Vaibhav Sooryavanshi gets ultimate seal of approval as Sachin Tendulkar endorses
ভবিষ্যতের নক্ষত্র বৈভব সূর্যবংশী
ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন সেনসেশন বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই তিনি যে দাপট দেখিয়েছেন, তাতে ক্রিকেট বিশ্ব কার্যত অবাক। আইপিএল ২০২৬-এ তার পারফরম্যান্স ছিল স্বপ্নের মতো। তিনি মোট ৭৭৬ রান সংগ্রহ করেছেন, যার স্ট্রাইক রেট ছিল ২৩৭। এই অসাধারণ সাফল্যের পথে তিনি ক্রিস গেইলের দীর্ঘ ১৪ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে আইপিএলে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ছক্কা মারার কীর্তি গড়েছেন। এখন ক্রিকেট মহলে প্রশ্ন একটাই—এই কিশোর কি তবে টেস্ট ক্রিকেটেও নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে পারবেন? উত্তরটি দিয়েছেন স্বয়ং শচীন টেন্ডুলকার।
শচীন টেন্ডুলকারের চোখে বৈভবের প্রতিভা
মুম্বাইয়ের এক অনুষ্ঠানে কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার তরুণ বৈভবের প্রশংসা করতে গিয়ে বলেন, তার কবজির কাজ এক কথায় দুর্দান্ত। শচীন বলেন, ‘আমি ওকে ব্যাট করতে দেখেছি, ও অসাধারণ। শুধু বল মারার ক্ষমতা নয়, ওর কবজির ব্যবহার আমাকে মুগ্ধ করেছে।’ শচীন আরও যোগ করেন যে, বৈভব কেবল সজোরে ব্যাট চালায় না, বরং সে বলের লাইন ও লেন্থ খুব আগেভাগেই বুঝে ফেলতে পারে, যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।
টেস্ট ক্রিকেটের চ্যালেঞ্জ ও পরামর্শ
বৈভব সূর্যবংশীর টেস্ট ক্রিকেট ভবিষ্যৎ নিয়ে বলতে গিয়ে শচীন অত্যন্ত সতর্ক ও ইতিবাচক। তিনি মনে করেন, এই মুহূর্তে ছেলেটির ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করা উচিত নয়। টেস্ট ক্রিকেট একটি ভিন্ন ফরম্যাট এবং এখানে টিকে থাকতে হলে সমাধান খোঁজার মানসিকতা থাকতে হবে। শচীনের মতে, বৈভবের সহজাত প্রবৃত্তিই তার আসল শক্তি। তিনি বলেন, ‘আমি চাই ও নিজের মতো করেই খেলুক। ওর স্বাভাবিক খেলার ধারায় কোনো পরিবর্তন আনা ঠিক হবে না। ও সময় গড়ানোর সাথে সাথে টেস্ট ক্রিকেটের চ্যালেঞ্জগুলো বুঝতে শিখবে।’
রেকর্ড ভাঙার নেশা
আইপিএল ২০২৬-এর এলিমিনেটর ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে বৈভব মাত্র ২৯ বলে ৯৭ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছিলেন। গেইলের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড ভাঙার খুব কাছে গিয়েও তিনি অল্পের জন্য তা হাতছাড়া করেন। এই মুহূর্তে অরেঞ্জ ক্যাপ তার দখলে থাকলেও, রবিবার আরসিবি ও গুজরাট টাইটান্সের মধ্যকার ফাইনালে তার এই অবস্থান চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তবে বৈভবের এই উত্থান যে ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় ইঙ্গিত, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
ভবিষ্যতের পথে
শচীন টেন্ডুলকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বৈভবকে এখন শুধু উৎসাহ ও সমর্থন দেওয়া প্রয়োজন। তাকে যেন দল নির্বাচন বা ফরম্যাট নিয়ে অতিরিক্ত চাপের মুখে না ফেলা হয়। নির্বাচক প্যানেল ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর বিষয়টি ছেড়ে দেওয়াই শ্রেয়। টেন্ডুলকার বলেন, ‘আমরা সবাই তাকে একদিন সাদা পোশাকে (টেস্ট ক্রিকেট) খেলতে দেখতে চাই। কিন্তু সেই সময়টা কখন আসবে, তা নিয়ে তাড়াহুড়ো করার কোনো মানে হয় না। প্রতিভা যখন আছে, তখন সে সঠিক সময়েই নিজের জায়গা করে নেবে।’
বৈভব সূর্যবংশীর সামনে এখন দীর্ঘ ক্যারিয়ার। শচীন টেন্ডুলকারের মতো কিংবদন্তির কাছ থেকে এমন সার্টিফিকেট পাওয়া যেকোনো ক্রিকেটারের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। এখন দেখার পালা, এই ‘বস বেবি’ ভারতীয় ক্রিকেটের বড় মঞ্চে নিজেকে কতটা মেলে ধরতে পারেন। ক্রিকেট প্রেমীদের প্রত্যাশা অনেক, তবে সেই প্রত্যাশার ভারে যেন এই প্রতিভার বিকাশ ব্যাহত না হয়, সেদিকেও সচেতন থাকতে হবে সংশ্লিষ্ট সকলকে।
