IPL 2026: মিচেল স্টার্ককে প্রথম দিন থেকে চেয়েছিলাম, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ওপর ক্ষুব্ধ হেমং বদানি
আইপিএল ২০২৬-এ মিচেল স্টার্কের দেরিতে আসা নিয়ে ক্ষোভ
আইপিএল ২০২৬-এর আসরে দিল্লি ক্যাপিটালসের জার্সি গায়ে মিচেল স্টার্কের পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। তবে এই তারকা পেসারের দেরিতে দলে যোগদান নিয়ে অসন্তুষ্ট দিল্লি ক্যাপিটালসের প্রধান কোচ হেমং বদানি। তিনি সরাসরি ইঙ্গিত করেছেন যে, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কঠোর নিয়মের কারণে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত জয়ের পর কোচ বদানি তার ক্ষোভের কথা অকপটে প্রকাশ করেন।
প্রথম দিন থেকেই দলের প্রয়োজন ছিল স্টার্ককে
দিল্লি ক্যাপিটালসের বোলিং লাইনআপে মিচেল স্টার্ক একজন অভিজ্ঞ এবং ম্যাচ জেতানো বোলার। বদানি মনে করেন, স্টার্কের মতো একজন খেলোয়াড়কে প্রথম ম্যাচ থেকেই পাওয়াটা যেকোনো কোচের জন্য স্বপ্নের মতো। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি চেয়েছিলাম আমার দলের সেরা খেলোয়াড়রা প্রথম দিন থেকেই আমার সাথে থাকুক। স্টার্ক আমাদের দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। আমরা তাকে নিয়ে বড় বিনিয়োগ করেছি এবং আমরা জানি সে কতটা শক্তিশালী।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘যখন কোনো ক্রিকেট বোর্ড বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা খেলোয়াড়দের ছাড়তে দেরি করে, তখন কোচ বা ফ্র্যাঞ্চাইজির হাতে খুব কমই কিছু করার থাকে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া যদি তাকে ছাড়পত্র না দেয়, তবে আমাদের কিছুই করার নেই।’
রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে স্টার্কের জাদু
১ মে রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে ম্যাচে স্টার্কের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি ৪০ রান খরচ করে ৪টি উইকেট শিকার করেন, যা দিল্লি ক্যাপিটালসকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আইপিএল ২০২৬-এর শুরুর দিকে ইনজুরি এবং ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের কারণে স্টার্ককে বাইরে রাখতে হয়েছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে। কিন্তু ফেরার পরেই তিনি প্রমাণ করেছেন কেন তাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা পেসার বলা হয়।
একজন রোল মডেলের ভূমিকা
শুধু বল হাতে নয়, ড্রেসিংরুমে একজন পরামর্শদাতা হিসেবেও দারুণ সফল স্টার্ক। হেমং বদানি তার কাজের নৈতিকতা (Work Ethic) নিয়ে ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘তার প্রস্তুতি, ম্যাচের আগে পরিকল্পনা সাজানো এবং কঠোর প্রশিক্ষণ তরুণ বোলারদের জন্য অনুপ্রেরণা। অনেক তরুণ খেলোয়াড়ের মধ্যেও এই নিবেদন দেখা যায় না, যা স্টার্কের মধ্যে আছে। সেই কারণেই তিনি এত দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টিকে আছেন।’
বদানির মতে, স্টার্ক তরুণ বোলারদের নিয়মিত শেখাচ্ছেন কীভাবে রিভার্স সুইং করতে হয়, কোন লেংথে বল ফেলতে হয় এবং চাপের মুহূর্তে কীভাবে বোলিংয়ের কৌশল পরিবর্তন করতে হয়।
অ্যাশেজের সেই বীরত্ব
স্টার্কের সক্ষমতা নিয়ে বলতে গিয়ে বদানি স্মরণ করিয়ে দেন সাম্প্রতিক অ্যাশেজ সিরিজের কথা। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি অ্যাশেজের দিকে তাকান, তবে দেখবেন স্টার্ক একা হাতে অস্ট্রেলিয়াকে জয় এনে দিয়েছিল। প্যাট কামিন্স বা জশ হ্যাজলউড দলে না থাকলেও স্টার্কের উপস্থিতিই ছিল যথেষ্ট। এটি প্রমাণ করে একজন খেলোয়াড় দলের জন্য কতটা পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।’
দলের জন্য স্টার্কের গুরুত্ব
আইপিএল ২০২৬-এ এখন পর্যন্ত মাত্র পাঁচটি ম্যাচ খেলে স্টার্ক নয়টি উইকেট তুলে নিয়েছেন। যদিও তিনি দেরিতে টুর্নামেন্টে যোগ দিয়েছেন, তবুও তার পারফরম্যান্স দিল্লি ক্যাপিটালসের বোলিং ডিপার্টমেন্টে স্থিতিশীলতা এনেছে। দলের জন্য তিনি শুধু একজন বোলার নন, বরং একজন অভিজ্ঞ মেন্টর হিসেবে কাজ করছেন।
পরিশেষে, হেমং বদানির এই মন্তব্য স্পষ্ট করে দেয় যে, আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডার এবং ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা আধুনিক ক্রিকেটে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজিরা চায় তাদের সেরা তারকাদের সব সময় পাশে পেতে, কিন্তু ক্রিকেট বোর্ডের ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের পলিসি প্রায়শই এই সমীকরণে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এখন দেখার বিষয়, টুর্নামেন্টের বাকি অংশে স্টার্ক দিল্লি ক্যাপিটালসকে কতদূর নিয়ে যেতে পারেন।
