Cricket News

রঞ্জি ট্রফিতে ৬০ উইকেট নিয়েও আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে দলে অনিশ্চিত আকিফ নবি: ফাস্ট বোলিংয়ের ভবিষ্যৎ?

Ayesha Siddiqui · · 1 min read

ক্রিকেট মহলে এখন একটাই আলোচনা, আইপিএল ২০২৬ শেষ হওয়ার ঠিক পরেই শুরু হতে চলা আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আসন্ন বহু-ফর্ম্যাট সিরিজের জন্য ভারতীয় দল কেমন হবে। বিশেষ করে টেস্ট এবং ওডিআই স্কোয়াড নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই) এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে দল ঘোষণা না করলেও, নির্বাচকদের প্রাথমিক ভাবনাচিন্তা নিয়ে নানা সূত্র থেকে তথ্য উঠে আসছে। শোনা যাচ্ছে, শুভমান গিলের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি পূর্ণ শক্তির টেস্ট দল নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই দলে জাসপ্রিত বুমরাহর অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বুমরাহ খেলবেন নাকি তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হবে, এই সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে দলের ফাস্ট বোলিং বিভাগের ভবিষ্যৎ।

রঞ্জি ট্রফিতে আকিফ নবির অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স

যদি জাসপ্রিত বুমরাহকে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে মোহাম্মদ সিরাজ এবং প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার সাথে তৃতীয় ফাস্ট বোলার হিসেবে কাকে দলে নেওয়া হবে, তা নিয়ে নির্বাচকদের মধ্যে জোর আলোচনা শুরু হবে। এই পরিস্থিতিতে, বেশ কয়েকটি তরুণ নাম উঠে আসছে, যার মধ্যে জম্মু-কাশ্মীরের আকিফ নবি এবং পাঞ্জাবের গুরনূর ব্রারের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আকিফ নবি রঞ্জি ট্রফি ২০২৫-২৬-এ তার পারফরম্যান্স দিয়ে সকলের নজর কেড়েছেন। তিনি তার দলকে প্রথমবার রঞ্জি ট্রফির শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এই টুর্নামেন্টে আকিফ নবি মাত্র ১০টি ম্যাচে অবিশ্বাস্যভাবে ৬০ উইকেট শিকার করেন, যা তাঁর বোলিং দক্ষতার এক উজ্জ্বল প্রমাণ। তাঁর বোলিং গড় ছিল ১২.৫৭, যা আধুনিক ক্রিকেটে এক বিরল এবং ব্যতিক্রমী পরিসংখ্যান।

আকিফ নবির এই অসাধারণ পারফরম্যান্স তাকে সরাসরি আইপিএল ২০২৬-এর নিলামে দিল্লি ক্যাপিটালসের নজরে আনে এবং দলটি তাকে দলে নেয়। ২৯ বছর বয়সী এই ডানহাতি পেসারকে দ্রুত ট্র্যাক করা হয়েছিল, যা তার প্রতি নির্বাচকদের আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়। তবে, আইপিএলে তার পথ মসৃণ ছিল না। চারটি সুযোগ পেলেও তিনি তার প্রথম আইপিএল উইকেট নিতে পারেননি, যা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তার অভিযোজন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাসত্ত্বেও, লাল বলের ক্রিকেটে তার রেকর্ড তাকে টেস্ট দলে সুযোগ পাওয়ার অন্যতম দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

বুমরাহর বিকল্প হিসেবে কে? আকিফ নবি ও গুরনূর ব্রার

জাসপ্রিত বুমরাহকে যদি আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ভারত বনাম আফগানিস্তান টেস্ট স্কোয়াডে বিশ্রাম দেওয়া হয়, তবে আকিফ নবি এবং গুরনূর ব্রারকে পরবর্তী বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও ব্রার সম্প্রতি খুব বেশি লাল বলের ক্রিকেট খেলেননি, বিসিসিআই তাকে ভারতের ফাস্ট বোলিংয়ের ভবিষ্যৎ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। বিসিসিআই বরাবরই ফরম্যাটগুলো মিশিয়ে না ফেলার পক্ষে। তাই রঞ্জি ট্রফির এই পারফর্মার আকিফ নবির নাম ভারত বনাম আফগানিস্তান টেস্ট স্কোয়াডে একটি স্থানের জন্য আলোচিত হচ্ছে। তার রঞ্জি ট্রফির পারফরম্যান্স তাকে এই আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

তবে, পিটিআই-এর সাংবাদিক কুশান সরকারের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আকিফ নবির পেস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তার বোলিংয়ের গতি মানসম্মত নয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে, যা তার টেস্ট অভিষেকের পথে একটি বড় বাধা হতে পারে। সাংবাদিকের মতে, “আকিফ নবির ৬০ উইকেট রয়েছে, কিন্তু তার পেস এমন কিছু নয় যা সবাইকে মুগ্ধ করেছে। এমনকি যদি তিনি ১৫ জনের স্কোয়াডে স্থান পান, তবুও টেস্ট অভিষেক অনেক দূরের ব্যাপার। তাকে দলে না নেওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।” এই মন্তব্য আকিফ নবির সম্ভাব্য টেস্ট অভিষেক নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। পেস বোলিংয়ে গতির অভাব ভারতীয় টেস্ট দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়, কারণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাফল্য পেতে হলে শুধুমাত্র উইকেট সংখ্যাই নয়, ধারাবাহিক গতি এবং চাপ সৃষ্টির ক্ষমতাও অপরিহার্য।

বিসিসিআই-এর নীতি অনুযায়ী, টেস্ট ক্রিকেটের জন্য এমন বোলারদের বেছে নেওয়া হয় যারা দীর্ঘ স্পেল ধরে দ্রুত গতিতে বল করতে পারেন এবং প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের উপর চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম। আকিফ নবির রঞ্জি ট্রফির দুর্দান্ত পরিসংখ্যান সত্ত্বেও, তার পেসের অভাব নির্বাচকদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লাল বলের ক্রিকেটে তার দক্ষতা অনস্বীকার্য হলেও, আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রয়োজনীয় গতির মানদণ্ড পূরণ করতে না পারাটা তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচকরা শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেন, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

ওয়ানডে দলে ম্যানেজমেন্টের মাথাব্যথা

আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজের জন্য শুধু টেস্ট স্কোয়াডই নয়, ওডিআই স্কোয়াড নিয়েও ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের মধ্যে তীব্র আলোচনা চলছে। আকিফ নবি এবং গুরনূর ব্রার ছাড়াও, আইপিএল ২০২৬-এ তাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর লখনউ সুপার জায়ান্টসের প্রিন্স যাদব এবং কলকাতা নাইট রাইডার্সের কার্তিক ত্যাগীর নামও উঠে আসছে। যদিও যাদব এবং ত্যাগী শ্রীলঙ্কায় ত্রি-সিরিজের জন্য ভারত ‘এ’ দলে জায়গা পাননি, তবে মনে করা হচ্ছে ওডিআই ফরম্যাটে তাদের সেরা ব্যবহার করা যেতে পারে।

বিসিসিআইকে দ্রুত আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ওডিআই স্কোয়াড ঘোষণা করতে হবে, যেখানে বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মার ভবিষ্যতের বিষয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ২০২৭ সালের ওডিআই বিশ্বকাপ এখনও প্রায় দেড় বছর দূরে থাকলেও, এই দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের ফর্ম এবং ফিটনেস নিয়ে এখন থেকেই আলোচনা শুরু হয়েছে। তাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় রাখা হবে কিনা, নাকি নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়া হবে, তা একটি বড় প্রশ্ন।

এছাড়াও, হার্দিক পান্ডিয়ার পিঠের সমস্যা ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য আরও একটি উদ্বেগের কারণ। তার সম্পূর্ণ ফিটনেস এবং বোলিং ক্ষমতা দলের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাকআপ উইকেটকিপার হিসেবে ঋষভ পান্তের পরিবর্তে ইশান কিষানকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে বলে খবর রয়েছে। পান্তের ফর্ম এবং কিপিং দক্ষতার উপর নির্ভর করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই প্রতিটি সিদ্ধান্তই আফগানিস্তান সিরিজের পাশাপাশি ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের জন্য ভারতের রোডম্যাপ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, তা দেখার জন্য ক্রিকেটপ্রেমীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

সামগ্রিকভাবে, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আসন্ন সিরিজটি ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি কেবল একটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নয়, বরং ২০২৭ সালের ওডিআই বিশ্বকাপ এবং দীর্ঘমেয়াদী টেস্ট পরিকল্পনার দিকে একটি পদক্ষেপ। তরুণ প্রতিভাদের সুযোগ দেওয়া, অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা, এবং ইনজুরি সমস্যা মোকাবিলা করা—সবকিছুই এই সিরিজের দল নির্বাচনে প্রতিফলিত হবে। নির্বাচকদের সামনে এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ, সঠিক ভারসাম্য বজায় রেখে এমন একটি দল নির্বাচন করা যা স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী উভয় উদ্দেশ্যই পূরণ করতে পারে।

Avatar photo
Ayesha Siddiqui

Ayesha Siddiqui focuses on player reactions, press conference highlights, and exclusive cricket interviews.