Injured Mitchell Santner Forces His Way Back Into New Zealand’s Plans
নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটে চমক: মিচেল স্যান্টনারের প্রত্যাবর্তন
আইপিএল ২০২৬ মৌসুমের এক অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার পর ক্রিকেট বিশ্বে মিচেল স্যান্টনারের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক জল্পনা-কল্পনা চলছিল। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে খেলার সময় চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে ফিল্ডিং করতে গিয়ে কাঁধে গুরুতর চোট পান এই তারকা অলরাউন্ডার। পরবর্তীতে পরীক্ষায় জানা যায়, তার গ্রেড থ্রি এসিএল ইনজুরি হয়েছে, যার জন্য অন্তত এক মাস মাঠের বাইরে থাকার প্রয়োজন ছিল। তবে সব শঙ্কা কাটিয়ে Injured Mitchell Santner Forces His Way Back Into New Zealand’s Plans এবং নিউজিল্যান্ডের টেস্ট স্কোয়াডে তার অন্তর্ভুক্তির খবরটি কিউই সমর্থকদের জন্য বড় স্বস্তি বয়ে এনেছে।
ইংল্যান্ড সিরিজের প্রস্তুতি ও স্যান্টনারের গুরুত্ব
নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড প্রাথমিকভাবে ভেবেছিল স্যান্টনার লর্ডসে অনুষ্ঠিতব্য প্রথম টেস্টে দলের বাইরে থাকবেন এবং সিরিজের দ্বিতীয় বা তৃতীয় টেস্টের জন্য তাকে বিবেচনা করা হবে। তবে তিনি প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত সুস্থ হয়ে লন্ডনে পৌঁছানোয় প্রথম টেস্টেই তার খেলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। স্যান্টনারের উপস্থিতি দলের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একজন বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে তিনি যেমন বল নিয়ন্ত্রণে রাখতে দক্ষ, তেমনি ব্যাট হাতেও লোয়ার অর্ডারে দলের হাল ধরার ক্ষমতা রাখেন। লর্ডসের পিচ সাধারণত পেসারদের জন্য স্বর্গ হলেও একজন অভিজ্ঞ স্পিনার হিসেবে স্যান্টনারের উপস্থিতি কিউইদের বাড়তি সুবিধা দেবে।
দলের সমন্বয়ে পরিবর্তন ও ডিন ফক্সক্রফটের বিদায়
স্যান্টনারের দলে ফেরার পথ সুগম করতে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড ডিন ফক্সক্রফটকে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চলতি বছর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হওয়া ফক্সক্রফট আপাতত দলের বাইরে থাকছেন। তবে স্যান্টনার দলে ফিরলেও তার চূড়ান্ত একাদশে জায়গা পাওয়া এখনও নিশ্চিত নয়। সাম্প্রতিক আয়ারল্যান্ড সিরিজে নাথান স্মিথ এবং ব্লেয়ার টিকনারের মতো বোলাররা অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছেন। তাই দলের নির্বাচকদের এখন কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হচ্ছে—লর্ডসের কন্ডিশনে তারা একজন অতিরিক্ত স্পিনার নেবেন নাকি অতিরিক্ত একজন পেসারকে খেলাবেন। স্যান্টনারের শারীরিক ফিটনেসও এক্ষেত্রে চূড়ান্ত ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে।
ইংল্যান্ডের জন্য অগ্নিপরীক্ষা
অন্যদিকে, এই তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজটি ইংল্যান্ডের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ১-৪ ব্যবধানে হারের পর ইংল্যান্ড দল বেশ চাপের মুখে রয়েছে। তার আগে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ ড্র করায় প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামের ওপরও বাড়ছে scrutiny। এই সিরিজে অধিনায়ক বেন স্টোকসের প্রত্যাবর্তন ঘটছে, যিনি দীর্ঘ সময় মুখের চোটের কারণে মাঠের বাইরে ছিলেন। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (WTC) সাইকেলে টিকে থাকার জন্য নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই সিরিজটি ইংলিশদের জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর সেরা সুযোগ।
পরবর্তী সম্ভাবনা
নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড উভয় দলের জন্যই এই সিরিজটি মর্যাদার লড়াই। ব্রেন্ডন ম্যাককালামের কোচিংয়ে ইংল্যান্ড তাদের আক্রমণাত্মক ঘরানার ক্রিকেট ধরে রাখতে চাইবে, অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড তাদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। স্যান্টনারের দলে ফেরা কিউইদের আত্মবিশ্বাস নিঃসন্দেহে অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, লর্ডসের সবুজ গালিচায় মিচেল স্যান্টনার তার চিরচেনা ছন্দে ফিরতে পারেন কি না এবং নিউজিল্যান্ডের জয়ে কতটা অবদান রাখতে পারেন। ক্রিকেট ভক্তরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছেন এই হাই-ভোল্টেজ সিরিজের প্রথম বলটি মাঠে গড়ানোর জন্য।
