Ferdous, Sharmin take Bangladesh past Netherlands – টি-টোয়েন্টি জয়
একটি রোমাঞ্চকর জয়ের গল্প
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচে নেদারল্যান্ডস দল তাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিল। বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে সাতবারের অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ দলকে বেশ ভালোভাবেই চাপে ফেলেছিল ডাচরা। শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতার জয় হয়েছে এবং শারমিন আক্তার ও স্বর্ণা আক্তারের ৪৪ বলে ৫৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ভর করে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
নেদারল্যান্ডসের ইনিংস ও শুরুর ধাক্কা
ম্যাচের শুরুতে নেদারল্যান্ডস ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। বাংলাদেশের বোলাররা শুরুতে সুইংয়ের খোঁজে থাকলেও সফল হতে পারেননি। তবে মারুফা আক্তার নিজের জাত চিনিয়েছেন। তিনি পিবি মোলেম্বোয়ারকে ১১ রানে ফেরান। এরপর বাবেট ডি লিড ও হেদার সিগার্স কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতনে রানের গতি কমে আসে ডাচদের। রাবেয়া খান অষ্টম ওভারে স্টেরা কালিসকে বোল্ড করে তার ক্যারিয়ারের ৫০তম টি-টোয়েন্টি উইকেট তুলে নেন। এর পরপরই রবিন রিজকে ও সানিয়া খুরানা আউট হলে নেদারল্যান্ডস বড় বিপদে পড়ে যায়।
ডি লিডের লড়াই ও বাংলাদেশের লক্ষ্য
নেদারল্যান্ডসের অধিনায়ক বাবেট ডি লিড একাই লড়াই চালিয়ে যান। তিনি ৪৫ বলে দুর্দান্ত এক অর্ধশতক হাঁকান। তার ড্রাইভ, সুইপ এবং ফুটওয়ার্ক ছিল দেখার মতো। ১২.১ ওভারে দল যখন ৭৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়েছিল, তখন ডি লিড দলকে টেনে তোলেন। সানজিদা আক্তারের বলে ব্যাক-টু-ব্যাক চার মেরে রানের গতি বাড়ান তিনি। শেষদিকে ডি লিডের রান আউটে ছন্দপতন ঘটলেও আইরিস জিলিং এবং সিলভার সিগার্স শেষ ১৭ বলে ২৩ রান যোগ করে নেদারল্যান্ডসকে ১৩৯ রানের লড়াকু অবস্থানে নিয়ে যান।
জুাইরিয়া ও শারমিনের পাল্টা আক্রমণ
১৪০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল। ওপেনার জুাইরিয়া ফেরদৌস, যিনি এই বছরই টি-টোয়েন্টি অভিষেক করেছেন, তিনি শুরু থেকেই হাত খুলে খেলেন। তার ব্যাটে ভর করে ৭টি চার ও ২টি ছক্কায় বাংলাদেশ তাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় সফল রান তাড়া করার রেকর্ড গড়ে। পাওয়ারপ্লের পর বাংলাদেশ চারটি উইকেট হারালেও, শারমিন আক্তার ধৈর্য ধরে উইকেটের এক প্রান্ত আগলে রাখেন।
ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট
নেদারল্যান্ডসের বোলারদের মধ্যে ডি ল্যাঞ্জ ২-২৭ বল করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও, বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটাররা মাথা ঠান্ডা রেখে পরিস্থিতি সামাল দেন। বিশেষ করে স্বর্ণা আক্তারের সাথে শারমিনের জুটিটি ছিল ম্যচ জেতানোর মূল চাবিকাঠি। ৪৪ বলে ৫৬ রানের জুটি ডাচদের সব স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৬ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
এই জয় বাংলাদেশের জন্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে। তবে ফিল্ডিং এবং বোলিংয়ের শুরুর দিকে আরও উন্নতি করার সুযোগ রয়েছে। নেদারল্যান্ডসের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এমন জয় টাইগ্রেসদের পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখবে। আগামী ম্যাচগুলোতে বাংলাদেশের ব্যাটারদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বড় দলগুলোকে হারানোর সক্ষমতা যে বাংলাদেশের আছে, তা এই ম্যাচটি আরও একবার প্রমাণ করল।
- জুাইরিয়া ফেরদৌসের ব্যাট থেকে এসেছে ৫০ রান।
- শারমিন আক্তার অপরাজিত ৩৭ রান করে জয় নিশ্চিত করেন।
- বোলিংয়ে মারুফা আক্তার ২ উইকেট নিয়ে সফল ছিলেন।
- বাস্তবতা হলো, ডাচদের বিপক্ষে এই জয় বাংলাদেশের বিশ্বকাপের পথচলায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।
