Watch: Basit Ali tears into Shadab Khan as Saqlain Mushtaq listens on Live TV
শাদাব খানের পারফরম্যান্স নিয়ে উত্তাল ক্রিকেট অঙ্গন
পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসে রাওয়ালপিন্ডির ম্যাচটি ছিল এক ঐতিহাসিক উপলক্ষ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচটি ছিল পাকিস্তানের ১,০০০তম ওয়ানডে ম্যাচ। তবে এই ঐতিহাসিক জয়ের দিনেও আলোচনায় উঠে এসেছে অলরাউন্ডার শাদাব খানের পারফরম্যান্স। ম্যাচ পরবর্তী আলোচনায় Watch: Basit Ali tears into Shadab Khan as Saqlain Mushtaq listens on Live TV—এই ঘটনাটি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
বাসিত আলীর তীব্র সমালোচনা
ARY নিউজের প্যানেলে আলোচনার সময় সাবেক নির্বাচক বাসিত আলী শাদাব খানকে নিয়ে কোনো রাখঢাক না রেখেই কথা বলেছেন। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর থেকে দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে দলে ফেরা শাদাব খান প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। বাসিত আলী সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, কোনো ধরনের ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা ছাড়া হঠাৎ করে কীভাবে তাকে জাতীয় দলে সুযোগ দেওয়া হলো?
বাসিত আলী বলেন, ‘আপনিই বলুন, শাদাব খান তিন বছর ওয়ানডে ক্রিকেট খেলেনি, তাহলে সে দলে ফিরলো কীভাবে? সে শুধু পিএসএল খেলেছে। তিন বছর ধরে প্রতিদিন মাত্র চার ওভার বোলিং করে কীভাবে তাকে ওয়ানডে দলে ফেরানো যায়?’
স্বজনপ্রীতির অভিযোগ
বাসিত আলী তার বক্তব্যে ‘স্বজনপ্রীতি’র অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘এটি স্পষ্ট স্বজনপ্রীতি। আমিই প্রথম শাদাবকে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের জন্য নির্বাচন করেছিলাম। কিন্তু যখন পারফরম্যান্স নেই, তারপরও কাউকে দলে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়, তখন তরুণ খেলোয়াড়রা হতাশ হয়। তারা পিসিবি ও নির্বাচকদের ভয়ে মুখ খুলছে না, কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই ধরণের সিদ্ধান্ত পাকিস্তান ক্রিকেটের অপূরণীয় ক্ষতি করছে।’
মজার ব্যাপার হলো, এই তীব্র সমালোচনার সময় প্যানেলেই উপস্থিত ছিলেন কিংবদন্তি অফ-স্পিনার এবং শাদাব খানের শ্বশুর সাকলাইন মুশতাক। তার উপস্থিতিতেই বাসিত আলীর এই কঠোর সমালোচনা ক্রিকেট প্রেমীদের মধ্যে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
ম্যাচের প্রেক্ষাপট
ঐতিহাসিক এই ম্যাচে পাকিস্তান দুর্দান্ত বোলিং প্রদর্শন করেছে। বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত মিনহাস তার অভিষেক ম্যাচেই ৫ উইকেট নিয়ে ইতিহাস গড়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার ২০০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাবর আজম ও গাজি ঘোরির ব্যাটে ভর করে পাকিস্তান সহজেই জয় তুলে নেয়। তবে পাকিস্তানের ছয়জন বোলারের মধ্যে একমাত্র শাদাব খানই ছিলেন উইকেটশূন্য। তিনি ৮ ওভার বোলিং করে ৫৪ রান খরচ করেছেন, যেখানে তার ইকোনমি রেট ছিল ৬.৭৫। অথচ বাকি বোলাররা অত্যন্ত কৃপণ বোলিং করেছেন।
শাদাব খানের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান
২০১৭ সালে অভিষেকের পর থেকেই ওয়ানডে ফরম্যাটে শাদাব খান ধারাবাহিকতার অভাবে ভুগছেন। ৭১টি ওয়ানডে ম্যাচে তিনি ৮৫টি উইকেট নিয়েছেন, যেখানে তার বোলিং গড় ৩৫.৪৫। ব্যাট হাতেও তিনি খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। গত পাঁচটি ওয়ানডে ম্যাচে তিনি কোনো উইকেট পাননি, যা একজন অলরাউন্ডারের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এমনকি একটি ম্যাচে তাকে বোলিং করার সুযোগও দেওয়া হয়নি।
পাকিস্তানের ক্রিকেটে যখন নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা উঠে আসছেন, তখন শাদাবের মতো খেলোয়াড়দের এমন পারফরম্যান্স নির্বাচকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাসিত আলীর মতো অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বের এমন সরাসরি আক্রমণ প্রমাণ করে যে পাকিস্তান ক্রিকেটের অন্দরমহলে পারফরম্যান্স নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। ভবিষ্যতে টিম ম্যানেজমেন্ট শাদাবের বিষয়টি কীভাবে সামলায়, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন ক্রিকেট ভক্তরা।
