Matthews, Taylor make it three in three for West Indies: ওয়েস্ট ইন্ডিজের টানা তৃতীয় জয়
ম্যাচ রিভিউ: শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সেমিফাইনালের পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ব্রিস্টলে অনুষ্ঠিত নারী বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৫ উইকেটে হারিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই জয়ের ফলে গ্রুপ ২-এর পয়েন্ট তালিকায় ইংল্যান্ডের সাথে যৌথভাবে শীর্ষে উঠে এসেছে ক্যারিবীয় নারীরা। স্পিনারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং পরবর্তীতে অভিজ্ঞ ব্যাটার স্টেফানি টেলরের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে সহজ জয় তুলে নেয় তারা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই জয়ে অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন অধিনায়ক হেইলি ম্যাথিউস এবং স্টেফানি টেলর। বলা যায়, Matthews, Taylor make it three in three for West Indies এবং এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের সুবাদেই তারা টুর্নামেন্টে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিতে সক্ষম হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং বিপর্যয় এবং হেইলি ম্যাথিউসের স্পিন জাদু
ম্যাচের শুরুতে টসে জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শ্রীলঙ্কাকে প্রথমে ব্যাটিং করার আমন্ত্রণ জানায়। ক্যারিবীয় অধিনায়ক হেইলি ম্যাথিউসের এই সিদ্ধান্ত যে কতটা সঠিক ছিল, তা ম্যাচের প্রথম পাওয়ারপ্লেতেই প্রমাণিত হয়ে যায়। ব্রিস্টলের উইকেটে স্পিনারদের জন্য কিছুটা বাড়তি সুবিধা ছিল এবং ম্যাথিউস তার পূর্ণ সুবিধা গ্রহণ করেন। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারের মধ্যে মাত্র ২৪ রানে শ্রীলঙ্কার ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে তাদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
শ্রীলঙ্কার ব্যাটাররা ক্যারিবীয় স্পিন আক্রমণের সামনে দাঁড়াতেই পারছিল না। হেইলি ম্যাথিউস অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে মাত্র ১৫ রান খরচ করে ৩টি উইকেট শিকার করেন, যা ম্যাচের গতিপথ পুরোপুরি নির্ধারণ করে দেয়। শ্রীলঙ্কার পক্ষে কেবল নীলাক্ষিকা কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হন। তিনি ৩০ রানের একটি লড়াকু ইনিংস খেলেন, যার ওপর ভর করে শ্রীলঙ্কা কোনো রকমে অলআউট হওয়ার আগে ৯৮ রান সংগ্রহ করতে সমর্থ হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনারদের আঁটসাঁট বোলিংয়ের সামনে শ্রীলঙ্কার ব্যাটাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে এবং বড় পার্টনারশিপ গড়তে ব্যর্থ হয়।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের নিয়ন্ত্রিত বোলিং ও ফিল্ডিংয়ের দাপট
শ্রীলঙ্কাকে মাত্র ৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পেছনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফিল্ডার এবং বোলারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছিল চোখে পড়ার মতো। শুরু থেকেই শ্রীলঙ্কার ওপর চাপ সৃষ্টি করে রান তোলার গতি আটকে রাখা হয়েছিল। ম্যাথিউসের ৩ উইকেটের পাশাপাশি দলের অন্য স্পিনাররাও তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন। বল হাতে নিয়ন্ত্রিত লাইনে বোলিং করে তারা লঙ্কান ব্যাটারদের হাত খুলে শট খেলার কোনো সুযোগই দেননি। ফলস্বরূপ, শুরু থেকেই উইকেট হারানোর চাপে থাকা শ্রীলঙ্কা পুরো ২০ ওভারও ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারেনি এবং এক শ রানের নিচে থমকে যায়।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সতর্ক শুরু
৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা বেশ ভালোই হয়েছিল। ওপেনিং জুটিতে হেইলি ম্যাথিউস এবং মারকুটে ব্যাটার ডিয়েন্ড্রা ডটিন মিলে ২৮ রানের একটি জুটি গড়েন। ডটিন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলার চেষ্টা করেন। তবে শ্রীলঙ্কার বোলাররা বিশেষ করে দিলহারি দারুণ বোলিং করে ক্যারিবীয় শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন। দিলহারি ২২ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপর কিছুটা চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করেন।
মাঝের ওভারগুলোতে শ্রীলঙ্কার বোলাররা নিয়মিত উইকেট তুলে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান তাড়ার পথটি কিছুটা কঠিন করে তোলার ইঙ্গিত দিয়েছিল। কিন্তু শ্রীলঙ্কার ফিল্ডারদের ক্যাচ মিস এবং অতিরিক্ত রান দেওয়ার প্রবণতা তাদের সেই সুযোগ হাতছাড়া করতে বাধ্য করে। বেশ কয়েকটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সক্ষম হয়।
স্টেফানি টেলরের অভিজ্ঞ ব্যাটিংয়ে সহজ জয়
একপ্রান্তে উইকেট পতন ঘটলেও অন্যপ্রান্ত আগলে রেখে দলের জয় নিশ্চিত করেন অভিজ্ঞ ব্যাটার স্টেফানি টেলর। তিনি অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় উইকেটে টিকে থাকেন এবং ৩৫ রানের একটি হার-না-মানা ইনিংস খেলেন। টেলরের এই ইনিংসটি ক্যারিবীয়দের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ মাঝের ওভারে কয়েকটি উইকেট হারিয়ে দল কিছুটা চাপে পড়ে গিয়েছিল। টেলর তার অভিজ্ঞতার পূর্ণ ব্যবহার করে শ্রীলঙ্কার বোলারদের আলগা বলগুলোকে বাউন্ডারিতে পরিণত করেন এবং সিঙ্গেলস ও ডাবলসের মাধ্যমে রানের চাকা সচল রাখেন। শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
পয়েন্ট টেবিলের সমীকরণ ও সেমিফাইনালের সম্ভাবনা
এই দুর্দান্ত জয়ের ফলে ৩ ম্যাচে ৩ জয় নিয়ে গ্রুপ ২-এর পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা ইংল্যান্ডের সমান পয়েন্ট অর্জন করল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে রান রেটের দিক থেকে ইংল্যান্ড কিছুটা এগিয়ে থাকায় তারা দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে। অন্যদিকে, এই হারের ফলে শ্রীলঙ্কার পরবর্তী পর্বে যাওয়ার আশা বড়সড় ধাক্কা খেল। শ্রীলঙ্কাকে এখন সেমিফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকতে হলে তাদের বাকি ম্যাচগুলোতে বড় ব্যবধানে জয়ের পাশাপাশি অন্য দলগুলোর ফলাফলের ওপরও নির্ভর করতে হবে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বর্তমান ফর্ম এবং খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস প্রমাণ করে যে তারা এই টুর্নামেন্টের অন্যতম দাবিদার। বিশেষ করে হেইলি ম্যাথিউসের অলরাউন্ড নৈপুণ্য এবং স্টেফানি টেলরের দায়িত্বশীল ব্যাটিং দলের শক্তির মূল ভিত্তি হয়ে উঠেছে। ভক্তরা আশা করছেন, ক্যারিবীয় নারীরা তাদের এই জয়ের ধারা আগামী ম্যাচগুলোতেও অব্যাহত রাখতে পারবে এবং শিরোপা জয়ের পথে আরও এগিয়ে যাবে।
