Australia bowl first in series opener, hand Liam Scott debut
ঢাকায় সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং সিদ্ধান্ত
২০১১ সালের পর এই প্রথম বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজে মুখোমুখি হচ্ছে। সিরিজের প্রথম ম্যাচেই উত্তেজনা তুঙ্গে। টস জিতে অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক জশ ইংলিস প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই ম্যাচে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া তাদের একাদশে বড় পরিবর্তন এনেছে, যেখানে তরুণ অলরাউন্ডার লিয়াম স্কটের ওয়ানডে অভিষেক হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার নতুন কৌশল ও একাদশ
অস্ট্রেলিয়া এই ম্যাচে ব্যাটিং অর্ডারে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে। কুপার কনলি ইনিংস ওপেন করার দায়িত্ব পেয়েছেন। দলের বোলিং আক্রমণের মূল ভরসা হিসেবে থাকছেন নাথান এলিসের বৈচিত্র্যময় বোলিং এবং অ্যাডাম জাম্পার নিখুঁত স্পিন আক্রমণ। পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা সর্বশেষ সিরিজের দল থেকে এই ম্যাচে বাদ পড়েছেন ম্যাট কুনেম্যান এবং অলি পীক।
- ম্যাট শর্ট
- কুপার কনলি
- জশ ইংলিস (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক)
- মারনাস লাবুশেন
- অ্যালেক্স ক্যারি
- ক্যামেরন গ্রিন
- ম্যাথিউ রেনশ
- লিয়াম স্কট
- জেভিয়ার বার্টলেট
- নাথান এলিস
- অ্যাডাম জাম্পা
বাংলাদেশের শক্ত চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাবর্তন
অন্যদিকে, বাংলাদেশ দলও তাদের বোলিং আক্রমণে বেশ জোর দিয়েছে। তিন পেসার নিয়ে সাজানো হয়েছে তাদের একাদশ, যেখানে তরুণ পেসার নাহিদ রানা রয়েছেন। নাহিদ রানা গত তিন মাসে খেলা তিন সিরিজে তিনটি পাঁচ উইকেট পাওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। এই ম্যাচে দীর্ঘ দিন পর জাতীয় দলে ফিরেছেন মোসাদ্দেক হোসেন। ২০২২ সালের আগস্টের পর এই প্রথম ওয়ানডে দলে ডাক পেয়েছেন এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার, যিনি মিডল অর্ডারে ব্যাটিংয়ের দায়িত্ব পালন করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দলীয় গঠন ও প্রত্যাশা
বাংলাদেশের একাদশটি বেশ ভারসাম্যপূর্ণ মনে হচ্ছে। মেহেদী হাসান মিরাজ দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তানজিদ হাসান ও সাইফ হাসান ইনিংস ওপেন করবেন। এছাড়াও ব্যাটিংয়ে দলের বড় ভরসা নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয় এবং লিটন দাসের ওপর। বোলিংয়ে তাসকিন আহমেদ এবং মোস্তাফিজুর রহমানের মতো অভিজ্ঞ বোলাররা থাকছেন, যা অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
বাংলাদেশ একাদশ: তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), মোসাদ্দেক হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা, তানভীর ইসলাম।
দুই দলের জন্যই এই সিরিজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ প্রায় এক যুগের বিরতির পর ওয়ানডে ফরম্যাটে এই দুই দলের লড়াই দেখার জন্য ক্রিকেটপ্রেমীরা মুখিয়ে আছেন। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এখন দুই দলের ক্রিকেটারদের লড়াইয়ের অপেক্ষা। অস্ট্রেলিয়া কি তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী বোলিং করে বাংলাদেশকে চাপে ফেলতে পারবে, নাকি বাংলাদেশের ব্যাটাররা অস্ট্রেলিয়ার পেস ও স্পিন আক্রমণ সামলে ভালো সংগ্রহ দাঁড় করাবে—সেটাই এখন দেখার বিষয়।
লিয়াম স্কটের অভিষেক ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখতে অস্ট্রেলিয়া যে তাদের সেরাটা দেবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। অন্যদিকে ঘরের মাঠে বাংলাদেশ দল সবসময়ই কঠিন প্রতিপক্ষ। আধুনিক ওয়ানডে ক্রিকেটের এই লড়াইয়ে ট্যাকটিক্যাল মুভগুলোই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
