অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিশেষ কিছুর প্রয়োজন নেই, আত্মবিশ্বাসী হাবিবুল বাশার
অস্ট্রেলিয়া সফরের চ্যালেঞ্জ এবং বাংলাদেশের প্রস্তুতি
বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেট দল বর্তমানে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে। বর্তমান ক্রিকেটারদের মতে, এটি দেশের ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এবং ধারাবাহিক টেস্ট দল। তবে দলের সামনে এখন অপেক্ষা করছে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ—অস্ট্রেলিয়া সফর। আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে এই দুই ম্যাচের সিরিজটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে দুই দলই। এমনকি অস্ট্রেলিয়া দলের ক্রিকেটাররাও এই সিরিজের জন্য নিজেদের বাড়তি প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যার প্রমাণ হিসেবে অনেকে ‘দ্য হান্ড্রেড’ বা সীমিত ওভারের ক্রিকেট থেকে বিরতি নিয়েছেন।
কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেওয়ার গুরুত্ব
অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন সবসময়ই বাংলাদেশ দলের জন্য অপরিচিত এবং চ্যালেঞ্জিং। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন মনে করেন, সঠিক পরিকল্পনায় এই বাধা জয় করা সম্ভব। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছাতে পারি, তবে সেখানকার কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিতে আমাদের অনেক সুবিধা হবে। বর্তমান সময়ে টেস্ট ক্রিকেটের লড়াইটা অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক। র্যাঙ্কিংয়ের নিচের দিকের দলগুলো বাদে, প্রথম ছয়-সাতটি দলের বিপক্ষে টেস্ট খেলা এখন বেশ কঠিন।’
‘বিশেষ কিছুর প্রয়োজন নেই’
অস্ট্রেলিয়া তাদের নিজেদের মাটিতে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবুও হাবিবুল বাশারের কণ্ঠে শোনা গেল আত্মবিশ্বাসের সুর। তিনি স্পষ্ট করেই বলেছেন, অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর জন্য বাংলাদেশ দলকে অতিমানবীয় কিছু করতে হবে না। তার ভাষায়, ‘অস্ট্রেলিয়া বর্তমানে বিশ্বের এক নম্বর দল। তাদের কন্ডিশনে তাদের বিপক্ষে খেলা সবসময়ই কঠিন। কিন্তু এর মানে এই নয় যে আমরা আগে তাদের বিপক্ষে খেলিনি বা তাদের বোলারদের সামলাইনি। আমাদের আসলে বিশেষ কিছুর প্রয়োজন নেই। আমরা যদি আমাদের সেরা ক্রিকেটটা খেলতে পারি, তবে অস্ট্রেলিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানানো সম্ভব।’
ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্য
হাবিবুল বাশারের এই বক্তব্য দলের বর্তমান মানসিক অবস্থারই প্রতিফলন। বাংলাদেশ দল এখন শুধুমাত্র অংশ নেওয়ার জন্য নয়, বরং প্রতিটি ম্যাচ জেতার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে। পাকিস্তান বা অন্যান্য শক্তিশালী দলের বিপক্ষে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স টাইগারদের আত্মবিশ্বাসকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া সফর তাই কেবল একটি সিরিজ নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের অবস্থানের প্রমাণ দেওয়ার বড় সুযোগ।
উপসংহার
অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রস্তুতি হিসেবে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা যে মানসিকভাবে তৈরি, তা নির্বাচকদের কথাতেই স্পষ্ট। কোচিং স্টাফ এবং নির্বাচকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেওয়াই হবে মূল লক্ষ্য। যদি বাংলাদেশ দল তাদের স্বাভাবিক খেলার ছন্দ ধরে রাখতে পারে, তবে ক্রিকেট বিশ্বে তারা আবারও একটি বড় অঘটন ঘটানোর সামর্থ্য রাখে। ভক্তদের চোখ এখন সেই সিরিজের দিকে, যেখানে সাকিব-মুশফিকরা তাদের অভিজ্ঞতা দিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
