Report

Campbelle, Matthews outmuscle New Zealand to land famous victory – উইন্ডিজের ঐতিহাসিক জয়

Rohit Verma · · 1 min read

মহিলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে এক অবিস্মরণীয় জয় তুলে নিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শেমেইন ক্যাম্পবেলের কেরিয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক অর্ধশতককে ৯০ রানের এক দুর্দান্ত ও ম্যাচ জেতানো ইনিংসে রূপান্তর করার মাধ্যমে এই জয় নিশ্চিত হয়। আর এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের সুবাদেই ক্রিকেটের ইতিহাসে যুক্ত হলো এক নতুন অধ্যায়, যেখানে Campbelle, Matthews outmuscle New Zealand to land famous victory বাক্যটি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। নিউজিল্যান্ডের ফিল্ডারদের একের পর এক ভুলের সুযোগ নিয়ে এবং নিজেদের অসীম শক্তির প্রদর্শন ঘটিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ১ বল বাকি থাকতেই ১৬৩ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে ফেলে।

নিউজিল্যান্ডের উড়ন্ত সূচনা ও গেজের ঝড়ো ব্যাটিং

টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ড নারী দল বেশ ভালো শুরু করেছিল। বিশেষ করে ইজি গেজ শুরু থেকেই ছিলেন আক্রমণাত্মক মেজাজে। প্রথম ওভারে জাইদা জেমসের বিরুদ্ধে ব্যাক-টু-ব্যাক বাউন্ডারি মেরে তিনি নিজের ইনিংসের সূচনা করেন। পাওয়ারপ্লেতে দ্রুত রান তোলার লক্ষ্যে গেজ মাত্র ২৩ বলে ৩৭ রান সংগ্রহ করেন (তার ইনিংসে ছিল ৮টি চার)। ৫ ওভারের মধ্যেই নিউজিল্যান্ডের স্কোর দাঁড়ায় বিনা উইকেটে ৪৯ রান। তবে তাদের অন্য ওপেনার জর্জিয়া প্লামারকে কিছুটা শান্ত থাকতে দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত গেজ ৩৯ রান করে আউট হন এবং ব্রুক হ্যালিডে খেলেন ৪০ রানের চমৎকার ইনিংস।

অ্যালিনের দুর্দান্ত স্পেলে ঘুরে দাঁড়ানো উইন্ডিজ

যখন মনে হচ্ছিল নিউজিল্যান্ড বড় স্কোরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার আলিয়াহ অ্যালিন বল হাতে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ান। তিনি তার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মাধ্যমে মাত্র ৬ বলের ব্যবধানে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে ধস নামান। প্রথমে জর্জিয়া প্লামারকে ডটিনের ক্যাচে পরিণত করেন তিনি। এরপর ক্রিজে আসা মেলী কের এবং দুর্দান্ত ফর্মে থাকা গেজকে সাজঘরে ফেরান অ্যালিন। মেলী কের মিড-অনের ফিল্ডার রামহারাকের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন। এর কিছুক্ষণ পরেই গেজও একই শট খেলে রামহারাকের হাতেই ক্যাচ তুলে দেন। ৫৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে নিউজিল্যান্ড তীব্র চাপের মুখে পড়ে।

হ্যালিডে এবং গ্রিনের লড়াকু প্রতিরোধ

সুজি বেটসকে ছাড়া মাঠে নামা নিউজিল্যান্ড দলের হাল ধরেন অভিজ্ঞ সোফি ডিভাইন এবং ব্রুক হ্যালিডে। ওমেন্স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম সুজি বেটস নিউজিল্যান্ডের একাদশে ছিলেন না। ডিভাইন ১৫ বলে ২২ রান করে জাহজারা ক্ল্যাক্সটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নিলেও, হ্যালিডের সাথে তার ২৯ বলে ৪৫ রানের জুটি নিউজিল্যান্ডকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখে। হ্যালিডে ৩২ বলে ৪০ রানের এক চমৎকার ইনিংস খেলেন, যেখানে বেশ কয়েকটি রিভার্স সুইপ এবং সোজা ব্যাটে মারা শট ছিল। শেষ পর্যন্ত অ্যালিনের চতুর্থ শিকার হয়ে হ্যালিডে যখন ফিরে যান, তখন নিউজিল্যান্ডের স্কোর সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছেছিল। এরপর ম্যাডি গ্রিন শেষ দিকে ২২ বলে অপরাজিত ৩৫ রানের ক্যামিও খেলেন, যার ফলে নিউজিল্যান্ড নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৬২ রান তুলতে সক্ষম হয়। অ্যালিন ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে ৪টি উইকেট লাভ করেন।

রান তাড়া করতে নেমে নাটকীয়তা ও রান-আউট বিতর্ক

১৬৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা মোটেও ভালো ছিল না। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ঘটে এক চরম নাটকীয় ঘটনা। অধিনায়ক হেইলি ম্যাথিউস থার্ড ম্যান অঞ্চলে বল ঠেলে রান নেওয়ার জন্য কল করেন। কিন্তু সেখানে কোনো রান নেওয়ার সুযোগ ছিল না। ভুল বোঝাবুঝির কারণে ওপেনিং পার্টনার কিয়ানা জোসেফ ক্রিজের মাঝখানে চলে আসেন। ম্যাথিউস নিজের উইকেট বাঁচাতে জোসেফকে রান আউট হতে বাধ্য করেন। এই ঘটনায় জোসেফ অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন এবং প্যাভিলিয়নে ফেরার পথে অধিনায়কের সাথে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করেন। এই ঘটনার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইনআপ বড় চাপে পড়ে যায়।

ম্যাথিউস ও ক্যাম্পবেলের ঐতিহাসিক জুটি

জোসেফের বিদায়ের পর অধিনায়ক হেইলি ম্যাথিউস নিজেকে সামলে নেন এবং শেমেইন ক্যাম্পবেলের সাথে জুটি বেঁধে দলের হাল ধরেন। দ্বিতীয় উইকেটে এই দুজনে মিলে ৭৪ রানের এক বিশাল পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। ম্যাথিউস ৩৭ বলে ৪৮ রানের একটি চমৎকার ইনিংস খেলেন, যার মধ্যে ছিল দৃষ্টিনন্দন কিছু শট। যদিও তিনি ক্র্যাম্পের সমস্যায় ভুগছিলেন, তবুও তিনি উইকেটে টিকে থেকে রান তোলার গতি সচল রাখেন। ম্যাথিউসের এই ইনিংসটি ক্যাম্পবেলকে অন্য প্রান্তে হাত খুলে খেলতে দারুণ সাহায্য করে।

নিউজিল্যান্ডের ক্যাচ মিসের মহোৎসব ও ক্যাম্পবেলের তাণ্ডব

ম্যাচটিতে নিউজিল্যান্ডের ফিল্ডিং ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। তারা পুরো ইনিংসে অন্তত ৭টি স্পষ্ট সুযোগ হাতছাড়া করে। মেলী কেরের বলে ম্যাথিউসের কঠিন এলবিডব্লিউ রিভিউ ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই যেন নিউজিল্যান্ডের ফিল্ডারদের হাত ফসকাতে শুরু করে। ক্যাম্পবেল প্রথমে ডিভাইন ও গেজের ভুলে স্টাম্পিংয়ের হাত থেকে বেঁচে যান। এরপর ম্যাথিউস এবং ক্যাম্পবেল দুজনেই একাধিক ক্যাচ মিসের জীবনদান পান। ন্যান্সি প্যাটেল এবং মেলী কের নিজেদের বোলিংয়ে সহজ ক্যাচ লুফে নিতে ব্যর্থ হন। এই সুযোগগুলোকে কাজে লাগিয়ে ক্যাম্পবেল ৬২ বলে অপরাজিত ৯০ রানের এক দানবীয় ইনিংস খেলেন। তার এই ইনিংসে ছিল ৭টি চার এবং ৩টি বিশাল ছক্কা।

শেষ ওভারের রোমাঞ্চ ও ঐতিহাসিক জয়

শেষ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ৪ রান। বল হাতে তুলে নিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে অভিজ্ঞ বোলার সোফি ডিভাইন। প্রথম বলে ২ রান আসার পর ম্যাচটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতের মুঠোয় চলে আসে। তবে ডিভাইন দুর্দান্ত বল করে পরবর্তী কয়েকটি ডেলিভারিতে রান আটকে দেন। জাজহারা ক্ল্যাক্সটনের একটি মিস শটের কারণে শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা তুঙ্গে পৌঁছায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক্যাম্পবেল মাথা ঠান্ডা রেখে শেষ চার্জটি করেন এবং রান আউটের হাত থেকে অল্পের জন্য বেঁচে গিয়ে উইন্ডিজকে ১ বল বাকি থাকতেই ৭ উইকেটের এক অবিস্মরণীয় জয় এনে দেন। এই জয়ের মাধ্যমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ নারী দল প্রমাণ করল যে চরম চাপের মুখেও তারা কতটা শক্তিশালী ও কার্যকর ক্রিকেট খেলতে পারে।

Avatar photo
Rohit Verma

Rohit Verma delivers detailed match reports, score recaps, and post-game summaries from IPL and ICC events.