Bhutan’s Ritshi Choden becomes first women cricketer to be timed out – ভুটানের রিতশি ছোডেন নারী ক্রিকেটে প্রথম ‘টাইমড আউট’ হওয়া ক্রিকেটার
ভুটানের রিতশি ছোডেন: নারী ক্রিকেটে প্রথম ‘টাইমড আউট’
ক্রিকেট ইতিহাসে ‘টাইমড আউট’ হওয়া ব্যাটসম্যানের সংখ্যা হাতে গোনা। পুরুষ ক্রিকেটে এমন ঘটনা বিরল হলেও, আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেটে এটি ছিল এক অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত। সম্প্রতি, ভুটানের রিতশি ছোডেন নারী ক্রিকেটে প্রথম ‘টাইমড আউট’ হওয়া ক্রিকেটার হিসেবে ইতিহাসে নিজের নাম লেখালেন। এই ঘটনাটি শুধু খেলার নিয়ম কানুনের কঠোর প্রয়োগকেই নির্দেশ করে না, বরং ‘খেলার স্পিরিট’ নিয়েও নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। মালয়েশিয়ার মানটিনে অনুষ্ঠিত এসিসি প্রিমিয়ার কাপের এক টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে নেপালের বিরুদ্ধে এই ঘটনা ঘটে, যা ক্রিকেট মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
নেপালের বিপক্ষে ম্যাচটিতে ভুটানের ইনিংসের প্রথম বলেই ওপেনার এনগাওয়াং ছোডেন গোল্ডেন ডাক মেরে আউট হন। এরপর তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামার কথা ছিল রিতশি ছোডেনের। তবে, তিনি ক্রিজে পৌঁছাতে ৯০ সেকেন্ডের বেশি সময় নেন। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের নিয়ম অনুযায়ী, একজন আউট হওয়ার পর পরবর্তী ব্যাটসম্যানকে নির্দিষ্ট সময়ের (সাধারণত ৯০ সেকেন্ড) মধ্যে বল খেলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়। রিতশি ছোডেন যখন গ্লাভস ও হেলমেট হাতে নিয়ে ক্রিজের দিকে দৌড়াচ্ছিলেন, তখন তিনি স্কয়ার-লেগ আম্পায়ারের সাথে সংক্ষিপ্ত কথোপকথনও করেন।
এই সময়ে নেপালের ফিল্ডাররা সক্রিয় হয়ে ওঠেন এবং রিতশি ছোডেন ক্রিজে পৌঁছানোর সাথে সাথেই ‘টাইমড আউট’-এর জন্য আবেদন করেন। নেপালের ব্যাটার পূজা মাহাতো দৌড়ে এসে আম্পায়ারের সাথে কথা বলেন এবং এরপরই নেপালের খেলোয়াড়রা উদযাপন শুরু করে দেন। আম্পায়ার সুন মেং ইয়াও এবং অঙ্কিতা গুহ ফিল্ডারদের আবেদন বহাল রেখে রিতশি ছোডেনকে আউট ঘোষণা করেন। আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে কোনো প্রতিবাদ ছাড়াই রিতশি ছোডেন প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। এই অপ্রত্যাশিত আউটের ফলে ভুটান এক বলের মাথায় ২ উইকেট হারিয়ে ০ রানে পরিণত হয়, যা তাদের ইনিংসে এক বড় ধাক্কা ছিল।
ক্রিকেটের নিয়ম এবং ‘টাইমড আউট’
ক্রিকেটের আইন, বিশেষ করে মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের (MCC) ৪০.১ ধারা অনুযায়ী, একজন ব্যাটসম্যান আউট হওয়ার পর নতুন ব্যাটসম্যানকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মাঠে প্রবেশ করে বল খেলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়। টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটে এই সময়সীমা তিন মিনিট হলেও, টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের ক্ষেত্রে এটি সাধারণত ৯০ সেকেন্ড। যদি নতুন ব্যাটসম্যান এই সময়ের মধ্যে প্রস্তুত না হন, তাহলে ফিল্ডিং দল আবেদন করলে আম্পায়ার তাকে ‘টাইমড আউট’ ঘোষণা করতে পারেন। এটি ক্রিকেটের বিরলতম আউটের একটি, কারণ বেশিরভাগ সময়ই দলগুলো খেলার স্পিরিট বজায় রাখতে এমন কঠোর নিয়ম প্রয়োগ করে না। রিতশি ছোডেনের ক্ষেত্রে নেপালের ফিল্ডাররা এই নিয়ম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়, যা তাদের জয়ের ক্ষুধা এবং ম্যাচের গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে।
নেপাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের ক্ষমা ও ‘খেলার স্পিরিট’ বিতর্ক
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর এই ‘টাইমড আউট’ ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে নেপাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (ক্যান) একটি আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ক্যান ভুটান ক্রিকেট, সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় এবং সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষদের কাছে তাদের সিদ্ধান্তের জন্য ক্ষমা চায়। তারা স্বীকার করে যে, যদিও আউটটি ক্রিকেটের নিয়মের মধ্যে ছিল, এটি ‘খেলার স্পিরিট’-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না, যা তারা বজায় রাখার চেষ্টা করে।
ক্যান তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করে,
