আইপিএল ২০২৬: কেন অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামকে ‘অ্যাওয়ে ভেন্যু’ মনে করেন দিল্লি ক্যাপিটালসের কোচ?
ঘরের মাঠে কেন অসহায় দিল্লি ক্যাপিটালস?
আইপিএল ২০২৬ আসরে দিল্লি ক্যাপিটালসের পারফরম্যান্স যেন এক অমীমাংসিত সমীকরণ। বিশেষ করে নিজেদের ঘরের মাঠ অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে তাদের অসহায়ত্ব ফুটে উঠেছে বারবার। রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে জয়ের পর দলের প্রধান কোচ হেমং বাদানি সংবাদ সম্মেলনে নিজের ক্ষোভ চেপে রাখেননি। তিনি সরাসরি বলে দিয়েছেন, এখন থেকে তারা এই ভেন্যুকে নিজেদের মাঠ হিসেবে না দেখে বরং একটি ‘অ্যাওয়ে ভেন্যু’ বা বাইরের মাঠ হিসেবেই গণ্য করছেন।
পিচ নিয়ে অনিশ্চয়তা: কোচ বাদানির অভিযোগ
হেমং বাদানি দীর্ঘ সময় ধরেই অসংলগ্ন পিচ নিয়ে কথা বলে আসছেন। তার মতে, পিচের আচরণ এতই অস্থিতিশীল যে দলের রণকৌশল সাজানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বাদানি বলেন, ‘আমরা পিচ নিয়ে আলোচনা করা প্রায় ছেড়েই দিয়েছি। গত ১২টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ৩টিতে জয় পেয়েছি, যার একটি আবার সুপার ওভারে। এটিই বলে দেয় এই মাঠের পিচ আমাদের খেলার ধরনের সঙ্গে কতটা মানানসই।’
বাদানি আরও যোগ করেন, সাধারণত একটি মাঠে খেলার আগে পিচের ঘাস, রং এবং গঠন দেখে দল নির্বাচনের পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু দিল্লিতে প্রতিটি ম্যাচেই যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের উইকেট দেওয়া হচ্ছে। কোনো ম্যাচে দল ২৬০ রান করছে, আবার কোনো ম্যাচে ৭৫ রানে অলআউট হয়ে যাচ্ছে। পিচ নম্বর ৪, ৫ বা ৬—কোনটি কেমন আচরণ করবে, তা আগে থেকে বোঝার কোনো উপায় নেই।
অপ্রত্যাশিত ফলাফল এবং পয়েন্ট টেবিলে প্রভাব
চলতি মৌসুমে দিল্লি ক্যাপিটালস ঘরের মাঠে খেলেছে সাতটি ম্যাচ, যার মধ্যে জয় মাত্র দুটিতে। অথচ ঘরের বাইরে তারা তুলনামূলক অনেক ভালো খেলেছে, ছয়টি অ্যাওয়ে ম্যাচের মধ্যে চারটিতেই জয় পেয়েছে তারা। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে যে অরুণ জেটলির পিচ তাদের জন্য কতটা দুর্ভাগ্য বয়ে এনেছে। বাদানি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা যখন জানি না মাঠের গড় স্কোর ১৮০ নাকি ২৫০, তখন সঠিক একাদশ বাছাই করা খুবই কঠিন। এই অনিশ্চয়তা আমাদের পারফরম্যান্সে বড় প্রভাব ফেলছে।’
পিচের অসংলগ্নতা এবং কৌশলী লড়াই
রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে ম্যাচের উদাহরণ দিয়ে বাদানি ব্যাখ্যা করেন, পুরনো বলের ক্ষেত্রে পিচের আচরণ এতটাই নাটকীয়ভাবে বদলে যায় যে ব্যাটারদের জন্য টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। রাজস্থানের ইনিংসের শেষদিকে পিচ ধীরগতির হয়ে গিয়েছিল এবং বল রিভার্স সুইং করছিল। দিল্লি ম্যানেজমেন্ট এই পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে গিয়ে অনেক সময় অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে বাধ্য হয়েছে, যা সবসময় দলের জন্য ইতিবাচক হয়নি।
আইপিএলে হোম অ্যাডভান্টেজ কি শুধুই নামমাত্র?
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন উঠেছিল, বিসিসিআই কি দলগুলোকে তাদের পছন্দমতো পিচ তৈরির সুযোগ দিতে পারে? এই বিষয়ে বাদানি বলেন, ‘যদি সবার জন্য নিয়মটি সমান থাকে, তবে অবশ্যই সুযোগ থাকা উচিত। অন্তত এমন কিছু হওয়া উচিত যেখানে আপনি পিচ থেকে কী আশা করবেন তা জানতে পারেন। কিন্তু দিল্লিতে পরিস্থিতি এমন যে, মাঠে নামার আগ পর্যন্ত আমরা কিছুই বুঝতে পারি না।’
ভবিষ্যৎ পথচলা
দিল্লি ক্যাপিটালসের প্লে-অফে যাওয়ার স্বপ্ন এখনও বেঁচে আছে। তবে তাদের এই দীর্ঘস্থায়ী পিচ-সমস্যা যদি সমাধান না হয়, তবে নকআউট পর্যায়ে তাদের পথ আরও কঠিন হয়ে পড়বে। কোচ হেমং বাদানি এখন কেবল বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে পরবর্তী ম্যাচগুলোর ওপর মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে এটা স্পষ্ট যে, অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামের পিচ নিয়ে দিল্লির আক্ষেপ ও অভিযোগ আগামী দিনেও ক্রিকেটাঙ্গনে আলোচনার বড় খোরাক যোগাবে।
দিল্লি ক্যাপিটালসের এই অভিজ্ঞতা আইপিএলের মতো উচ্চমানের টুর্নামেন্টে ভেন্যু ব্যবস্থাপনার ত্রুটিগুলোকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। একটি পেশাদার ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে তারা শুধু জয় নয়, বরং খেলার উপযোগী একটি স্থিতিশীল উইকেটও প্রত্যাশা করে, যা তাদের স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলার সুযোগ করে দেবে।
