News

Connolly fights off cramps in innings of a lifetime: কুপার কনোলির বীরত্বে অস্ট্রেলিয়ার অবিশ্বাস্য জয়

Farhan Malik · · 1 min read

বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার তৃতীয় ওয়ানডেতে এক অবিস্মরণীয় মহাকাব্যের সাক্ষী থাকলো মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়াম। তীব্র গরম আর চরম শারীরিক ক্লান্তি উপেক্ষা করে কুপার কনোলি খেললেন তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস, যা Connolly fights off cramps in innings of a lifetime হিসেবে ক্রিকেট বিশ্বে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর এই দুর্দান্ত ১৪৯ রানের ওপর ভর করে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বিপক্ষে ১ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয় পেয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়ালো সফরকারী অস্ট্রেলিয়া।

ক্র্যাম্পের বিরুদ্ধে লড়াই এবং কনোলির ক্যারিয়ার সেরা ওয়ানডে ইনিংস

রবিবার মিরপুরের শের-এ-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ দল ৫ উইকেটে ২৭৪ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। কিন্তু কুপার কনোলি একাই যেন ম্যাচের দৃশ্যপট বদলে দেন। তিনি মাত্র ১৩৩ বলে ১৪৯ রানের এক চোখধাঁধানো ইনিংস খেলেন। এটি ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে কোনো অস্ট্রেলীয় ব্যাটারের ২৭তম সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। এই ইনিংসটি খেলার পথে তিনি ১৩টি চার এবং ৬টি বিশাল ছক্কা হাঁকান।

এর আগে ওয়ানডে ক্রিকেটে কনোলির সর্বোচ্চ রান ছিল অপরাজিত ৬১ এবং সামগ্রিক লিস্ট-এ ক্রিকেটে তাঁর সর্বোচ্চ ছিল মাত্র ৬৪ রান। কিন্তু এদিন তিনি নিজের পূর্বের সব রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দেন। পুরো ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান ছিল মার্নাস লাবুশেনের মাত্র ২৯ রান, যা প্রমাণ করে কনোলির এই ইনিংসটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং একাকী লড়াইয়ের ফসল ছিল।

ম্যাচ শেষে নিজের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে কনোলি বলেন, “শেষের দিকে পরিস্থিতি খুবই কঠিন হয়ে পড়েছিল। আমার মনে হচ্ছিল শরীর পুরোপুরি শকের মধ্যে চলে গেছে এবং কোনোভাবেই নড়াচড়া করতে পারছিল না। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার জয়ে অবদান রাখতে পেরে দারুণ অনুভূতি হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলার আনন্দ এবং উইকেটের মাঝে সময় কাটানো সবসময়ই রোমাঞ্চকর।”

নাটকীয় ধস এবং জ্যাম্পার ফিনিশিং টাচ

অস্ট্রেলিয়া যখন ৫ উইকেটে ২৬৬ রান নিয়ে জয়ের একেবারে দ্বারপ্রান্তে, ঠিক তখনই ম্যাচে চরম নাটকের অবতারণা হয়। মাত্র ৫ রানের ব্যবধানে ৪টি উইকেট হারিয়ে ২৬৬/৫ থেকে হুট করেই ২৭১/৯ রানে পরিণত হয় অজিরা। বাংলাদেশি বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম বল হাতে রীতিমতো তাণ্ডব চালান। তিনি ৪৮ রানে ৬টি উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মিডল ও লোয়ার অর্ডার ধসিয়ে দেন। শরিফুল ম্যাচের আসল নায়ক হতে পারতেন এবং তাঁর শিকার হতে পারত ৭টি উইকেট, যদি ওয়াইড স্লিপে তানজিদ হাসান তামিম অ্যাডাম জ্যাম্পার সহজ ক্যাচটি হাতছাড়া না করতেন।

কনোলি অন্য প্রান্ত থেকে একের পর এক উইকেট পতন দেখছিলেন। অবশেষে ৪৯তম ওভারে জয়ের জন্য যখন মাত্র ৪ রান বাকি, তখন মুস্তাফিজুর রহমানের বলে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। নবম উইকেট হিসেবে আউট হওয়ার আগে তাঁর নামের পাশে জ্বলজ্বল করছিল ১৪৯ রান। আউট হওয়ার পর নিজের হতাশা লুকাতে পারেননি এই তরুণ। তিনি বলেন, “আমি নিজের ওপর কিছুটা হতাশ ছিলাম কারণ ম্যাচটা জেতানোর জন্য সব কঠিন কাজ আমিই করেছিলাম। পুরো ইনিংস খেলে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়তে পারলে আরও ভালো লাগত। তবে ১০ বা ১১ নম্বর পজিশনে যারাই আসুক না কেন, তাদের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা ছিল। মনে মনে কিছুটা মন খারাপ হলেও দিনশেষে ম্যাচটি জিততে পারাটাই সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা।”

শেষ পর্যন্ত অ্যাডাম জ্যাম্পা ঠান্ডা মাথায় তাসকিন আহমেদের বলে কভার দিয়ে দর্শনীয় চার মেরে অস্ট্রেলিয়ার জয় নিশ্চিত করেন এবং সফরকারীদের আনন্দের জোয়ারে ভাসান।

কনোলির ব্যাটিং দর্শন এবং আগ্রাসী মনোভাব

ইনিংসের শুরুতে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক জশ ইংলিশের সাথে জুটি বেঁধে কনোলি বাংলাদেশের নতুন বলের বোলারদের ওপর চড়াও হন। এই আগ্রাসী ব্যাটিং শৈলীই তাঁর তরুণ ক্যারিয়ারকে সমৃদ্ধ করছে। ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজের ব্যাটিং স্টাইল নিয়ে বলতে গিয়ে কনোলি জানান, “আমি ওয়ানডে ক্রিকেটকেও আমার লাল বলের বা টেস্ট ক্রিকেটের মতোই মনে করি। আমি সবসময় আগ্রাসী খেলতে ভালোবাসি এবং রান তুলতে পছন্দ করি। পাওয়ারপ্লেতে ব্যাট করার মূল লক্ষ্যই হলো প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর চড়াও হওয়া এবং তাদের চাপে ফেলে দেওয়া।”

ক্যামেরন গ্রিনের বিশ্রাম এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজের আপডেট

এদিকে আগামী বুধবার থেকে চট্টগ্রামে শুরু হতে যাওয়া তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন। ব্যস্ত সূচির কারণে ধকল সামলাতে তাকে অস্ট্রেলিয়ায় ফেরত পাঠানো হচ্ছে বিশ্রাম দেওয়ার জন্য। গ্রিন ছিলেন একমাত্র অস্ট্রেলীয় খেলোয়াড় যিনি আইপিএল খেলার পাশাপাশি পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিপক্ষে টানা ছয়টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন। এই সফরে প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজেলউড এবং ট্র্যাভিস হেডের মতো তারকাদের আগেই বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল।

টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষে অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সাড়ে সাত সপ্তাহের একটি দীর্ঘ বিরতি রয়েছে। এরপর আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ দিয়ে আবারও মাঠে ফিরবে অজিরা। গ্রিনের পরিবর্তে দলে নতুন কোনো খেলোয়াড়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, কারণ হেডের বদলি হিসেবে ইতিমধ্যেই নিখিল চৌধুরী দলে যোগ দিয়েছেন। গোড়ালি আঘাত কাটিয়ে বাংলাদেশ সফরে আসা নিয়মিত অধিনায়ক মিচেল মার্শ টি-টোয়েন্টি সিরিজে দলের নেতৃত্ব দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সফরের জন্য অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড

আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য ঘোষিত অস্ট্রেলিয়া দল নিচে দেওয়া হলো:

  • মিচেল মার্শ (অধিনায়ক)
  • জেভিয়ার বার্টলেট
  • নিখিল চৌধুরী
  • কুপার কনোলি
  • টিম ডেভিড
  • জোয়েল ডেভিস
  • নাথান এলিস
  • অ্যারন হার্ডি
  • জশ ইংলিশ
  • স্পেন্সার জনসন
  • ম্যাথিউ কুনেম্যান
  • রাইলি মেরিডিথ
  • জশ ফিলিপ
  • ম্যাথিউ রেনশ
  • অ্যাডাম জ্যাম্পা
Avatar photo
Farhan Malik

Farhan Malik writes tactical T20 cricket analysis with a focus on momentum shifts, batting strategies, and death-over performance.