Shanaka, Mishara fifties set up series-levelling win for Sri Lanka
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে লঙ্কানদের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে সমতা ফিরিয়ে এনেছে শ্রীলঙ্কা। সাবিনা পার্কে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দাসুন শানাকা এবং কামিল মিশারার ব্যাট থেকে আসা জোড়া অর্ধশতক এবং পরবর্তীতে বোলারদের বিধ্বংসী পারফরম্যান্সে ৩৭ রানে জয় পেয়েছে লঙ্কানরা। এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের সিরিজ এখন ১-১ সমতায় দাঁড়িয়েছে।
শানাকার ব্যাটে রানের বিস্ফোরণ
ম্যাচের এক পর্যায়ে শ্রীলঙ্কা যখন ৮৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল, তখন উইকেটে আসেন দাসুন শানাকা। কামিল মিশারার সাথে জুটি বেঁধে তিনি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। শানাকা মাঠে নেমেই আগ্রাসী ব্যাটিং শুরু করেন। রোস্টন চেজের ওভারে পরপর ছক্কা ও চার মেরে তিনি নিজের উদ্দেশ্য পরিষ্কার করে দেন। মাত্র ১৯ বলে অর্ধশতক হাঁকিয়ে তিনি নিজেরই গড়া দ্রুততম টি-টোয়েন্টি ফিফটির রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন। শানাকা ২৪ বলে ৫৮ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ৫টি চার ও ৭টি ছক্কার মার।
কামিল মিশারার দায়িত্বশীল ব্যাটিং
অন্যদিকে, কামিল মিশারা এক প্রান্ত আগলে রেখে দলের স্কোরবোর্ড সচল রাখেন। পঞ্চম ওভারে ব্যাট করতে নেমে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন তিনি। ইনিংসের শুরুর দিকে বেশ ধীরস্থির থাকলেও শানাকার সাথে জুটি গড়ার পর তিনিও হাত খুলে খেলতে শুরু করেন। শেষ দিকে ম্যাথিউ ফোর্ডের বোলিংয়ে বড় শট খেলে রান রেট বাড়িয়ে নেন মিশারা। ৪০ বলে ৬১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে তিনি দলের সংগ্রহকে ১৯৪ রানে নিয়ে যেতে বড় ভূমিকা রাখেন।
বোলারদের আধিপত্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পরাজয়
১৯৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মাত্র ৯ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। এরপর রোভম্যান পাওয়েল এবং শিমরন হেটমায়ার ৮১ রানের জুটি গড়ে দলকে লড়াইয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেন। তবে শ্রীলঙ্কার স্পিনাররা মাঝের ওভারগুলোতে দারুণভাবে চেপে ধরেন। মাহেশ থিকশানা এবং ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা তাদের ঘূর্ণি জাদুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মিডল অর্ডারে ধস নামান।
ম্যাচের নাটকীয় মুহূর্ত
ওয়েস্ট ইন্ডিজের পতন শুরু হয় পাভন রত্নায়কের একটি রান আউটের মাধ্যমে। এরপর হাসারাঙ্গা এবং থিকশানার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে স্বাগতিকরা দিশেহারা হয়ে পড়ে। বিশেষ করে দুশমন্ত চামিরা বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেন। তিনি ৩ ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করেন। হাসারাঙ্গাও সমান ৩ উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দেন। শেষ পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৫৭ রানে গুটিয়ে যায়।
সিরিজ জয়ের হাতছানি
এই জয়ে শ্রীলঙ্কা সিরিজে দারুণভাবে ফিরে এসেছে। ব্যাটিংয়ে শানাকা ও মিশারার পাওয়ার হিটিং এবং বোলিংয়ে চামিরা ও হাসারাঙ্গার নিয়ন্ত্রিত বোলিং লঙ্কানদের আত্মবিশ্বাস কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সিরিজের শেষ ও নির্ধারণী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে রবিবার রাতে। সেই ম্যাচে দুই দলই নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিয়ে সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। ক্রিকেট ভক্তদের জন্য এটি হতে যাচ্ছে এক রোমাঞ্চকর লড়াই, যেখানে প্রতিটি বলের হিসাব হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের ঘরের মাঠে ঘুরে দাঁড়াতে চাইবে, অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা চাইবে এই ছন্দ ধরে রেখে সিরিজ নিজেদের করে নিতে। সবমিলিয়ে সিরিজ জয়ের লড়াইটি এখন চরম উত্তেজনার পর্যায়ে পৌঁছেছে।
