চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে ফর্মে ফেরার পথে স্পেন্সার জনসন: আরও গতির স্বপ্ন
চেন্নাই সুপার কিংসের নতুন পেস সেনসেশন স্পেন্সার জনসন
অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি ফাস্ট বোলার স্পেন্সার জনসন দীর্ঘ এক বছরের বিরতির পর ক্রিকেটে ফিরে আসাটা যে কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল, তা তার কথাতেই স্পষ্ট। পিঠের ইনজুরির কারণে প্রায় এক বছর মাঠের বাইরে থাকার পর, চেন্নাই সুপার কিংসের (সিএসকে) হয়ে লখনউ সুপার জায়ান্টসের (এলএসজি) বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে ১৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টার উপরে বল করে তিনি আবারও নিজের আগমনী বার্তা জানিয়ে দিয়েছেন।
ইনজুরি কাটিয়ে ছন্দে ফেরার গল্প
আইপিএল ২০২৫ থেকে আইপিএল ২০২৬ পর্যন্ত কোনো প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলেননি জনসন। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পর শুক্রবার লখনউয়ের মাঠে ফিরে তিনি মিচেল মার্শ এবং জশ ইংলিশের মতো ব্যাটারদের চাপে ফেলেছিলেন। তার প্রথম ওভারেই তিনি বল ভেতরে ঢুকিয়ে ইংলিশকে বেশ বেগ দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত ৪ ওভার বল করে ৩৯ রান দিয়ে ১টি উইকেট সংগ্রহ করেন তিনি। যদিও পরিসংখ্যান খুব বড় কিছু নয়, কিন্তু তার বোলিংয়ের ছন্দ ছিল দেখার মতো।
গতি ও কৌশলের সামঞ্জস্য
সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে সিএসকে-র গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে জনসন তার লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘১৪৫ কিলোমিটার গতির উপরে বল করা আমার লক্ষ্য। প্রথম ম্যাচে আমার গতি ঠিকঠাক ছিল। যত বেশি ম্যাচ খেলব, তত স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করব। গত দুই-তিন মাস নেটে প্রচুর বোলিং করেছি। প্রথম ম্যাচে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও এখন আমি আত্মবিশ্বাসী যে আমি আরও ভালো করব এবং আমার গতি আরও বাড়বে।’
পিঠের ইনজুরি থেকে বাঁচতে তিনি অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ফাস্ট বোলার রায়ান হ্যারিসের সাথে কাজ করেছেন। নিজের বোলিং অ্যাকশনে কিছু ছোটখাটো পরিবর্তন এনেছেন তিনি। জনসনের ভাষায়, ‘অস্ট্রেলিয়ায় টেকনিকের ওপর খুব জোর দেওয়া হয়। রায়ান হ্যারিসের সাথে আমি আমার রান-আপ এবং শরীরের ভর ঠিক জায়গায় রাখা নিয়ে কাজ করেছি, যাতে পিঠের ওপর চাপ কম পড়ে।’
সিএসকে-র আস্থার প্রতীক
চেন্নাই সুপার কিংসে যোগ দেওয়ার পর বোলিং কোচ এরিক সাইমনসের অধীনে কঠোর পরিশ্রম করেছেন জনসন। তিনি কোচ এবং অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘এরিকের তত্ত্বাবধানে আমি আমার পুরনো ছন্দে ফিরে এসেছি। ফ্লেমিং, এরিক এবং রুতু আমাকে যেভাবে সমর্থন দিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমি জানতাম না প্রথম ম্যাচটি কেমন যাবে, কিন্তু তাদের সমর্থন আমাকে সাহসী করে তুলেছিল।’
আইপিএলের চ্যালেঞ্জ ও আনন্দ
দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকার পর এখন প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে চান জনসন। আইপিএলের মতো মঞ্চে চাপের মুখে পারফর্ম করাটা যে কোনো ক্রিকেটারের জন্যই স্বপ্নের মতো। জেমি ওভারটনের ইনজুরির কারণে দলের পেস আক্রমণে জনসনের ভূমিকা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিএসকে-র প্লে-অফের দৌড়ে টিকে থাকতে তিনি নিজেকে উজাড় করে দিতে প্রস্তুত।
জনসন আরও বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টে সবসময়ই চাপ থাকে। এটি বিশ্বের সেরা টুর্নামেন্ট এবং আমি সম্ভবত বিশ্বের সেরা ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলছি। মাঠের মধ্যে আমি হাসি মুখে খেলার চেষ্টা করি, কারণ এই খেলাটি আমি ভালোবাসি। সিএসকে-র হয়ে খেলাটা আমার জন্য অবিশ্বাস্য এক অভিজ্ঞতা। চ্যালেঞ্জ আছে, কিন্তু এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্য কোনো জায়গায় থাকার কথা আমি ভাবতেই পারি না।’
ভবিষ্যতের পথচলা
স্পেন্সার জনসনের বর্তমান ফর্ম এবং আত্মবিশ্বাস চেন্নাই সুপার কিংসের বোলিং লাইনআপকে নতুন প্রাণ দিয়েছে। যদিও দীর্ঘ ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা সহজ ছিল না, তবে তার কঠোর পরিশ্রম এবং টেকনিক্যাল উন্নতির ফলে আশা করা যাচ্ছে যে, আগামী ম্যাচগুলোতে তিনি আরও বিধ্বংসী হয়ে উঠবেন। সিএসকে সমর্থকরাও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন তাদের এই নতুন তারকার আরও গতির ঝলক দেখার জন্য।
