Cummins keen to play entirety of Australia’s ‘unprecedented’ run
অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জের মুখে প্যাট কামিন্স
অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের সামনে এখন এক অভাবনীয় ও ব্যস্ততম সূচি অপেক্ষা করছে। আগামী ১২ মাসে প্রায় ২১টি টেস্ট ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা রয়েছে অজিদের সামনে। এই পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করে প্যাট কামিন্স জানিয়েছেন, তিনি প্রতিটি ম্যাচেই দলের হয়ে মাঠে নামতে আগ্রহী। যদিও Cummins keen to play entirety of Australia’s ‘unprecedented’ run এর পরিকল্পনাটি বেশ চ্যালেঞ্জিং, তবুও তিনি আত্মবিশ্বাসী।
শারীরিক সুস্থতা ও কামিন্সের আত্মবিশ্বাস
আইপিএল থেকে ফেরার পর প্যাট কামিন্স জানিয়েছেন যে তার শারীরিক অবস্থা বেশ ভালো। পিঠের চোটের কারণে গত অ্যাশেজে কিছুটা সমস্যায় পড়লেও বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ ফিট। কামিন্স বলেন, আমার শরীর এখন দারুণভাবে সাড়া দিচ্ছে। আমি স্ক্যান করিয়েছি, সবকিছু ঠিক আছে। এখন মূল লক্ষ্য হলো টেস্ট ম্যাচের দীর্ঘ সময় বোলিং করার সক্ষমতা পুনরায় অর্জন করা। তিনি জুন এবং জুলাই মাসজুড়ে বোলিং লোড ধীরে ধীরে বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন যাতে দীর্ঘ সফরের ধকল সামলানো যায়।
২১টি টেস্টের রোমাঞ্চকর সফর
এই ব্যস্ততম সূচির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের বিপক্ষে হোম সিরিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা সফর, ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ এবং ইংল্যান্ডে অ্যাশেজ রক্ষার লড়াই। এছাড়াও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ এবং এমসিজিতে ১৫০তম বার্ষিকী টেস্টের মতো বড় ইভেন্টগুলোও থাকছে। কামিন্স স্বীকার করেছেন যে, এই পরিমাণ ক্রিকেট খেলা সত্যিই নজিরবিহীন। তিনি বলেন, এটি সত্যিই অভূতপূর্ব। ২১টি টেস্টে একই তিন বোলার—আমি, মিচেল স্টার্ক এবং জশ হ্যাজেলউড—সবসময় খেলতে পারব কি না, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় আছে। মাঝে মাঝে দল পরিবর্তনে বাধ্য হতে হতে পারে।
বিগ থ্রি-র ভবিষ্যৎ ও হ্যাজেলউডের প্রত্যাবর্তন
অস্ট্রেলিয়ার ‘বিগ থ্রি’ পেসার—কামিন্স, স্টার্ক এবং হ্যাজেলউড—সাধারণত প্রতি গ্রীষ্মে সব টেস্ট খেলার পরিকল্পনা করেন। তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। প্যাট কামিন্স বিশেষভাবে জশ হ্যাজেলউডের প্রশংসাও করেছেন। হ্যাজেলউড চোটের কারণে অ্যাশেজ মিস করলেও, আইপিএলে তার পারফরম্যান্স দেখে অধিনায়ক আশাবাদী। কামিন্স মনে করেন, হ্যাজেলউড আবারও নিয়মিত টেস্ট ক্রিকেটে নিজের ছন্দে ফিরতে সক্ষম হবেন।
সাদা বলের ক্রিকেটে সীমাবদ্ধতা
টেস্ট ক্রিকেটকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য কামিন্স সাদা বলের ক্রিকেটে কিছুটা ছাড় দেওয়ার কথা ভেবেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, টেস্ট সিরিজের ধকল সামলানোর পর অন্য ফরম্যাটে খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিগ ব্যাশ লিগ বা অন্যান্য ছোটখাটো টুর্নামেন্টে তার অংশগ্রহণ এবার তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। তার মূল লক্ষ্য হলো অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ এবং গুরুত্বপূর্ণ সিরিজগুলোতে দলের নেতৃত্ব দেওয়া ও নিয়মিত বোলিং করা।
বিকল্প খেলোয়াড়দের ভূমিকা
অস্ট্রেলিয়ার পেস বোলিং গভীরতা নিয়ে কামিন্স বেশ আশাবাদী। স্কট বোল্যান্ড, মাইকেল নেসার, ঝাই রিচার্ডসন এবং ব্রেন্ডন ডগেটের মতো বোলাররা অতীতেও নিজেদের প্রমাণ করেছেন। কামিন্স জানেন যে চোট বা ধকলের কারণে যদি কোনো সিনিয়র বোলারকে বিশ্রাম দিতে হয়, তবে বেঞ্চে থাকা খেলোয়াড়রা সেই দায়িত্ব পালনে সক্ষম। এটি দলের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য একটি বড় প্লাস পয়েন্ট।
সব মিলিয়ে, প্যাট কামিন্সের এই দৃঢ় মনোবল এবং পরিকল্পিত শারীরিক প্রস্তুতির প্রক্রিয়া অস্ট্রেলিয়া দলকে আসন্ন কঠিন সময়ে পথ দেখাতে সাহায্য করবে। যদিও ২১টি টেস্টের এই সফর অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং, তবে কামিন্সের নেতৃত্ব এবং অজি পেস অ্যাটাকের গভীরতা তাদের সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ক্রিকেট প্রেমীরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই ঐতিহাসিক বারো মাস কেমন কাটে তা দেখার জন্য।
