Gill, Rahul seal India’s chase for 1-0 lead after Gurbaz century
ধর্মশালায় ভারতের দাপুটে জয়
বৃষ্টির কারণে দীর্ঘ চার ঘণ্টা বিলম্বের পর ২৫ ওভারের ম্যাচে রূপ নেওয়া এই লড়াইয়ে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সাত উইকেটের এক সহজ জয় তুলে নিয়েছে ভারত। ধর্মশালার মাঠে বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং পরবর্তীতে ব্যাটারদের সাবলীল ব্যাটিং সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতেই ভারতকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দিয়েছে।
গুরবাজের তান্ডব ও ভারতের বোলিং আক্রমণ
ম্যাচটি শুরু হতে দেরি হলেও আফগান ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজের ব্যাটে ছিল গতির ছন্দ। তিনি মাত্র ৫১ বলে ১০২ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস উপহার দেন, যা আফগানিস্তানের কোনো ব্যাটারের দ্রুততম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। গুরবাজের নবম ওয়ানডে সেঞ্চুরিটি ছিল চোখ ধাঁধানো। তবে অপর প্রান্ত থেকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়ায় আফগানিস্তান ২৪.৫ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৯৪ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়।
ভারতের নবীন বোলাররা এই ম্যাচে নিজেদের প্রমাণ করেছেন। অভিষেককারী হর্ষ দুবে এবং গুরনুর ব্রার দুজনেই তিনটি করে উইকেট তুলে নিয়ে আফগান ইনিংসকে দ্রুত গুটিয়ে দিতে সাহায্য করেন। এছাড়া আরশদীপ সিং এবং নীতীশ কুমার রেড্ডি নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। বোলারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই ভারত ১৯৫ রানের লক্ষ্যমাত্রা পায়।
ভারতের সাবলীল রান তাড়া
১৯৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত খুব একটা চাপের মুখে পড়েনি। যদিও অধিনায়ক রোহিত শর্মা ১৬ রান করে দুর্ভাগ্যজনকভাবে রান আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন, তবে এরপর শুভমান গিল এবং ঈশান কিষান ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেন। গিল ৬৬ বলে অপরাজিত ৮৪ রানের এক ঝকঝকে ইনিংস খেলেন। এই ইনিংস খেলার পথে তিনি ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্রুততম ব্যাটার হিসেবে ৩০০০ রানের মাইলফলক ছোঁয়ার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসেন।
ঈশান কিষান ২২ বলে ৩৪ রানের একটি কার্যকর ইনিংস খেলেন। শেষদিকে কেএল রাহুল ১৯ বলে অপরাজিত ৩৯ রান করে জয় নিশ্চিত করেন। ২২.৫ ওভারেই ভারত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে যায়।
ম্যাচের উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান
- শুভমান গিলের ব্যাটিং: ৬৬ বলে অপরাজিত ৮৪ রান, যা তার ১৮তম ওয়ানডে অর্ধশতক।
- রহমানউল্লাহ গুরবাজ: ৫১ বলে ১০২ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস।
- অভিষেককারীদের সাফল্য: হর্ষ দুবে ও গুরনুর ব্রার প্রত্যেকেই তিনটি করে উইকেট শিকার করেছেন।
- ফলাফল: ভারত সাত উইকেটে জয়ী।
এই জয় তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ভারতকে মানসিকভাবে এগিয়ে রাখবে। আফগানিস্তানের জন্য গুরবাজের সেঞ্চুরি ইতিবাচক দিক হলেও, তাদের মিডল অর্ডার ও বোলারদের আরও উন্নতির প্রয়োজন। অন্যদিকে, ভারতীয় দলের তরুণ তুর্কিরা যেভাবে নিজেদের মেলে ধরছেন, তা আগামী ম্যাচগুলোতে তাদের জয়ের প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। সিরিজের পরবর্তী ম্যাচগুলোর দিকে এখন তাকিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীরা।
পুরো সিরিজটি এখন ভারতের নিয়ন্ত্রণে এবং পরবর্তী ম্যাচেও তারা একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাইবে। আফগানিস্তান ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
