Bangladesh recall Mosaddek after four years for ODIs against Australia: বিসিবি স্কোয়াড ঘোষণা
অস্ট্রেলিয়া সিরিজের জন্য বাংলাদেশ দল ঘোষণা: ফিরেছেন মোসাদ্দেক ও সোহান
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ঘোষিত এই স্কোয়াডে বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দলে ফিরেছেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত এবং উইকেটকিপার-ব্যাটার নুরুল হাসান সোহান। গত এপ্রিল মাসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজ থেকে এই স্কোয়াডে দুটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন এবং আফিফ হোসেনকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের স্থানে মোসাদ্দেক ও সোহানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ঘরোয়া ক্রিকেটে মোসাদ্দেক হোসেনের অবিশ্বাস্য ফর্ম
মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত সর্বশেষ ২০২২ সালের আগস্ট মাসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে দেশের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন। এরপর থেকে দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করে গেছেন এই অলরাউন্ডার। চলমান ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) তিনি খেলছেন অবিশ্বাস্য ফর্মে। মাত্র ৫ ম্যাচে ৮৯.০০ গড়ে রান করেছেন তিনি, যার মধ্যে রয়েছে একটি দৃষ্টিনন্দন সেঞ্চুরি এবং দুটি দুর্দান্ত হাফ-সেঞ্চুরি। শুধু ব্যাটিংয়েই নয়, বল হাতেও নিজের অফ-স্পিন দিয়ে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের নাকাল করেছেন মোসাদ্দেক। ১৬.২৭ গড়ে শিকার করেছেন ১১টি উইকেট। গত তিন মৌসুম ধরেই ডিপিএলে তার এই ধারাবাহিকতা নির্বাচকদের বাধ্য করেছে তাকে আবারও লাল-সবুজ জার্সিতে ফিরিয়ে আনতে।
নির্বাচকদের কৌশলগত সিদ্ধান্ত ও হাবিবুল বাশারের বক্তব্য
মিডল-অর্ডারে দীর্ঘদিনের ব্যাটিং ব্যর্থতা দূর করতেই মূলত মোসাদ্দেক ও নুরুল হাসান সোহানকে দলে ফেরানো হয়েছে। সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার এই পরিবর্তনের পেছনের কৌশলগত কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আফিফ এবং মাহিদুলকে খুব বেশি সুযোগ দিতে পারিনি, তবে তাদের পরিবর্তন করাটা সম্পূর্ণ একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। মোসাদ্দেক বর্তমানে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে এবং সে ৬ নম্বরে ব্যাটিং করতে সক্ষম। ডিপিএলে তার অলরাউন্ড পারফরম্যান্স আমাদের মিডল-অর্ডারে একটি দারুণ ভারসাম্য এনে দেবে। সে যেমন ভালো ব্যাট করতে পারে, তেমনি বল হাতেও বেশ কার্যকর।’
নুরুল হাসান সোহানের অন্তর্ভুক্তি প্রসঙ্গে হাবিবুল বাশার আরও যোগ করেন, ‘মাহিদুল মূলত একজন টপ-অর্ডার ব্যাটার। কিন্তু আমাদের এমন কাউকে প্রয়োজন ছিল যে লোয়ার-মিডল অর্ডারে দ্রুত রান তুলতে পারে। সোহান সাধারণত ৬ বা ৭ নম্বরে উইকেটকিপার-ব্যাটার হিসেবে খেলে থাকে। আমাদের বিশ্বাস, এই পজিশনে সোহান অনেক বেশি কার্যকরী এবং অভিজ্ঞ।’
বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং বিপর্যয় ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপের দুর্বলতা চরমভাবে প্রকাশ পেয়েছে। দলের ব্যাটাররা ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করতে পারছেন না। তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম এবং অভিজ্ঞ নাজমুল হোসেন শান্ত ছাড়া আর কোনো ব্যাটার নিয়মিত রান পাচ্ছেন না। সাইফ হাসান এবং তাওহিদ হৃদয় ওয়ানডে ফরম্যাটে নিজেদের প্রত্যাশিত ফর্মে ফিরতে লড়াই করছেন। অন্যদিকে, দলের নবনিযুক্ত অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাটিং ফর্মও বেশ চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২২-২৩ মৌসুমে ব্যাটার হিসেবে দুর্দান্ত কাটানোর পর সাম্প্রতিক সময়ে তার ব্যাট যেন হাসছেই না, যদিও বল হাতে বলিং আক্রমণে তিনি অত্যন্ত সফল ভূমিকা পালন করছেন।
বোলিং বিভাগের ওপর বাড়তি ভরসা
ব্যাটিং ইউনিট ব্যর্থ হলেও বাংলাদেশের বোলিং বিভাগ এই সিরিজে বড় ভরসার জায়গা। বিশেষ করে তরুন পেসার নাহিদ রানার দিকে সবার নজর থাকবে। গত মার্চে টেস্ট ও ওয়ানডে অভিষেকেই ৫ উইকেট নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে হইচই ফেলে দিয়েছেন এই গতি তারকা। পেস আক্রমণে তার সঙ্গী হিসেবে থাকছেন অভিজ্ঞ তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান এবং শরিফুল ইসলাম। এছাড়া স্পিন বিভাগে লেগ-স্পিনার রিশাদ হোসেনের উপস্থিতি দলের শক্তি অনেক বাড়িয়ে দেবে। গত মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে রিশাদের। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অজি ব্যাটারদের বড় পরীক্ষা নিতে প্রস্তুত তিনি।
১৫ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক ওয়ানডে সিরিজ
দীর্ঘ ১৫ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কোনো দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। আগামী ৯, ১১ এবং ১৪ জুন মিরপুরের শের-এ-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। ক্রিকেট ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ওয়ানডে জয়ের রেকর্ড একেবারেই নগণ্য। ২০০৫ সালে কার্ডিফে ত্রিদেশীয় সিরিজে মোহাম্মদ আশরাফুলের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরির ওপর ভর করে একমাত্র জয়টি পেয়েছিল টাইগাররা। দীর্ঘ বিরতির পর ঘরের মাঠে এই সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ ও একই সাথে নিজেদের প্রমাণের দারুণ সুযোগ।
প্রথম দুই ওয়ানডের জন্য বাংলাদেশ স্কোয়াড
- মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক)
- সৌম্য সরকার
- সাইফ হাসান
- তানজিদ হাসান তামিম
- নাজমুল হোসেন শান্ত
- তাওহিদ হৃদয়
- লিটন দাস
- মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত
- নুরুল হাসান সোহান
- রিশাদ হোসেন
- তানভীর ইসলাম
- মুস্তাফিজুর রহমান
- তাসকিন আহমেদ
- শরিফুল ইসলাম
- নাহিদ রানা
