Report

Sooryavanshi thumps fastest List A fifty as India A win tri-series

Rohit Verma · · 1 min read

দেম্বুলায় অনুষ্ঠিত ত্রি-সিরিজের ফাইনালে এক বিস্ফোরক প্রদর্শনীতে ভারত এ দল শ্রীলঙ্কা এ-কে ৬৬ রানে পরাজিত করে শিরোপা জিতেছে। এই জয়ের মূল কারিগর ছিলেন তরুণ ওপেনার বৈভব সূর্যবংশী, যিনি লিস্ট এ ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্রুততম অর্ধশতক হাঁকিয়ে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখিয়ে নিয়েছেন। তার অবিশ্বাস্য ব্যাটিং প্রদর্শনী ভারতের জয়ের পথ প্রশস্ত করে।

বৈভব সূর্যবংশীর বিদ্যুৎ-গতির ব্যাটিং

বৈভব সূর্যবংশী, যিনি সম্ভবত তার আনক্যাপড ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ খেলছিলেন, ফাইনালের মঞ্চে নিজেকে সম্পূর্ণ নতুন রূপে মেলে ধরেন। মাত্র ১১ বলে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করে তিনি লিস্ট এ ক্রিকেটে নতুন রেকর্ড গড়েন। তার এই বিস্ফোরক ইনিংস শেষ হয় মাত্র ২৯ বলে ৯৪ রানে, যেখানে প্রতিটি বল যেন বাউন্ডারির উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছিল। তার ইনিংসের প্রথম পাঁচটি বলেই তিনি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছিলেন, যা তার আগ্রাসী মনোভাবের এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ। সূর্যবংশী এতটাই দ্রুত গতিতে রান তুলছিলেন যে একসময় দ্রুততম লিস্ট এ সেঞ্চুরিও তার হাতের মুঠোয় ছিল বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, শ্রীলঙ্কা এ দলের অধিনায়ক ও অফস্পিনার সাহান আরাচিগের বলে নবম ওভারে তিনি আউট হন। তার বিদায়ের সময় ভারত এ দলের স্কোর ছিল মাত্র ৮.৫ ওভারে ১৩২ রান, যা ইনিংসের ভিত গড়ে দিয়েছিল।

ফাইনালের ঠিক চার দিন আগে শ্রীলঙ্কা এ দলের খেলোয়াড়দের সাথে তার উত্তেজনাপূর্ণ বাদানুবাদের ঘটনাটি বেশ আলোচিত হয়েছিল। সেই ঘটনার পর তার উপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা জরিমানার কথা শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু সূর্যবংশী সব সমালোচনা ও বিতর্ককে দূরে ঠেলে ব্যাট হাতেই তার জবাব দিয়েছেন। তার এই ইনিংস শুধু দলের জয়েই সাহায্য করেনি, বরং তার নিজের দক্ষতা ও মানসিক দৃঢ়তারও প্রমাণ দিয়েছে।

ভারত এ দলের ইনিংস: রান পাহাড়ের আখ্যান

সূর্যবংশীর ঝড়ো সূচনার পর ভারত এ দল এক বিশাল স্কোরের দিকে এগোচ্ছিল। একসময় মনে হচ্ছিল দল অনায়াসে ৪০০ রানের কোটা পেরিয়ে যাবে। কিন্তু কিছু সময় অন্তর উইকেট পতনের কারণে ইনিংসের গতি কিছুটা শ্লথ হয়ে পড়ে। এরপরও রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের ৪০ এবং তিলক ভার্মার ৬৭ রানের অবদান দলের স্কোর বোর্ডকে সচল রাখে। দলের ৯ উইকেট হারিয়ে ৩৭৭ রানের বিশাল সংগ্রহ তৈরি হয়। যদিও ৪৫০+ রানের সম্ভাবনা ছিল, তারপরও এই রান প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার জন্য যথেষ্ট ছিল।

অনুকুল রায়ের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স

ইনিংসের শেষ দিকে অনুকূল রায়ের ১৫ বলে ৩৯ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস ভারত এ-কে দারুণভাবে সাহায্য করে। চারটি বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে অনুকূল দলের স্কোরকে আরও বাড়িয়ে দেন, যখন মনে হচ্ছিল ভারত এ সম্ভবত পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করতে পারবে না এবং ৩৩৪ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে ছিল। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তার ব্যাট থেকে আসা রানগুলি দলকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যায়। ব্যাট হাতে অবদান রাখার পাশাপাশি, বল হাতেও অনুকূল রায় ছিলেন উজ্জ্বল। তার বাঁহাতি স্পিন দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেয়, যার মধ্যে সেট হয়ে যাওয়া বিজয়কান্ত বিয়াসকান্তের উইকেটটিও ছিল। এই উইকেটটি শ্রীলঙ্কা এ-এর ৭৭ রানের ৭ম উইকেট জুটি ভেঙে দিয়েছিল, যা তাদের জয়ের আশা বাঁচিয়ে রেখেছিল। অনুকূল রায়ের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স দলের জয়ে এক অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।

শ্রীলঙ্কা এ-এর লড়াই এবং ভারতের বোলারদের দাপট

৩৭৮ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কা এ দলও লড়াই চালিয়েছিল। তাদের হয়ে ওয়ানুজ সাহান ৬৯ বলে ৬২ রান করে দলের সর্বোচ্চ স্কোরার হন। এছাড়াও সাদীরা সামারাবিক্রমা ৫২ রান করে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতনের কারণে তাদের পক্ষে লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে, শ্রীলঙ্কা এ দল ৪৮তম ওভারে ৩১১ রানে অলআউট হয়ে যায়, এবং ভারত এ ৬৬ রানে জয় লাভ করে।

বোলারদের কার্যকরী ভূমিকা

ভারত এ-এর জয়ে বোলারদের অবদানও অনস্বীকার্য। ফাস্ট বোলার যশ ঠাকুর এবং লেগ-স্পিন অলরাউন্ডার ভিপরাজ নিগম দুজনেই তিনটি করে উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কা এ-এর ব্যাটিং লাইন আপ ভেঙে দেন। যশ ঠাকুর ৪৫ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট এবং ভিপরাজ নিগম ৬০ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট শিকার করেন। অনুকূল রায় তার দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেটের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা এ দলের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে সাহায্য করেন। তাদের সম্মিলিত বোলিং পারফরম্যান্স নিশ্চিত করে যে ভারত এ একটি আরামদায়ক ব্যবধানে ম্যাচটি জিততে পারে।

এই ম্যাচে বৈভব সূর্যবংশীর রেকর্ড গড়া দ্রুততম অর্ধশতক এবং ভারত এ দলের সম্মিলিত পারফরম্যান্স ক্রিকেট প্রেমীদের মনে দীর্ঘ দিন সজীব থাকবে। ত্রি-সিরিজের এই জয় তরুণ ভারতীয় ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দেবে এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেয়।

Avatar photo
Rohit Verma

Rohit Verma delivers detailed match reports, score recaps, and post-game summaries from IPL and ICC events.