Pakistan’s Biggest Cricket Fan Calls It Quits – ক্রিকেট থেকে বিদায় নিচ্ছেন পাকিস্তানের ‘চাচা ক্রিকেট’ আব্দুল জলিল
পাকিস্তানের ক্রিকেটের এক অধ্যায়ের সমাপ্তি
পাকিস্তান ক্রিকেটের কথা উঠলেই যে মানুষটির নাম সবার আগে মনে পড়ে, তিনি হলেন আব্দুল জলিল। বিশ্বজুড়ে তিনি ‘চাচা ক্রিকেট’ নামে সমাদৃত। গ্যালারিতে সবুজ পোশাক ও পাকিস্তানের পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে থাকা সেই পরিচিত মুখটি এবার চিরতরে মাঠ থেকে বিদায় নিচ্ছেন। ভারতের সুধীর গৌতমের মতোই, আব্দুল জলিল দলের ভালো বা মন্দ সময়ে সবসময় তাদের পাশে থেকেছেন। প্রায় ৬০ বছরের সেই দীর্ঘ পথচলা এখন এক নতুন মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে।
ষাটের দশকের সেই শুরু
১৯৬৮-৬৯ সালে যখন ইংল্যান্ড দল পাকিস্তান সফরে এসেছিল, তখন ১৯ বছর বয়সী আব্দুল জলিলের যাত্রা শুরু। সেই থেকে শুরু করে আজ প্রায় ছয় দশক তিনি পাকিস্তানের প্রতিটি বড় ম্যাচে গ্যালারির প্রাণ হয়ে ছিলেন। দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকে তিনি বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে ছুটে গেছেন দলকে সমর্থন দিতে। কিন্তু বয়স বাড়ছে, দীর্ঘ ভ্রমণ এখন আর আগের মতো সহজ নয়। তাই তিনি নিয়েছেন এক কঠিন সিদ্ধান্ত—মাঠ থেকে বিদায় নেওয়ার।
পাঁচশো ম্যাচের লক্ষ্য এবং আবেগ
ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আব্দুল জলিল জানিয়েছেন, তার একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল—কমপক্ষে ৫০০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ সরাসরি গ্যালারিতে বসে দেখা। তিনি গর্বের সঙ্গে জানিয়েছেন, তিনি সেই লক্ষ্য পূরণ করেছেন। ১৯৮৬ সালে শারজায় জাভেদ মিয়াদাদের সেই ঐতিহাসিক শেষ বলের ছক্কা থেকে শুরু করে ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতকে হারানোর সেই অবিস্মরণীয় মুহূর্ত—সবই তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন।
তবে খেলার জয়-পরাজয় নিয়ে তার অনুভূতি অত্যন্ত গভীর। ২০১১ সালের মোহালি সেমিফাইনালে ভারতের কাছে পরাজয়ের বেদনা যেমন তিনি সহ্য করেছেন, তেমনি সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের ধারাবাহিকভাবে হেরে যাওয়া তাকে ব্যথিত করেছে। বিশেষ করে ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউইয়র্কে ভারতের বিপক্ষে ১২০ রান তাড়া করতে না পারার আক্ষেপটি তার কণ্ঠে স্পষ্ট ছিল।
অবসর এবং শেষ সফর
রাওয়ালপিন্ডিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাকিস্তানের আসন্ন সিরিজ দিয়েই শুরু হচ্ছে তার বিদায়ী পর্ব। এরপর লাহোরের ম্যাচগুলো শেষে ইংল্যান্ড সফরই হবে তার ক্যারিয়ারের শেষ সফর। আব্দুল জলিল বলেন, ‘আমি আমার দেশের জন্য সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি। আমার লক্ষ্য ছিল দেশের একজন ভালো প্রতিনিধি হওয়া এবং সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটানো।’ তার এই আবেগী সিদ্ধান্ত পাকিস্তান ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এক বিশাল শূন্যতার ইঙ্গিত দেয়।
অবসর পরবর্তী জীবন
দীর্ঘদিন মাঠের ব্যস্ততার পর এখন তিনি থিতু হতে চান। তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি জানিয়েছেন, তিনি একটি ক্রিকেট-থিমযুক্ত রেস্তোরাঁ খুলতে চান। এছাড়াও, তিনি এত বছর ধরে সংগ্রহ করা ক্রিকেটের নানা স্মারক নিয়ে একটি জাদুঘর তৈরির পরিকল্পনা করছেন। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অবসরের পর তিনি সমাজসেবামূলক কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে চান।
ক্রিকেট সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ
চাচা ক্রিকেটের এই বিদায় কেবল একজন ভক্তের চলে যাওয়া নয়, এটি পাকিস্তান ক্রিকেটের একটি সোনালী যুগের সমাপ্তি। তিনি প্রমাণ করেছেন, ক্রিকেট কেবল একটি খেলা নয়, এটি দেশপ্রেমের এক অনন্য মাধ্যম। গ্যালারিতে তার সেই সবুজ পোশাক, মাথায় পতাকা এবং উৎসাহী আওয়াজ চিরকাল ভক্তদের স্মৃতিতে অম্লান হয়ে থাকবে। তার এই দীর্ঘ যাত্রার প্রতি আমরা জানাই শ্রদ্ধা এবং তার পরবর্তী জীবনের জন্য রইল শুভকামনা।
- আব্দুল জলিলের ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য অর্জন: ৫০০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ দেখা।
- স্মরণীয় মুহূর্ত: ১৯৮৬ সালের শারজা ম্যাচ এবং ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়।
- ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: জাদুঘর প্রতিষ্ঠা এবং সমাজসেবা।
