News

‘My goal was to do something special’ – Ferdous after match-winning fifty agains – বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

Rohit Verma · · 1 min read

নারী টি-২০ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত এক জয় দিয়ে শুভসূচনা করল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। টুর্নামেন্টের নবাগত দল নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৫ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটের এক শ্বাসরুদ্ধকর জয় তুলে নিয়েছে টাইগ্রেসরা। আর এই জয়ে ট্রাম্পকার্ড হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন তরুণ ব্যাটার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস। মাত্র পাঁচ মাস আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখা এই ক্রিকেটার যেন অভিজ্ঞতার ঘাটতিকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিলেন। তার ভয়ডরহীন ব্যাটিংয়ের সামনে ডাচ বোলাররা খড়কুটোর মতো উড়ে গেছেন। এই ম্যাচে বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল ১৪০ রান, যা টি-২০ বিশ্বকাপে টাইগ্রেসদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড।

জুয়াইরিয়া ফেরদৌসের লক্ষ্য ও ম্যাচ জয়ী ইনিংস

ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জুয়াইরিয়া ফেরদৌস তার লক্ষ্যের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘My goal was to do something special’ – Ferdous after match-winning fifty agains। মাত্র ২০ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার আরও যোগ করেন, “যেহেতু এটি টুর্নামেন্টে আমার প্রথম ম্যাচ এবং একই সাথে আমার প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ ছিল, তাই আমার লক্ষ্য ছিল বিশেষ কিছু করা এবং দলের জয়ে অবদান রাখা। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে আমি দলের জয়ে কিছুটা হলেও অবদান রাখতে পেরেছি।” ফেরদৌসের এই আত্মবিশ্বাসী মনোভাবই বাংলাদেশকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিল এবং শেষ পর্যন্ত জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়েছে।

পাওয়ারপ্লে-র আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা

নিজের ব্যাটিং পরিকল্পনা নিয়ে ফেরদৌস বলেন, “আমি পাওয়ারপ্লে-র সর্বোচ্চ ব্যবহার করার দিকে মনোনিবেশ করেছিলাম। একবার ক্রিজে থিতু হয়ে যাওয়ার পর আমি একটি বড় ইনিংস খেলতে চেয়েছিলাম। এটাই ছিল আমার মূল পরিকল্পনা এবং আমি সেটিই বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করেছি। হয়তো আমি এটি পুরোপুরি নিখুঁতভাবে শেষ করতে পারিনি কারণ ফিফটি করার ঠিক পরপরই আমি আউট হয়ে গিয়েছিলাম। তবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমি একটি বড় ইনিংস খেলার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছি।” নিজের অভিষেক বিশ্বকাপেই এমন পরিণত চিন্তাভাবনা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার এবং এটি তার ভবিষ্যতে আরও ভালো করার ক্ষুধার প্রমাণ দেয়।

অধিনায়কের বিদায় ও মিডল অর্ডারের প্রতিরোধ

নেদারল্যান্ডসের দেওয়া ১৪০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে এক পর্যায়ে ৮৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। বিশেষ করে দলের অন্যতম সেরা ব্যাটার ও অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি যখন কোনো রান না করেই শূন্য রানে আউট হন, তখন গ্যালারিতে শঙ্কার মেঘ জমেছিল। ডাচ লেগস্পিনার ক্যারোলিন ডি লাঞ্জের একটি ফ্লাইট ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন জ্যোতি। অধিনায়কের এই বিদায় নিয়ে ফেরদৌস বলেন, “যখন জ্যোতি আপু আউট হয়ে গেলেন, তখন পরিস্থিতি কিছুটা নার্ভাস ছিল। কারণ তিনি আমাদের অন্যতম সেরা ব্যাটার। তবে দলের বাকি ব্যাটিং লাইনের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা ছিল। আমি বিশ্বাস করতাম যে আমাদের মিডল অর্ডারের কেউ না কেউ দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেবে এবং শেষ পর্যন্ত ঠিক সেটিই ঘটেছে।”

জুয়াইরিয়া ফেরদৌসের ক্যারিয়ার গ্রাফ

জুয়াইরিয়া ফেরদৌসের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার খুব বেশি দীর্ঘ নয়, তবে এরই মধ্যে তিনি নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। চলুন দেখে নেওয়া যাক তার ক্যারিয়ারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক:

  • অভিষেক: চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে টি-২০ বিশ্বকাপের কোয়ালিফায়ার বা বাছাইপর্বে বাংলাদেশের হয়ে তার অভিষেক হয়।
  • প্রথম ফিফটি: অভিষেকের মাত্র ১০ দিন পরই থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক হাঁকান তিনি।
  • ওয়ানডে অভিষেক: এরপর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হোম সিরিজে ওয়ানডে ক্রিকেটেও তার অভিষেক ঘটে।
  • অভিজ্ঞতা: বিশ্বকাপের ঠিক আগে এডিনবার্গে নেদারল্যান্ডস ও স্কটল্যান্ডকে নিয়ে আয়োজিত ত্রিদেশীয় সিরিজেও তিনি দলের অংশ ছিলেন। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এই ম্যাচটি ছিল আন্তর্জাতিক টি-২০ ফরম্যাটে তার ১৫তম ম্যাচ।

ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট ও রোমাঞ্চকর সমাপ্তি

ম্যাচে শুরু থেকেই অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন ফেরদৌস। মাত্র ৩২ বলে খেলেন ৫০ রানের এক ঝড়ো ইনিংস, যার মধ্যে ছিল ৭টি চার এবং ২টি দৃষ্টিনন্দন ছক্কা। অবশ্য এই ইনিংসে ভাগ্যের ছোঁয়াও পেয়েছিলেন তিনি। ইনিংসের নবম বলে ডিপ মিডউইকেটে স্টেরে কালিসের একটি দুর্দান্ত ডাইভিং ক্যাচ থার্ড আম্পায়ার নাকচ করে দিলে বেঁচে যান তিনি। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় বল মাটিতে স্পর্শ করেছিল। এটি ছিল ম্যাচের একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট। এরপর রবিন রাইকের বলে ফিরতি ক্যাচ মিসের সুযোগ নিয়ে পরপর দুটি চার মারেন তিনি। অবশেষে ডি লাঞ্জের বলে ছক্কা মেরে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি পূর্ণ করার পরের বলেই পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি।

ফেরদৌসের বিদায়ের পর হাল ধরেন শারমিন আক্তার ও স্বর্না আক্তার। পঞ্চম উইকেটে তাদের অবিচ্ছিন্ন জুটি বাংলাদেশকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যায়। এর আগে দিলারা আক্তারের সাথে ওপেনিং জুটিতে ৬৭ রান যোগ করেছিলেন ফেরদৌস, যা টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পক্ষে অন্যতম সেরা ওপেনিং জুটি। অভিজ্ঞ শারমিন আক্তার ৩৭ রানে অপরাজিত থাকেন এবং স্বর্না আক্তার শেষ ওভারের প্রথম বলেই চার মেরে জয় নিশ্চিত করেন।

নেদারল্যান্ডসের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়

অন্যদিকে, প্রথমবারের মতো টি-২০ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া নেদারল্যান্ডস দল এই ম্যাচ থেকে অনেক কিছু শিখতে পেরেছে বলে মনে করেন ডাচ অধিনায়ক বাবেট ডি লিডি। তিনি বলেন, “আজকে আমরা যে লড়াই করেছি, তার জন্য আমাদের দল গর্ববোধ করতে পারে। তবে আমাদের ফিল্ডিং এবং ব্যাটিংয়ে আরও উন্নতির জায়গা রয়েছে। সামনে আমাদের ভারত, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে ম্যাচ রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি আমরা এই মঞ্চে খেলার যোগ্য এবং পরের ম্যাচে আমরা আরও শক্তিশালী হয়ে ঘুরে দাঁড়াব।” বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচ আগামী বুধবার শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, যেখানে টাইগ্রেসদের আরও কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে।

Avatar photo
Rohit Verma

Rohit Verma delivers detailed match reports, score recaps, and post-game summaries from IPL and ICC events.