কেকেআর বনাম এমআই আইপিএল ২০২৬: হার্দিক-সূর্যর প্রত্যাবর্তন ও কলকাতার প্লে-অফ লড়াই
বড় প্রেক্ষাপট: জয়ের ধারা বজায় রাখতে মরিয়া কেকেআর
আইপিএল ২০২৬-এর শুরুটা কলকাতা নাইট রাইডার্সের (KKR) জন্য ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। প্রথম ছয়টি ম্যাচে কোনো জয় না পাওয়ায় অনেকেই তাদের বিদায় ঘণ্টা শুনে ফেলেছিলেন। তবে এরপরই শুরু হয় এক অবিশ্বাস্য ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। পরবর্তী ছয় ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতে জয় তুলে নিয়ে কেকেআর তাদের প্লে-অফের আশা কোনোমতে টিকিয়ে রেখেছে। যদিও বাকি থাকা দুটি ম্যাচ জিতলেই যে তারা শেষ চারে পৌঁছে যাবে, তার কোনো গ্যারান্টি নেই, তবে লড়াই চালিয়ে যাওয়াই এখন শ্রেয়স আইয়ারের দলের মূল লক্ষ্য।
এই প্রত্যাবর্তনের নেপথ্যে রয়েছেন এমন দুই ক্রিকেটার, যারা মরসুমের শুরুতে ফর্মের কারণে দল থেকে বাদ পড়েছিলেন। ফিন অ্যালেন (২৩৩ স্ট্রাইক রেটে ২৪০ রান) এবং অঙ্গকৃষ রঘুবংশী (৭১ গড়ে ২১৩ রান) এখন কেকেআরের ব্যাটিংয়ের প্রাণভ্রমরা। ইডেন গার্ডেন্সে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের (MI) বিরুদ্ধে ম্যাচেও এই জুটির ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। পরিসংখ্যান বলছে, মুম্বাই সবসময়ই কলকাতার জন্য এক কঠিন প্রতিপক্ষ। ৩৬ বারের সাক্ষাতে ২৫ বারই জিতেছে মুম্বাই। চলতি মরসুমের শুরুতেও ২২১ রান তাড়া করে কেকেআরকে হারিয়েছিল তারা।
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বর্তমান অবস্থা ও বড় খবর
মুম্বাইয়ের জন্য এবারের মরসুমটা ভুলে যাওয়ার মতো। তারা ইতিমধ্যেই প্লে-অফের দৌড় থেকে ছিটকে গেছে। গত তিন ম্যাচের মধ্যে দুটি জিতলেও সেই সাফল্য এসেছে অনেক দেরিতে। এখন তাদের লড়াই মূলত পয়েন্ট টেবিলের তলানি থেকে বাঁচার। ২০২২ সাল থেকে এ পর্যন্ত দুবার তারা তালিকার শেষে শেষ করেছে, এবার সেই লজ্জাজনক রেকর্ড এড়াতে চায় হার্দিক বাহিনী।
কলকাতার বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে মুম্বাই শিবিরে বড় স্বস্তি হচ্ছে হার্দিক পান্ডিয়া এবং সূর্যকুমার যাদবের প্রত্যাবর্তন। পিঠের ব্যথার কারণে হার্দিক গত তিনটি ম্যাচ খেলতে পারেননি, আর ব্যক্তিগত কারণে পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে অনুপস্থিত ছিলেন সূর্যকুমার। এই দুই মহাতারকার অন্তর্ভুক্তি মুম্বাইয়ের ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগকেই শক্তিশালী করবে।
লাইমলাইটে: ক্যামেরন গ্রিন ও রায়ান রিকেলটন
অ্যালেন ও রঘুবংশী ছাড়াও ক্যামেরন গ্রিনের ফর্মে ফেরা কেকেআরের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথম পাঁচ ইনিংসে মাত্র ৫৬ রান করা গ্রিন পরবর্তী সাত ইনিংসে ১৫২.০৫ স্ট্রাইক রেটে ২৬০ রান করেছেন। টিম ম্যানেজমেন্ট তাকে ৪ নম্বর পজিশনে থিতু করেছে, যা তার পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আগামী দুই ম্যাচেও কেকেআর তার ব্যাট থেকে বড় রান আশা করছে।
অন্যদিকে, মুম্বাইয়ের হতাশার মরসুমে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে উঠেছেন রায়ান রিকেলটন। আইপিএলের এই মরসুমে মাত্র তিনজন ব্যাটার ৪০-এর বেশি গড় এবং ১৮০-র বেশি স্ট্রাইক রেটে ৪০০-র ওপর রান করেছেন, রিকেলটন তাদের একজন। রোহিত শর্মার সাথে ওপেনিংয়ে তিনি বারবার বিধ্বংসী শুরু এনে দিয়েছেন। আগামী মরসুমের দল পুনর্গঠনে তিনি মুম্বাইয়ের অন্যতম তুরুপের তাস হতে পারেন।
দলীয় সংবাদ: ইনজুরি ও সম্ভাব্য একাদশ
কেকেআর শিবিরের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন মাথিশা পাথিরানা। গত ম্যাচে মাত্র আট বল করার পরই হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। অলরাউন্ডার অনুকূল রায় জানিয়েছেন, পাথিরানার শারীরিক অবস্থা এখনো পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি খেলতে না পারলে ব্লেসিং মুজারাবানিকে একাদশে দেখা যেতে পারে।
কলকাতা নাইট রাইডার্স (সম্ভাব্য): অজিত রাহানে (অধিনায়ক), ফিন অ্যালেন, অঙ্গকৃষ রঘুবংশী, ক্যামেরন গ্রিন, মণীশ পান্ডে, রিঙ্কু সিং, সুনীল নারিন, অনুকূল রায়, বরুণ চক্রবর্তী, সৌরভ দুবে, কার্তিক ত্যাগী, ব্লেসিং মুজারাবানি।
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে রাজ বাওয়া চোটের কারণে পুরো মরসুম থেকে ছিটকে গেছেন। তবে হার্দিক ও সূর্য ফেরায় তাদের শক্তি বেড়েছে বহুগুণ। ইডেনের স্পিন সহায়ক উইকেটে এএম গজনফরকে দ্বিতীয় স্পিনার হিসেবে খেলানো হতে পারে।
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স (সম্ভাব্য): রায়ান রিকেলটন, রোহিত শর্মা, সূর্যকুমার যাদব, নমন ধীর, তিলক বর্মা, হার্দিক পান্ডিয়া (অধিনায়ক), উইল জ্যাকস, করবিন বশ, দীপক চাহার, জসপ্রীত বুমরাহ, রঘু শর্মা, এএম গজনফর।
পিচ ও কন্ডিশন: ইডেনের বাইশ গজ
বুধবারের ম্যাচটি খেলা হবে ৪ নম্বর পিচে। এই পিচে চলতি মরসুমে মাত্র একটি ম্যাচ হয়েছে, যেখানে কেকেআর ১৫৬ রান তাড়া করে রাজস্থান রয়্যালসকে হারিয়েছিল। ইডেনে টস জয় খুব একটা বড় ভূমিকা পালন করে না, কারণ পরিসংখ্যান বলছে এখানে আগে ব্যাটিং এবং পরে ব্যাটিং করা দল সমানভাবে জয়ী হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আকাশ মেঘলা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
পরিসংখ্যান ও তথ্য: বুমরাহ’র অফ-ফর্ম
- সুনীল নারিন বনাম রোহিত শর্মা: রোহিত শর্মার বিরুদ্ধে নারিনের রেকর্ড ঈর্ষণীয়। নারিনের ১৮০টি বল মোকাবিলা করে রোহিত মাত্র ১৯১ রান করেছেন এবং ১০ বার আউট হয়েছেন।
- পাওয়ারপ্লেতে মন্থর গতি: এই মরসুমে অন্তত ৫০ বল খেলা ব্যাটারদের মধ্যে স্ট্রাইক রেটের দিক থেকে কেকেআরের তিন ব্যাটার তলানিতে রয়েছেন—রাহানে (১২৭.৬৪), রঘুবংশী (১২৬.৪৭) এবং গ্রিন (১২০)।
- জসপ্রীত বুমরাহ: ২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতি মরসুমে অন্তত ১৫টি উইকেট নেওয়া বুমরাহ এই মরসুমে ১২ ইনিংসে মাত্র ৩টি উইকেট পেয়েছেন, যা তার কেরিয়ারের অন্যতম খারাপ সময়।
