ভারতের টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্বে বড় পরিবর্তন? সূর্যকুমার যাদবকে নিয়ে সংশয়ে বিসিসিআই
ভারতীয় ক্রিকেটে পরিবর্তনের হাওয়া: সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্ব কি ঝুঁকির মুখে?
আইপিএল ২০২৬ এখন তার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে, আর এর মাঝেই ভারতীয় দলের নজর ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সূচির দিকে সরতে শুরু করেছে। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর ভারতীয় দল এখন নতুন এক ট্রানজিশন পিরিয়ডের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ‘মেন ইন ব্লু’ আগামী জুন মাসে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে একটি টেস্ট এবং তিনটি ওডিআই ম্যাচের সিরিজ খেলবে। এরপর জুন মাসের শেষ দিকে আয়ারল্যান্ড সফরে দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সিরিজ খেলার কথা রয়েছে ভারতের।
তবে আয়ারল্যান্ড সফরের ঠিক আগেই ভারতীয় ক্রিকেট মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব। বর্তমান অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ব্যাট হাতে নিজের সেরা ছন্দ খুঁজে পেতে রীতিমতো লড়াই করছেন, যা বোর্ডের অন্দরে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড সফরের বিস্তারিত সূচি
ভারতের হোম সিজন শুরু হচ্ছে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে একমাত্র টেস্ট ম্যাচ দিয়ে, যা ৬ থেকে ১০ জুন মুল্লানপুরে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দুই দল মুখোমুখি হবে তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজে। এই ম্যাচগুলি ধর্মশালা, লখনউ এবং চেন্নাইতে আয়োজিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আফগানিস্তান সিরিজের পর ভারতীয় দল উড়ে যাবে আয়ারল্যান্ডে। সেখানে ২৬ এবং ২৮ জুন বেলফাস্টে দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এই সিরিজের জন্য স্কোয়াড ঘোষণার সময়ই সম্ভবত নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে বিসিসিআই।
সূর্যকুমার যাদবের ব্যাটে রানের খরা: পরিসংখ্যানের করুণ চিত্র
যদিও সূর্যকুমার যাদবের অধিনায়কত্বে ভারত ২০২৪ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল, কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর পারফরম্যান্স এখন নিম্নমুখী। পূর্ণকালীন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ‘স্কাই’ তাঁর স্বভাবজাত ব্যাটিং শৈলী প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হচ্ছেন।
পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০২৫ সালে সূর্যকুমার যাদব ১৯টি টি-টোয়েন্টি ইনিংসে মাত্র ২১৮ রান করতে সক্ষম হয়েছেন। সেখানে তাঁর গড় ছিল মাত্র ১৩.৬২ এবং স্ট্রাইক রেট ১২৩.১৬, যা তাঁর মতো বিশ্বমানের ব্যাটসম্যানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত বেমানান। ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনি ৯ ইনিংসে ৩০.২৫ গড়ে ২৪২ রান করেছিলেন, যেখানে স্ট্রাইক রেট ছিল ১৩৬.৭২।
চলতি আইপিএল ২০২৬-এ মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়েও তিনি ছন্দে নেই। ১১টি ম্যাচে তিনি মাত্র ১৯৫ রান করেছেন ১৭ গড়ে। যদিও ২০২৬ সালে সামগ্রিকভাবে ১৪টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে তাঁর গড় ৪৪.০০ এবং স্ট্রাইক রেট ১৬১.৩৩ দেখাচ্ছে, কিন্তু সাম্প্রতিক ম্যাচগুলিতে তাঁর ধারাবাহিকতার অভাব বিসিসিআইকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
বিসিসিআইয়ের গোপন বৈঠক এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী ১৯ মে গুয়াহাটিতে বিসিসিআই নির্বাচন কমিটির একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের দল নির্বাচন করা, তবে সূত্রের খবর, সেখানে আয়ারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ড সফরের টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব নিয়েও অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হতে পারে।
বিসিসিআইয়ের একটি অংশ প্রথমে চেয়েছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ককেই নেতৃত্বে বহাল রাখতে। কিন্তু সূর্যকুমারের ধারাবাহিক অফ-ফর্ম সেই পরিকল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছে। ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে টিম ম্যানেজমেন্ট এবং নির্বাচকরা এখন থেকেই একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল দল গড়ে তুলতে চাইছেন। আর সেই লক্ষ্যেই নতুন নেতৃত্বের কথা ভাবা হচ্ছে।
অধিনায়কত্বের দৌড়ে এগিয়ে কারা?
যদি নির্বাচকরা সূর্যকুমার যাদবকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে বেশ কিছু নাম আলোচনার প্রথম সারিতে উঠে আসছে:
- হার্দিক পাণ্ডিয়া: ভারতকে নেতৃত্ব দেওয়ার পূর্ব অভিজ্ঞতা এবং বড় ম্যাচে পারফর্ম করার ক্ষমতার কারণে হার্দিক সবসময়ই বিসিসিআইয়ের পছন্দের তালিকায় ওপরের দিকে থাকেন।
- শ্রেয়াস আইয়ার: আইপিএলে পাঞ্জাব কিংসের হয়ে শ্রেয়াসের অধিনায়কত্ব অনেক ক্রিকেট বিশেষজ্ঞকেই মুগ্ধ করেছে। তাঁর শান্ত মেজাজ এবং কৌশলগত জ্ঞান তাঁকে অধিনায়কত্বের শক্তিশালী দাবিদার করে তুলেছে।
- সঞ্জু স্যামসন ও ইশান কিষাণ: উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান হিসেবে সঞ্জু এবং ইশানের নামও বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে সঞ্জু স্যামসনের আইপিএল অধিনায়কত্বের অভিজ্ঞতা বোর্ড মাথায় রাখছে।
শেষ পর্যন্ত বিসিসিআই অভিজ্ঞতার পথে হাঁটে নাকি শ্রেয়াস আইয়ারের মতো তরুণ ও গতিশীল কাউকে দায়িত্ব দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে আয়ারল্যান্ড সফরটি যে সূর্যকুমার যাদবের জন্য এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষা হতে চলেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
