World Cup contenders England and India hope to get their combinations right – টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ প্রস্তুতি: ইংল্যান্ড বনাম ভারত সিরিজ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ
বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার লড়াই
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দরজায় কড়া নাড়ছে। এই বৈশ্বিক আসরের আগে নিজেদের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে ইংল্যান্ড এবং ভারত মুখোমুখি হচ্ছে তিন ম্যাচের এক হাই-ভোল্টেজ টি-টোয়েন্টি সিরিজে। চেমসফোর্ড, ব্রিস্টল এবং টনটনের মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সিরিজটি উভয় দলের জন্যই বিশ্বকাপের আগে তাদের পরিকল্পনা এবং খেলোয়াড়দের ভূমিকা পুনর্নির্ধারণের আদর্শ সুযোগ।
ইংল্যান্ডের জন্য প্রস্তুতির পরীক্ষা
ইংল্যান্ডের জন্য এই সিরিজটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় এই ফরম্যাটে খেলার বাইরে থাকার পর, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে তারা কিছুটা ছন্দে ফিরেছে। তবে ন্যাট সিভার-ব্রান্টের ইনজুরি তাদের জন্য বড় ধাক্কা। এই সিরিজে সোফিয়া ডাঙ্কলি এবং অ্যালিস ক্যাপসির নতুন ওপেনিং জুটিকে থিতু হতে দেখা এবং ড্যানি গিবসন ও ফ্রেইয়া কেম্পের মতো অলরাউন্ডারদের সামর্থ্য যাচাই করাই মূল লক্ষ্য হবে স্বাগতিকদের। ফিল্ডিংয়ে নিখুঁত পারফরম্যান্স দেখাতে পারলে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের জন্য বড় আত্মবিশ্বাস পাবে।
ভারতের লক্ষ্য সঠিক কম্বিনেশন
অন্যদিকে, ৫০ ওভারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারত গত বছর ইংল্যান্ডে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়েছিল। যদিও সাম্প্রতিক দক্ষিণ আফ্রিকা সফর তাদের জন্য সুখকর ছিল না, তবুও ভারতের দল বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। ইনজুরির কারণে কিছু খেলোয়াড় বাইরে থাকলেও, নতুন প্রতিভাবান বোলার নন্দিনী শর্মার মতো খেলোয়াড়রা তাদের বোলিং আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারেন। হারমানপ্রীত কৌরের নেতৃত্বে ভারত এখন চাইবে অস্ট্রেলিয়ার মতো একই সাথে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি শিরোপা নিজেদের দখলে রাখতে।
স্পটলাইটে যারা: সোফি একলেস্টোন ও স্মৃতি মান্ধানা
ইংল্যান্ডের ট্রাম্প কার্ড হিসেবে পরিচিত সোফি একলেস্টোন। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ১৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করতে তার প্রয়োজন আর মাত্র সাতটি উইকেট। যদিও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে তিনি কিছুটা ম্লান ছিলেন, তবে সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে তার বোলিংয়ে পুরনো ধার ফিরে আসার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, ভারতের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড স্মৃতি মান্ধানা। গত বছর ইংল্যান্ডের মাটিতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন তিনি। এবারের সিরিজেও তার দিকেই তাকিয়ে থাকবে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট।
দলীয় সংবাদ ও কৌশলী লড়াই
ইংল্যান্ড শিবিরে ড্যানি ওয়াট-হজ মাতৃত্বকালীন ছুটি কাটিয়ে ফিরলেও প্রথম ম্যাচে খেলবেন না। তবে মায়া বুশিয়ার দলের সাথে থাকছেন। অন্যদিকে, ভারত তাদের ব্যাটিং লাইনআপ নিয়ে কিছুটা চিন্তাভাবনা করছে। আমানজোট কৌর ইনজুরির কারণে ছিটকে যাওয়ায় দলের ভারসাম্য বজায় রাখা ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে রাধা যাদবের ফেরা ভারতীয় স্পিন আক্রমণকে আরও শক্তিশালী করবে।
পিচ ও কন্ডিশনের প্রভাব
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে চলা তাপপ্রবাহের ফলে পিচে ঘাসের পরিমাণ খুব কম থাকতে পারে। এটি স্পিনারদের জন্য সহায়ক হতে পারে। তবে চেমসফোর্ডের ছোট বাউন্ডারি ব্যাটারদের জন্য বড় রানের সুযোগ তৈরি করে দেবে। অনুশীলনী ম্যাচে ভারতের ব্যাটারদের বিধ্বংসী ব্যাটিং সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে।
সিরিজের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান
- গত বছর ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ জয় ছিল ইংল্যান্ডের মাটিতে ভারতের প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়।
- চেমসফোর্ডে খেলা ১৪টি টি-টোয়েন্টির মধ্যে ১২টিতেই জিতেছে ইংল্যান্ড।
- হারমানপ্রীত কৌর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৪০০০ রানের মাইলফলক থেকে মাত্র নয় রান দূরে রয়েছেন।
- সোফি একলেস্টোন ১৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করার অপেক্ষায় আছেন।
দুই অধিনায়কের কণ্ঠেই শোনা গেল বিশ্বকাপের প্রস্তুতির সুর। অ্যামি জোন্স এবং হারমানপ্রীত কৌর দুজনেই স্বীকার করেছেন যে, এই সিরিজটি বিশ্বকাপের আগে নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার সেরা মঞ্চ। সব মিলিয়ে, ক্রিকেটপ্রেমীরা একটি জমজমাট লড়াই দেখার অপেক্ষায় আছেন।
