Ollie Robinson was ‘nowhere near ready for Ashes’ despite stunning comeback disp – লর্ডসে ওলি রবিনসনের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন
লর্ডসের গর্দনে ওলি রবিনসনের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন
দীর্ঘ আড়াই বছরের নির্বাসন কাটিয়ে লর্ডসের ঐতিহাসিক সবুজ গালিচায় যখন ওলি রবিনসন বল হাতে দৌড় শুরু করলেন, তখন গ্যালারিতে ছিল টানটান উত্তেজনা। আর মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে তিনি প্রমাণ করলেন কেন তাকে ইংলিশ ক্রিকেটের অন্যতম সেরা প্রতিভা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নিউজিল্যান্ডের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনেআপকে একাই ধসিয়ে দিয়ে রবিনসন জানান দিলেন, তিনি ফিরে এসেছেন নতুন উদ্যমে। তবে লর্ডসের দর্শকদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা এবং করতালি তার কঠোর পরিশ্রমকে সার্থক করে তুললেও, পেছনের গল্পটা ছিল আত্মোপলব্ধির।
অ্যাশেজের অপ্রস্তুত অতীত এবং সততা
ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হতে পারতেন রবিনসন, বিশেষ করে গত অ্যাশেজ সিরিজে যেখানে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইংল্যান্ড ৪-১ ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয়েছিল। স্কট বোল্যান্ডের মতো বোলাররা যেভাবে উবল-সিম (wobble-seam) ব্যবহার করে ইংলিশ ব্যাটারদের পরাস্ত করেছিলেন, রবিনসনের বোলিং শৈলীও ঠিক তেমনই কার্যকর হতে পারত। কিন্তু রবিনসন অকপটে স্বীকার করেছেন যে, সেই সময় তিনি মানসিকভাবে বা শারীরিকভাবে এই কঠিন লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। তিনি বলেন, Ollie Robinson was ‘nowhere near ready for Ashes’ despite stunning comeback disp। তার এই মন্তব্য প্রমাণ করে যে, একজন খেলোয়াড়ের সাফল্যের পেছনে কেবল দক্ষতাই শেষ কথা নয়, সঠিক মানসিক প্রস্তুতি এবং ফিটনেসও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
উবল-সিমের জাদু এবং ট্যাকটিক্যাল মাস্টারক্লাস
খেলা শেষে নিজের বোলিং পরিকল্পনা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন রবিনসন। তিনি কেবল একজন জোরে বোলার নন, বরং একজন বুদ্ধিদীপ্ত ক্রিকেটার—যা জেমস অ্যান্ডারসন ও স্টুয়ার্ট ব্রডের মতো কিংবদন্তিদের প্রশংসায় প্রমাণিত। লর্ডসের উইকেটে নিউজিল্যান্ডের বোলিং দেখেই তিনি নিজের রণকৌশল সাজিয়েছিলেন। ড্রেসিংরুমের টিভিতে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে তিনি বুঝতে পারেন যে, প্রথাগত সুইং বলের চেয়ে উবল-সিম উইকেট থেকে অনেক বেশি দ্রুত গতিতে রিঅ্যাক্ট করছে।
রবিনসন বলেন, “আমরা যখন নিউজিল্যান্ডকে বল করতে দেখলাম, তখন আমি ড্রেসিংরুমের টিভিতে খুব মনোযোগ দিয়ে খেলা দেখছিলাম। আমি লক্ষ্য করলাম যে বাতাস সুইং করা বলগুলো পিচে পড়ার পর যতটা দ্রুত গতিতে ব্যাটারদের কাছে পৌঁছাচ্ছিল, তার চেয়ে উবল-সিম বলগুলো অনেক বেশি কার্যকরী ও গতিময় ছিল। ব্যাটাররাও ফিরে এসে একই কথা বলেছিল। আমি মাঠে যাওয়ার সাথে সাথেই সিদ্ধান্ত নিই যে উবল-সিম বল করব, কারণ যখন বোলাররা টাইট উবল লাইনে বল করছিল, তখন উইকেট থেকে বল কিছুটা দ্রুত বের হচ্ছিল। আমি এবং গাস অ্যাটকিনসন টম লাথামকে আউট করার ঠিক আগে বলটি ভেতরে সুইং করানোর বিষয়ে কথা বলেছিলাম, কারণ ও লাইন দেখার সাথে সাথেই বল ছেড়ে দিচ্ছিল। তবে ওই একটি বল ছাড়া বাকি সব বলই ছিল উবল-সিম।”
লর্ডসের মাঠে সেই অবিশ্বাস্য তিন উইকেট
নতুন বল হাতে তুলে নিয়ে যখন রবিনসন নার্সারি এন্ড থেকে বোলিং শুরু করেন, তখন যেন এক ঝড় বয়ে যায় কিউই শিবিরে। নিজের প্রথম ওভারেই ট্রিপল-উইকেট মেইডেন ওভার করে তিনি লর্ডসের গ্যালারিকে উল্লাসে ভাসিয়ে দেন। এরপর নিজের প্রথম স্পেলের ৬ ওভারে মাত্র কয়েক রান দিয়ে তুলে নেন চতুর্থ উইকেট। দিনশেষে নিউজিল্যান্ড মাত্র ৬১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে, যেখানে ইংল্যান্ড তাদের প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়েছিল মাত্র ১৪০ রানে।
নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে দ্বিতীয় বলে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরত পাঠানোর পর লর্ডসের ঐতিহাসিক গ্যালারি থেকে যে গর্জন উঠেছিল, তা রবিনসনের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে। রবিনসন আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “একটা সময় ছিল যখন আমি আসলে দর্শকদের কোনো শব্দই শুনতে পাচ্ছিলাম না। আমি যেন মেঘের রাজ্যে ভাসছিলাম, আমার পা দুটো অবশ হয়ে আসছিল। আমি শুধু নিজেকে শান্ত রেখে নিজের কাজে ফোকাস করার চেষ্টা করছিলাম। তবে দ্বিতীয় উইকেটটি পড়ার পর লর্ডসের মাঠে যে গর্জন আমি শুনেছি, তা আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সবচেয়ে জোরে শোনা আওয়াজ। দর্শকসাধারণ সত্যিই অসাধারণ ছিলেন এবং এটি আমার ও আমার দলের জন্য একটি অত্যন্ত বিশেষ দিন ছিল। গতকাল এবং আজ সকালে আমি খুব নার্ভাস ছিলাম, কিন্তু মাঠে নেমে এমন পারফর্ম করতে পারা সত্যিই বিশেষ কিছু।”
অস্ট্রেলিয়ার দিনগুলো এবং ফিরে আসার লড়াই
দলে ফেরার আগে ওলি রবিনসনকে অনেক চড়াই-উতরাই পার হতে হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ইউনিভার্সিটি ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে গ্রেড ক্রিকেট খেলার সময় তিনি নিউ সাউথ ওয়েলসের নেটস সেশনে স্টিভ স্মিথকে বোলিং করার সুযোগ পেয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা তাকে সাহায্য করলেও তিনি জানতেন যে তার ফিটনেসে অনেক ঘাটতি রয়েছে। রবিনসন স্বীকার করেছেন, “অস্ট্রেলিয়ার উইকেট হয়তো আমার বোলিংয়ের জন্য উপযুক্ত ছিল, কিন্তু আমি খেলার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। আমি জানতাম ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফর্ম করে দরজা ভেঙে তবেই আমাকে জাতীয় দলে ফিরতে হবে। গত কয়েক মাস ধরেই আমি খেলাটার প্রতি আমার ভালোবাসা ফিরে পেয়েছি এবং নিজের কাজের প্রতি আরও বেশি মনোযোগী হয়েছি।”
তার এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম (বাজ) এবং অধিনায়ক বেন স্টোকস। তাদের অকুণ্ঠ সমর্থনই রবিনসনকে নতুন করে বাঁচতে শিখিয়েছে। এমনকি স্টোকসের সমর্থন এতটাই ছিল যে, রবিনসনের একটি অদ্ভুত অনুরোধও তিনি রাখতে দ্বিধা করেননি। রবিনসন তার আগের জার্সি নম্বর ৫৭ পরিবর্তন করে ১ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নামেন, যা সাধারণত দলের অধিনায়কের জন্য বরাদ্দ থাকে। রবিনসন হেসে বলেন, “১ আমার লাকি নম্বর এবং আমার জন্মদিন ১লা ডিসেম্বর। আমি জানতাম না যে এটি অধিনায়কের নম্বর, তবে স্টোকসি কোনো আপত্তি করেননি।”
ভবিষ্যতের পথ এবং কঠোর পরিশ্রমের অঙ্গীকার
বেন স্টোকস দলে ফিরিয়ে নেওয়ার পর রবিনসনকে একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন, যা রবিনসন সবসময় নিজের মাথায় গেঁথে রেখেছেন। স্টোকস লিখেছিলেন, “তোমাকে দলে ফিরে পেয়ে দারুণ লাগছে, তবে মনে রেখো আসল কঠোর পরিশ্রমটা কিন্তু এখনও বাকি আছে।” রবিনসনও জানেন যে তিনি এখনও একজন সম্পূর্ণ বোলার হয়ে ওঠেননি। তার দক্ষতা নিয়ে কখনোই কোনো সন্দেহ ছিল না, প্রশ্ন ছিল কেবল তার ফিটনেস ও মাঠের বাইরের শৃঙ্খলা নিয়ে।
রবিনসন বলেন, “আমি নিজেকে এখনও সম্পূর্ণ নিখুঁত বোলার মনে করি না। আমার এখনও অনেক কাজ করার বাকি আছে। তবে লর্ডসের মতো মাঠে যখন আপনি এমন পারফর্ম করবেন এবং দর্শকরা আপনাকে হাততালি দিয়ে অভিবাদন জানাবে, তখন মনে হয় সব কষ্ট ও কঠোর পরিশ্রম সার্থক হয়েছে।” ইংল্যান্ড দলের ম্যানেজমেন্ট ও সতীর্থদের এই ভালোবাসা ও সমর্থনই রবিনসনকে আগামী দিনের অ্যাশেজ এবং অন্যান্য সিরিজের জন্য আরও শক্তিশালী করে তুলবে, এটাই এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রত্যাশা।
