Cricket News

Babar Azam Fails To Make Into Even Pakistan’s Best-Ever List: মোহাম্মদ ইউসুফের ঐতিহাসিক রায়

Nikhil Rao · · 1 min read

পাকিস্তানের ১০০০তম ওয়ানডে এবং রাওয়ালপিন্ডির ঐতিহাসিক ম্যাচ

রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল পাকিস্তান। এই ম্যাচটি ছিল পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসের জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ, কারণ এটি ছিল তাদের ১০০০তম ওয়ানডে ম্যাচ। আর এই ঐতিহাসিক ম্যাচে পাকিস্তান এক দুর্দান্ত জয় তুলে নেয়।

ম্যাচটিতে অভিষেক হওয়া তরুণ অলরাউন্ডার আরাফাত মিনহাজ এক স্বপ্নের মতো অভিষেক উপভোগ করেন। প্রথম পাকিস্তানি পুরুষ ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডে অভিষেকেই পাঁচ উইকেট নেওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি। শুধু বল হাতেই নয়, ম্যাচ শেষ করার দায়িত্বটাও তিনি নিজের কাঁধে তুলে নেন এবং একটি দর্শনীয় ছক্কা মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

মিনহাজের ৫ উইকেটের পাশাপাশি আবরার আহমেদের ২ উইকেট শিকারের সুবাদে অস্ট্রেলিয়া মাত্র ৪৪.১ ওভারে ২০০ রানে গুটিয়ে যায়। রান তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের হয়ে বাবর আজম এবং গাজী ঘোরি দুর্দান্ত হাফ-সেঞ্চুরি করেন। এই দুই ব্যাটসম্যানের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ভর করে পাকিস্তান ৪২.৩ ওভারে মাত্র ৫ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে যায়, অর্থাৎ ৭.৩ ওভার বাকি থাকতেই এক বিশাল জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা।

মোহাম্মদ ইউসুফের দৃষ্টিতে পাকিস্তানের সর্বকালের সেরা ওয়ানডে দল

রাওয়ালপিন্ডিতে শাহীন শাহ আফ্রিদির নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান দল অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করার পর, পাকিস্তানের সাবেক তারকা ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ ইউসুফ দেশটির ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারদের বেছে নিয়েছেন। ৯০টি টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার পাকিস্তানের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা সেরা ওয়ানডে তারকাদের তালিকা প্রকাশ করেছেন, যা ক্রিকেট প্রেমীদের মধ্যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

মোহাম্মদ ইউসুফের মতে, পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ওয়ানডে অধিনায়ক এবং অলরাউন্ডার হলেন ইমরান খান। ব্যাটিং অর্ডারে ওপেনিং ও টপ-অর্ডারের জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন কিংবদন্তি সাঈদ আনোয়ারকে। বোলিং বিভাগে তাঁর চোখে সর্বকালের সেরা পেসার হলেন ওয়াসিম আকরাম এবং সেরা স্পিনার সাকলাইন মুশতাক। উইকেটরক্ষক হিসেবে ইউসুফের পছন্দ রশিদ লতিফ। এছাড়া পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে তিনি ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ জয়কে বেছে নিয়েছেন।

বাবর আজম ও মোহাম্মদ ইউসুফের চেয়ে কেন এগিয়ে সাঈদ আনোয়ার?

মোহাম্মদ ইউসুফের এই তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক ছিল বর্তমান সময়ের বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যান বাবর আজমের অনুপস্থিতি। বাবর আজমের মতো ধারাবাহিক পারফর্মারকে বাদ দিয়ে ইউসুফ তাঁর নিজের যুগের সতীর্থ সাঈদ আনোয়ারকে সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে বেছে নিয়েছেন। আর এই কারণেই ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে গুঞ্জন উঠেছে যে Babar Azam Fails To Make Into Even Pakistan’s Best-Ever List

পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, সাঈদ আনোয়ার পাকিস্তানের হয়ে ২৪৭টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন। যেখানে ৩৯.২১ গড়ে তিনি ৮,৮২৪ রান সংগ্রহ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ২০টি সেঞ্চুরি এবং ৪৩টি হাফ-সেঞ্চুরি। এক সময় ওয়ানডে ক্রিকেটে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি ছিল তাঁর দখলে। ১৯৯৭ সালে ভারতের বিপক্ষে চেন্নাইতে ১৯৪ রানের সেই মহাকাব্যিক ইনিংসটি খেলেছিলেন তিনি, যা পরবর্তীতে ২০১০ সালে শচীন টেন্ডুলকার প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করে ভেঙেছিলেন।

যদিও মোহাম্মদ ইউসুফ নিজে সাঈদ আনোয়ারের চেয়ে বেশি ওয়ানডে (২৮৮টি) খেলেছেন এবং বাবর আজম ইতিমধ্যেই আনোয়ারের ওয়ানডে সেঞ্চুরির রেকর্ড স্পর্শ করে ফেলেছেন, তবুও সাঈদ আনোয়ারের ব্যাটিংয়ের শৈলী, সাবলীলতা এবং নান্দনিকতা ছিল অতুলনীয়। তাঁর অফ-সাইডের শট এবং ইনিংস গড়ার দক্ষতা ক্রিকেট ইতিহাসে রাজকীয় মর্যাদা পেয়েছে, যা হয়তো বাবর আজমের চেয়ে তাঁকে ইউসুফের চোখে এগিয়ে রেখেছে।

সাঈদ আনোয়ারের ক্যারিয়ার এবং ১৯৯২ বিশ্বকাপের ট্র্যাজেডি

সাঈদ আনোয়ারের আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ১৯৮৯ সালে ওয়াকা (WACA) স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। অভিষেকের পর খুব দ্রুতই তিনি দলের অন্যতম প্রধান স্তম্ভে পরিণত হন। ১৯৯২ বিশ্বকাপের আগেই তিনি বেশ কিছু স্মরণীয় ইনিংস খেলেছিলেন, যার মধ্যে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১২৬ এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১০১ রানের ইনিংস অন্যতম।

তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে, ১৯৯২ বিশ্বকাপের ঠিক আগে তিনি ইনজুরিতে পড়েন এবং পুরো টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যান। ফলে পাকিস্তানের সেই ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ জয়ের অংশ হতে পারেননি তিনি। পরবর্তীতে তিনি ১৯৯৬, ১৯৯৯ এবং ২০০৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করলেও কখনো বিশ্বকাপ ট্রফি ছোঁয়া হয়নি তাঁর। তবে ২০০৩ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে খেলা তাঁর ১২৬ বলে ১০১ রানের ইনিংসটি ওয়ানডে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ইনিংস হিসেবে বিবেচিত হয়, যদিও শচীন টেন্ডুলকারের অতিমানবীয় ব্যাটিংয়ের কারণে সেই ম্যাচে পাকিস্তানকে হারতে হয়েছিল।

বিশ্লেষণ ও বিতর্ক: ইউসুফের পছন্দের চুলচেরা বিশ্লেষণ

মোহাম্মদ ইউসুফ যে তালিকাটি তৈরি করেছেন, তা নিঃসন্দেহে পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা তারকাদের নিয়ে গঠিত এবং এটি সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত মতামত। তবে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, এই তালিকায় কিছু বিতর্কের অবকাশ রয়েই যায়। বিশেষ করে উইকেটরক্ষক হিসেবে রশিদ লতিফের পরিবর্তে মঈন খানের নাম রশিদ খানের জায়গায় আসতে পারত। মঈন খান পাকিস্তানের অনেক ঐতিহাসিক জয়ের অংশ ছিলেন এবং তাঁর ব্যাটিংয়ের হাতও ছিল বেশ কার্যকর।

এছাড়া পাকিস্তানের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে ১৯৯২ বিশ্বকাপের পাশাপাশি ২০১৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের কথাও উল্লেখ করা যায়। ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ জয় অবশ্যই একটি প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছিল, কিন্তু ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয় ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক গল্প। টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আন্ডারডগ দল হিসেবে টুর্নামেন্ট শুরু করে ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জয় করাটা ছিল রূপকথার মতো এক গল্প, যা চিরকাল ক্রিকেট ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

পরিশেষে বলা যায়, বাবর আজম আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা নাম হলেও, পাকিস্তানের কিংবদন্তিদের তালিকায় জায়গা পেতে হলে তাঁকে আরও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। তবে ইউসুফের এই তালিকাটি প্রমাণ করে যে পাকিস্তানের ক্রিকেটের সোনালী যুগের মান কতটা উঁচুতে ছিল, যেখানে বাবর আজমের মতো খেলোয়াড়কেও কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হচ্ছে।

Avatar photo
Nikhil Rao

Nikhil Rao analyzes fantasy cricket picks, probable XIs, captain choices, and player form ahead of major matches.