Cricket News

Hesson debunks pitches ‘myth’, says there will be ‘variety’ at ODI World Cup – হেসন পিচের ‘মিথ’ খণ্ডন করেছেন, বলেছেন ওয়ানডে বিশ্বকাপে থাকবে ‘বৈচিত্র্য’

Ayesha Siddiqui · · 1 min read

ক্রিকেট বিশ্বে পিচ নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়, বিশেষ করে যখন কোনো দল নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী পিচ তৈরি করে। সম্প্রতি পাকিস্তান ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ মাইক হেসন রাওয়ালপিন্ডিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে স্পিন-বান্ধব পিচ ব্যবহারের সিদ্ধান্তের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন। এই ম্যাচটি পাকিস্তান পাঁচ উইকেটে জিতেছিল। হেসন শুধু এই সিদ্ধান্তের পক্ষেই কথা বলেননি, বরং ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পিচ সংক্রান্ত প্রচলিত একটি ধারণাকে ‘মিথ’ বা ভ্রান্ত ধারণা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, আসন্ন বিশ্বকাপে পিচগুলোতে ‘বৈচিত্র্য’ থাকবে এবং দল সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেবে।

রাওয়ালপিন্ডির স্পিন-বান্ধব পিচ এবং হেসনের ডিফেন্স

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি ছিল স্পিনারদের দাপটে ভরা। মোট ৮৬.৪ ওভারের মধ্যে ৬২.৩ ওভারই করেছিলেন স্পিনাররা, এবং ম্যাচে মোট ১৫টি উইকেটের মধ্যে ১১টিই তুলে নিয়েছিলেন তারা। পাকিস্তানের একাদশে মাত্র দুইজন ফাস্ট বোলার এবং চারজন স্পিনার ছিলেন, যা পিচের প্রকৃতি সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। এমনকি অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক জশ ইংলিসকেও তাদের পার্ট-টাইম স্পিনার ম্যাট শর্ট, ম্যাট রেনশ এবং মারনাস লাবুশেনকে আক্রমণে আনতে হয়েছিল। এই ম্যাচে বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনার আরাফাত মিনহাস তার অভিষেক ম্যাচেই পাঁচ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন, যা পিচের স্পিন-বান্ধবতার অন্যতম প্রমাণ।

ধীরগতির ও নিচু বাউন্সের এই পিচটি অবশ্য সমালোচিত হয়েছিল, কারণ আগামী ১৬ মাস পর দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে এবং নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পরবর্তী বিশ্বকাপটি দ্রুতগতির বোলিংয়ের জন্য বেশি উপযোগী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকা, যেখানে বিশ্বকাপের বেশিরভাগ ম্যাচ এবং ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে, দ্রুতগতির এবং বাউন্সি পিচের জন্য পরিচিত। তবে, হেসন তার অফিসিয়াল X (পূর্বে টুইটার) অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে এই ধারণাটি সম্পূর্ণ সত্য নয় বলে জানিয়েছেন।

বিশ্বকাপের পিচ নিয়ে ‘মিথ’ খণ্ডন

হেসন তার পোস্টে লিখেছেন, “আমি পাকিস্তানের পিচ নিয়ে কিছু কথা শুনছি যে, এগুলো দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপের জন্য আদর্শ প্রস্তুতি নয়।” তিনি এই ধারণাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, “প্রথমত, বিশ্বকাপটি দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে এবং নামিবিয়া যৌথভাবে আয়োজন করবে। জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার এমন কিছু ভেন্যু রয়েছে যেখানে স্পিন একটি বড় ফ্যাক্টর এবং আমরা সেই দেশগুলোতেও ম্যাচ খেলব।”

দক্ষিণ আফ্রিকার পিচগুলো সব দ্রুতগতির এবং বাউন্সি হয় এই ‘মিথ’ বা ভ্রান্ত ধারণাটিও তিনি খণ্ডন করেছেন। হেসন স্পষ্ট করে বলেছেন, “দক্ষিণ আফ্রিকার সব পিচ দ্রুতগতির এবং বাউন্সি হয়, এই ধারণাটি একেবারেই ভুল। কিছু পিচ এমন হয় ঠিকই, তবে দেশটির বিভিন্ন ভেন্যুতে পিচের প্রকৃতিতেও ভিন্নতা রয়েছে।” এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, পাকিস্তানের স্পিন-বান্ধব পিচে খেলার অভিজ্ঞতা বিশ্বকাপের জন্য অপ্রাসঙ্গিক হবে না, বরং বিভিন্ন ধরনের পিচে খেলার প্রস্তুতি তাদের জন্য উপকারী হবে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় পাকিস্তানের সফল অতীত

হেসনের এই যুক্তির সপক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হলো, পাকিস্তান দল যখন সর্বশেষ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করেছিল, তখন তারা ৩-০ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিল। সেই সিরিজের প্রথম ম্যাচটি হয়েছিল পার্ল-এ, যেখানে স্পিনাররা আটটি উইকেটের মধ্যে সাতটি নিয়ে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন। সালমান আলি আঘা ৩২ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট নিয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছিলেন। সিরিজের শেষ ম্যাচে জোহানেসবার্গে বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার সুফিয়ান মুকিম ৫২ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন এবং পাকিস্তান ৩৬ রানে (ডিএলএস পদ্ধতি) সেই ম্যাচ জিতেছিল।

এই সিরিজটির কথা স্মরণ করে হেসন বলেছেন, “যারা মনে রেখেছেন গত ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তান দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলেছিল, যার মধ্যে পার্লও ছিল, যেখানে স্পিন ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করেছিল।” তিনি আরও যোগ করেছেন, “আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি যে আমরা উল্লেখযোগ্য গবেষণা সম্পন্ন করেছি এবং আগামী ১৮ মাস বিভিন্ন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিতে ব্যবহার করব।” এটি স্পষ্ট করে যে পাকিস্তানের থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের জন্য একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে, যেখানে কেবল ফাস্ট বোলিং নয়, স্পিনের ভূমিকাও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

বাবরের উপস্থিতি আমার কাজ সহজ করে দিয়েছে: ঘোরি

এদিকে, অস্ট্রেলিয়া তাদের টানা তৃতীয় ওয়ানডে সিরিজ হারের মুখে দাঁড়িয়ে আছে পাকিস্তানের বিপক্ষে, এবং সিরিজ বাঁচিয়ে রাখতে হলে তাদের দ্বিতীয় ওয়ানডে জিততেই হবে। এই অস্ট্রেলিয়ান দলটি তাদের বেশ কয়েকজন মূল খেলোয়াড় ছাড়াই খেলছে, যা তাদের জন্য একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। তবে, গাছি ঘোরি, যিনি মাত্র তার দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে নিজের প্রথম অর্ধশত রান করে বাবর আজমের সাথে ১২৭ রানের একটি ম্যাচজয়ী পার্টনারশিপ গড়েছিলেন, বলেছেন যে স্বাগতিক পাকিস্তানকে আত্মতুষ্টিতে ভোগা উচিত নয়।

“তারা তাদের নিয়মিত খেলোয়াড়দের ছাড়া খেলতে পারে, কিন্তু এটি অস্ট্রেলিয়া দল তো বটেই,” দ্বিতীয় ওয়ানডের আগের দিন দলের অনুশীলন সেশনের ফাঁকে ঘোরি বলেন। “তারা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে এবং এই ম্যাচের জন্য তারা ভালো প্রস্তুতি নিয়েছে। আমাদের সিরিজ ধরে রাখতে ভালো খেলা চালিয়ে যেতে হবে।”

ঘোরি ৪ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ৯২ বলে ৬৫ রান করেন, যা তার লিস্ট এ ক্রিকেটে সর্বোচ্চ স্কোর। পাকিস্তান যখন মাত্র ২০১ রানের লক্ষ্য তাড়া করছিল, তখন ১৩তম ওভারে ৪৯ রানে ২ উইকেট হারানোর পর তিনি ক্রিজে আসেন। পিচটি স্পিনারদের জন্য আরও সহায়ক হয়ে উঠছিল এবং অসমান বাউন্স দিচ্ছিল, তাই এই রান তাড়া করা সহজ ছিল না। তবে, অপর প্রান্তে বাবর আজমের মতো একজন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের উপস্থিতি ঘোরির কাজ সহজ করে দিয়েছিল। বাবর ৯৪ বলে ৬৯ রান করে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন।

ঘোরি বলেছেন, “আমি ক্রিজে যাওয়ার আগে বাবর আজম ব্যাট করছিলেন এবং তিনি আমাকে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানিয়েছিলেন।” তিনি আরও যোগ করেন, “যখন আপনার সাথে একজন সিনিয়র ব্যাটসম্যান মাঝখানে থাকেন, তখন আপনি অনেক আত্মবিশ্বাস পান। বাবর একজন প্রমাণিত পারফর্মার এবং ক্রিজে তার উপস্থিতি আমার জন্য সবকিছু সহজ করে দিয়েছিল। তিনি দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন এবং আমাকে বলেছিলেন যে আমার স্ট্রাইক রোটেট করার দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত এবং ডট বল খেললেও সমস্যা নেই।” ঘোরি ব্যাখ্যা করেন, “পরিস্থিতি অনুযায়ী আমাদের স্ট্রাইক রোটেট করতে এবং খারাপ বলগুলোকে সীমানার বাইরে পাঠাতে হয়েছিল, যা আমরা সফলভাবে করেছি।” এই মন্তব্যগুলো দলের সিনিয়র ও জুনিয়র খেলোয়াড়দের মধ্যে সমন্বয় এবং কৌশলগত বোঝাপড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে।

Avatar photo
Ayesha Siddiqui

Ayesha Siddiqui focuses on player reactions, press conference highlights, and exclusive cricket interviews.