Battling Australia force series decider as questions grow for Pakistan
অস্ট্রেলিয়ার লড়াকু মানসিকতায় সিরিজে সমতা
ওয়ানডে সিরিজের আসল উদ্দেশ্য কী, তা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, তবে খর্বশক্তির অস্ট্রেলিয়া দল যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তা প্রশংসার দাবি রাখে। প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারার পর লাহোরে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ম্যাচে তারা জয় তুলে নিয়েছে। নব্বইয়ের দশকের ক্রিকেটীয় আমেজ ফিরিয়ে আনা এই সিরিজে দুই দলের রান তোলার গতি ছিল মন্থর, তবে অস্ট্রেলিয়া তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী সফল হয়েছে। ২৩১ রানের পুঁজি নিয়ে যেভাবে তারা লড়াই করেছে, তা তাদের দলের গভীরতা প্রকাশ করে।
ক্যামেরন গ্রিন ও ম্যাট রেনশর অবদান
ইনিংসের শুরুতে জশ ইংলিস ও ক্যামেরন গ্রিন ধৈর্য ধরে ব্যাটিং করেছেন। গ্রিন অনেক পরিশ্রম করে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিফটি তুলে নেন। এরপর ম্যাট রেনশ এবং ১৯ বছর বয়সী অলি পিকের মারমুখী ব্যাটিং অস্ট্রেলিয়াকে লড়াই করার মতো স্কোরে পৌঁছে দেয়। বিশেষ করে রেনশর ফর্মে থাকাটা অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় স্বস্তির খবর। অন্যদিকে, পিকের পরিণত ব্যাটিং প্রমাণ করেছে যে অস্ট্রেলিয়ার পাইপলাইনে দারুণ সব প্রতিভাবান তরুণ ক্রিকেটার রয়েছেন।
নাথান এলিসের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং
বল হাতে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের মূল নায়ক ছিলেন নাথান এলিস। ধীরগতির এবং বল গ্রিপ করা পিচে এলিসের লাইন-লেন্থ ছিল অসাধারণ। এছাড়া ম্যাট শর্টের ঘূর্ণি জাদুতে পাকিস্তান বারবার বিপদে পড়েছে। সালমন আগাকে যে ডেলিভারিতে তিনি বোল্ড করেছেন, তা ছিল পুরো ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্ত।
পাকিস্তানের দুশ্চিন্তার কারণ
ম্যাচের আগে কোচ মাইক হেসন হোম কন্ডিশন নিয়ে কথা বললেও, শেষ পর্যন্ত নিজেদের তৈরি পিচেই চাপে পড়ে পাকিস্তান। আরাফাত মিনহাস এবং গাজী ঘোরি দারুণ সম্ভাবনা দেখালেও দলের নিয়মিত পারফর্মারদের ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। শাদাব খান বল হাতে ধুঁকছেন, যদিও ব্যাট হাতে তার ৭১ রান পাকিস্তানকে লড়াইয়ে রেখেছিল। তবে সামগ্রিকভাবে পাকিস্তানের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাব দেখা যাচ্ছে। ২০১৫ সালের পর থেকে ঘরের মাঠে পাকিস্তান খুব কম ওয়ানডে সিরিজ হেরেছে, তাই বৃহস্পতিবারের সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচটি তাদের জন্য অগ্নিপরীক্ষা।
খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ
সাহিবজাদা ফারহান টি-টোয়েন্টিতে নিজের জাত চেনালেও ওয়ানডে ফরম্যাটে এখনো নিজেকে মানিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন। দুই ম্যাচেই তার শুরুটা ভালো ছিল কিন্তু তা বড় ইনিংসে রূপ দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। অন্যদিকে, ম্যাট রেনশ পুরো সিরিজে অত্যন্ত সাবলীল। রক্ষণাত্মক ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের মিশেলে তিনি দলের ব্যাটিং লাইনআপের মূল ভরসা হয়ে উঠেছেন।
টিম নিউজ ও সম্ভাব্য একাদশ
পাকিস্তান দলে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। শাদাব খানের অলরাউন্ড সামর্থ্য তাকে একাদশে টিকিয়ে রাখবে। তবে সুফিয়ান মকিমকে খেলানোর দাবি থাকলেও দলের ভারসাম্য বজায় রাখতে তাকে বাইরেই থাকতে হতে পারে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়া দলে মারনাস লাবুশেন ফর্মের তুঙ্গে নেই, তবে তাকে আরও একটি সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
পিচ ও কন্ডিশন
লাহোরের উইকেট বরাবরই স্পিনারদের জন্য সহায়ক। দ্বিতীয় ম্যাচে আমরা দেখেছি যে কীভাবে বল ঘুরছিল। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচেও একই ধরণের পিচ প্রত্যাশা করা হচ্ছে। আবহাওয়া গরম থাকতে পারে এবং বৃষ্টির হালকা পূর্বাভাস রয়েছে, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
পরিসংখ্যান ও ট্রাভিয়া
- অ্যাডাম জাম্পা আর মাত্র তিনটি উইকেট নিলে অস্ট্রেলিয়ার সপ্তম বোলার হিসেবে ওয়ানডেতে ২০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করবেন।
- ১৯৯৮ সালের পর থেকে অস্ট্রেলিয়া পাকিস্তানে কোনো ওয়ানডে সিরিজ জিততে পারেনি।
- নাথান এলিস ৫ ওয়ানডেতে বাবর আজমকে তিনবার আউট করেছেন, যা এই ফরম্যাটে বাবরকে সবচেয়ে বেশিবার আউট করা বোলারদের তালিকায় তাকে জায়গা করে দিয়েছে।
শাহিন আফ্রিদি ম্যাচের শেষে স্বীকার করেছেন যে, শুরুতে উইকেট হারিয়ে ফেলাই তাদের হারের বড় কারণ ছিল। অন্যদিকে নাথান এলিস বর্তমান কন্ডিশন নিয়ে বলেন, আধুনিক ক্রিকেটের এই মন্থর পিচগুলোও খেলার অংশ এবং এখানে মানিয়ে নেওয়ার মধ্যেই আসল পরীক্ষা। এখন দেখার বিষয়, সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে পাকিস্তান ঘুরে দাঁড়াতে পারে নাকি অস্ট্রেলিয়া জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।
