?
বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রিকেট লিগ ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ২০২৬ এখন এক বিশেষ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দেশে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান মূল্যের প্রভাবে টুর্নামেন্টের প্লে-অফ পর্ব নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে। চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিটিআই) ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রকের কাছে প্রস্তাব দিয়েছে যে, প্লে-অফের ম্যাচগুলো যেন দর্শকহীন স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হয় এবং ভেন্যু সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়।
কেন এই অদ্ভুত দাবি?
মূলত জ্বালানি সাশ্রয় এবং দেশের ওপর থেকে অর্থনৈতিক চাপ কমানোর লক্ষ্যেই এই দাবি জানানো হয়েছে। সিটিআই চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েলের মতে, আইপিএলের প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি তাদের যাতায়াতের জন্য প্রচুর পরিমাণে জ্বালানি ব্যবহার করে। তাদের দাবি অনুযায়ী, একটি আইপিএল দল মৌসুম চলাকালীন প্রায় ১০টি ফ্লাইটের মাধ্যমে ৫০,০০০ থেকে ৭০,০০০ লিটার জ্বালানি খরচ করে। এছাড়া, প্রতিটি ম্যাচে প্রায় ৫০,০০০ দর্শক স্টেডিয়ামে যাতায়াত করেন, যা পরোক্ষভাবে ব্যাপক জ্বালানি ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ব্রিজেশ গোয়েল বলেন, ‘বিমান ভ্রমণ কমিয়ে, দর্শকহীন ম্যাচ আয়োজন করে এবং নির্দিষ্ট কিছু ভেন্যুতে সীমাবদ্ধ থেকে আমরা লক্ষ লক্ষ লিটার পেট্রোল ও ডিজেল বাঁচাতে পারি। এটি দেশের সামগ্রিক কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমাতেও সাহায্য করবে।’
কোভিডকালীন স্মৃতির পুনরাবৃত্তি?
সিটিআই চেয়ারম্যান তার দাবির সপক্ষে করোনা মহামারীর সময়কার উদাহরণ টেনেছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, অতীতেও বিসিসিআই জৈব-সুরক্ষা বলয়ের (Bio-secure bubble) মধ্যে দর্শকহীনভাবে ম্যাচ আয়োজন করেছে। তাই প্রয়োজন পড়লে বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে অনুরূপ পদক্ষেপ নেওয়া যেতেই পারে বলে মনে করছে এই বাণিজ্যিক সংস্থাটি।
বিসিসিআই-এর অবস্থান কী?
এতসব জল্পনা-কল্পনার মাঝে আইপিএল চেয়ারম্যান অরুণ ধুমাল স্পষ্ট করেছেন যে, এখন পর্যন্ত বিসিসিআই-এর কাছে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা আসেনি। তিনি বলেন, ‘স্বতন্ত্র সংস্থাগুলোর নিজস্ব মতামত থাকতে পারে, কিন্তু আমরা ভারত সরকারের প্রতি দায়বদ্ধ। যদি সরকার থেকে কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশ আসে, তবে আমরা অবশ্যই তা খতিয়ে দেখব এবং সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেব।’
উল্লেখ্য যে, আইপিএল ২০২৬ প্লে-অফ ২৬ মে, মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়ার কথা। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) ইতিমধ্যেই প্লে-অফে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে। এছাড়া গুজরাট টাইটানস (জিটি), সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ (এসআরএইচ), রাজস্থান রয়্যালস (আরআর) এবং চেন্নাই সুপার কিংস (সিএসকে) বাকি তিনটি স্থানের জন্য তীব্র লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সতর্কতা
বিসিসিআই কর্তৃপক্ষ বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করছে। যদিও এখন পর্যন্ত সূচিতে কোনো পরিবর্তন আনার ঘোষণা দেওয়া হয়নি, তবুও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে যেকোনো সময় নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে। ক্রীড়াপ্রেমীদের নজরে এখন ভারত সরকারের সিদ্ধান্তের দিকে।
আইপিএল ২০২৬ কি আগের মতোই জমজমাটভাবে সম্পন্ন হবে, নাকি জ্বালানি ও পরিবেশগত কারণে নতুন কোনো নিয়মের সাক্ষী হবে ক্রিকেট বিশ্ব? সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে বিসিসিআই-এর প্রতিটি পদক্ষেপই যে ক্রিকেটের মান এবং জনস্বার্থের ভারসাম্যের ওপর নির্ভর করবে, তা বলাই বাহুল্য।
- টুর্নামেন্টের প্লে-অফ শুরু হওয়ার কথা ২৬ মে থেকে।
- সিটিআই ভেন্যু সংখ্যা কমানোর দাবি জানিয়েছে।
- জ্বালানি সাশ্রয় ও কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমানোই মূল লক্ষ্য।
- বিসিসিআই কোনো সরকারি নির্দেশ পেলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
