RR ride on teen steam against steady GT with final in sight – IPL 2026 Qualifier 2: রাজস্থান রয়্যালস বনাম গুজরাট টাইটানস – ফাইনালের পথে লড়াই
একই লক্ষ্যের দুই ভিন্ন পথ
শুক্রবার রাতে নিউ চণ্ডীগড়ের ফ্লাডলাইটের নিচে যখন আইপিএল ২০২৬-এর দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার শুরু হবে, তখন মাঠের লড়াইয়ে নামবে এমন দুটি দল যারা একই লক্ষ্যের পথে হাঁটলেও তাদের দর্শন সম্পূর্ণ ভিন্ন। গুজরাট টাইটানস (GT) এবং রাজস্থান রয়্যালস (RR)—উভয় দলেরই শক্তির জায়গা তাদের শক্তিশালী টপ অর্ডার এবং নতুন বলের দুর্দান্ত পেস আক্রমণ। কিন্তু খেলার ধরনে তারা মেরুপ্রান্তের মতো আলাদা।
গুজরাট টাইটানস তাদের ইনিংস সাজায় মূলত শুভমন গিল এবং বি সাই সুদর্শনের হাত ধরে। তারা ঝুঁকিহীন ক্রিকেট খেলতে পছন্দ করে এবং পাওয়ারপ্লে-তে তাদের রান তোলার গড় ৯.৬৬। তাদের লক্ষ্য থাকে প্রতিপক্ষকে নিয়ন্ত্রিত রানের টার্গেট দেওয়া এবং শক্তিশালী বোলিং ইউনিটের ওপর ভরসা করা। অন্যদিকে, রাজস্থান রয়্যালস খেলছে ১৫ বছর বয়সী বিস্ময়কর প্রতিভা বৈভব সূর্যবংশীর নেতৃত্বে। যেখানে পুরো টুর্নামেন্টে গিল এবং সুদর্শন মিলে ৫৯টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন, সেখানে এককভাবে সূর্যবংশী একাই মেরেছেন ৬৫টি ছক্কা। পাওয়ারপ্লে-তে ১১.৬৬ রান রেট নিয়ে রাজস্থান বর্তমানে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক দল।
কৌশলী লড়াই এবং পিচের প্রভাব
গুজরাটের দুর্বলতা ধরা পড়ে তখনই, যখন প্রতিপক্ষ তাদের সামনে পাহাড়সম লক্ষ্যমাত্রা দাঁড় করায়। কোয়ালিফায়ার ১-এ আরসিবি ২৫৪ রান করে ম্যাচটি সহজ করে ফেলেছিল। রাজস্থানও ঠিক একই কৌশলে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে ২৪৩ রান তুলে জয়ী হয়েছিল। যদি সূর্যবংশী একবার ক্রিজে সেট হয়ে যান, তবে গুজরাটের অভিজ্ঞ বোলিং লাইনআপের জন্যও তাকে থামানো কঠিন হবে।
টসের গুরুত্ব এই ম্যাচে অপরিসীম। যদিও এবারের মৌসুমে লক্ষ্য তাড়া করে জেতার হার বেশি, তবে প্লে-অফের প্রতিটি ম্যাচ জিতেছে আগে ব্যাট করা দল। নিউ চণ্ডীগড়ের পিচটি যেহেতু পুরনো, তাই টস জিতে আগে ব্যাট করে বড় রান তোলাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ
গুজরাট টাইটানস: শুভমন গিল (অধিনায়ক), বি সাই সুদর্শন, জস বাটলার (উইকেটরক্ষক), নিশান্ত সিন্ধু, ওয়াশিংটন সুন্দর, রাহুল তেওয়াতিয়া, জেসন হোল্ডার, রশিদ খান, কাগিসো রাবাদা, মানব সুথার/আর সাই কিশোর, মোহাম্মদ সিরাজ।
রাজস্থান রয়্যালস: যশস্বী জয়সওয়াল, বৈভব সূর্যবংশী, ধ্রুব জুরেল (উইকেটরক্ষক), রিয়ান পরাগ (অধিনায়ক), ডনোভান ফেরেরা, দাসুন শানাকা, রবীন্দ্র জাদেজা, জোফরা আর্চার, নান্দ্রে বার্গার, সুশান্ত মিশ্র, ব্রজেশ শর্মা।
পেস বোলারদের দ্বৈরথ
এই ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ হবে কাগিসো রাবাদা এবং জোফরা আর্চারের লড়াই। রাবাদা ১৫ ম্যাচে ২৬ উইকেট নিয়ে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন, অন্যদিকে আর্চারের সংগ্রহ ১৫ ম্যাচে ২৪ উইকেট। রাবাদা যেখানে পাওয়ারপ্লে-তে বল করতে পছন্দ করেন, সেখানে আর্চারকে রাজস্থান মৃত্যুর ওভার বা ডেথ ওভারে ব্যবহার করে। এই দুই বোলারের মধ্যে কে বেশি প্রভাব ফেলতে পারেন, তার ওপরই নির্ভর করবে ম্যাচের ফলাফল।
পরিসংখ্যান ও কিছু তথ্য
- বৈভব সূর্যবংশী রাবাদার বলে ১৪ বলে ২৫ এবং মোহাম্মদ সিরাজের বলে ২০ বলে ৩৮ রান নিয়েছেন।
- রাবাদা যশস্বী জয়সওয়ালকে বেশ কয়েকবার আউট করেছেন, তবে আর্চার শুভমন গিলের বিরুদ্ধে খুবই সাশ্রয়ী।
- রশিদ খানের বিরুদ্ধে রিয়ান পরাগ এবং রবীন্দ্র জাদেজার ব্যাটিং গড় ও স্ট্রাইক রেট বেশ উদ্বেগজনক।
- নিউ চণ্ডীগড়ের মাঠে রাজস্থানের রেকর্ড ঈর্ষণীয়, তারা এখানে খেলা চারটি ম্যাচেই জয়লাভ করেছে।
পরিশেষে, রিয়ান পরাগ তার বোলার আর্চার সম্পর্কে বলেন, “আর্চার বিশ্বক্রিকেটের অন্যতম সেরা। সে যখন ১৫০ কিমি গতিতে বল করে, তখন তাকে বাড়তি নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। সে তার কাজ খুব ভালোভাবেই জানে।” অন্যদিকে গুজরাটের সহকারী কোচ পার্থিব প্যাটেল আত্মবিশ্বাসী যে, তাদের নিজস্ব খেলার প্রক্রিয়ায় অটল থেকে তারা ফাইনালে জায়গা করে নিতে সক্ষম হবেন।
শুক্রবার নিউ চণ্ডীগড়ে বৃষ্টির সামান্য সম্ভাবনা থাকলেও তা ম্যাচের ওপর প্রভাব ফেলার মতো নয়। সব মিলিয়ে এক জমজমাট লড়াইয়ের অপেক্ষায় আছে আইপিএল প্রেমীরা।
