Cricket News

RCB’s Yash Dayal Breaks Silence For First Time After IPL 2026 Snub: আইপিএল বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর তারকা বোলার যশ দয়াল

Nikhil Rao · · 1 min read

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (RCB) শিরোপা জয়ের আনন্দ ম্লান হয়ে গিয়েছিল তাদের এক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়ার কারণে। সম্প্রতি আইপিএল ২০২৬ এর স্কোয়াড থেকে বাদ পড়ার পর অবশেষে মুখ খুললেন তারকা বোলার যশ দয়াল। RCB’s Yash Dayal Breaks Silence For First Time After IPL 2026 Snub – এই ঘটনার মাধ্যমে ক্রিকেট বিশ্বে একটি নতুন আলোচনার ঝড় উঠেছে। দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে নিজের মনের কথা ভক্তদের সামনে এনেছেন এই বাঁহাতি পেসার।

আরসিবি-র ঐতিহাসিক জয় এবং যশ দয়ালকে ঘিরে বিতর্ক

আইপিএল শুরু হওয়ার পর থেকে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে গত মরসুমে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB) শিরোপা নিজেদের ঘরে তুলতে সক্ষম হয়। ফাইনালে পাঞ্জাব কিংসকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে বিরাট কোহলির দল। স্বাভাবিকভাবেই এই অবিস্মরণীয় জয়ে পুরো ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং ভক্তরা উল্লাসে মেতে উঠেছিল। কিন্তু এই আনন্দের রেশ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। দলের শিরোপা জয়ের পেছনে বড় অবদান রাখা বাঁহাতি পেসার যশ দয়ালকে ঘিরে তৈরি হয় এক মারাত্মক বিতর্ক।

যশ দয়ালের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর যৌন অসদাচরণের অভিযোগের কারণে আরসিবি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়। ভক্ত ও ক্রিকেট বিশ্লেষকদের অনেকেই দাবি তুলেছিলেন যে, এত বড় অভিযোগের পর তাকে যেন দলে রাখা না হয়। তীব্র সামাজিক ও আইনি চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত আরসিবি তাকে ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে পুরোপুরি রিলিজ বা বাদ না দিলেও, ২০২৬ সালের আইপিএল মরসুমের মূল দল বা মাঠের স্কোয়াডে তাকে অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নেয়।

২০২৫ সালের সেই চাঞ্চল্যকর আইনি বিতর্ক

যশ দয়ালের আইনি জটিলতার সূত্রপাত ঘটে ২০২৫ সালে, যখন তার বিরুদ্ধে দুটি অত্যন্ত গুরুতর মামলা দায়ের করা হয়। মামলাগুলোতে তার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন এবং এক নাবালিকাকে ধর্ষণের মতো মারাত্মক অভিযোগ আনা হয়। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে এক নারী প্রথম এফআইআর (FIR) দায়ের করেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন যে, যশ দয়াল তাকে মানসিকভাবে, আর্থিকভাবে এবং শারীরিকভাবে শোষণ করেছেন।

পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় যখন তার বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইন এবং নাবালিকা নির্যাতনের ধারা যুক্ত করা হয়। এর কিছুদিন পরেই রাজস্থানের জয়পুরে যশ দয়ালের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়। অভিযোগকারী নারী দাবি করেন যে, ২০২৩ সালে দয়াল তাকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করেছিলেন। এরপর ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে জয়পুরের বিশেষ পকসো আদালত যশ দয়ালের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। এই গুরুতর আইনি সংকটের কারণে আরসিবি ফ্র্যাঞ্চাইজি তার সাথে সরাসরি মাঠের সম্পর্ক বজায় না রাখার সিদ্ধান্ত নেয় এবং তাকে চলমান ২০২৬ মরসুমের খেলার দল থেকে দূরে সরিয়ে রাখে।

দল থেকে বাদ পড়া নিয়ে মুখ খুললেন যশ দয়াল

আইপিএল ২০২৬-এর স্পটলাইট থেকে দূরে থাকা যশ দয়াল আরসিবি-র এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে অবশেষে নিজের নীরবতা ভেঙেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ফ্র্যাঞ্চাইজি তাকে দল থেকে পুরোপুরি তাড়িয়ে দেয়নি, বরং এখনও দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে এবং এতেই তিনি খুশি।

নিজের বক্তব্য তুলে ধরে যশ দয়াল বলেন: “আরসিবি আমার দল, এবং সবচেয়ে বড় বিষয় হলো তারা আমাকে দল থেকে বাদ দেয়নি। তারা আমাকে রিটেইন করে রেখেছে এবং আমার জায়গায় কোনো বিকল্প খেলোয়াড়ের নামও ঘোষণা করেনি। তারা মনে করে যে আমি এখনও দলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই মরসুমে মাঠের বাইরে থাকাটা আমার নিজস্ব কোনো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ছিল না। এই সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণভাবে কতৃর্পক্ষ বা ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে। তাই ঠিক কী কারণে আরসিবি আমাকে খেলায়নি, তা আমার জানা নেই। তবে আমি এখন আর এই বিতর্ক নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না এবং এটি নিয়ে আলোচনা বাড়াতেও আগ্রহী নই।”

যশ দয়ালের আইপিএল ক্যারিয়ারের উত্থান-পতন

যশ দয়ালের আইপিএল যাত্রাটি ছিল এক চরম রোলারকোস্টারের মতো। ২০২২ সালে আইপিএল ক্রিকেটে অভিষেকের পর, ২০২৩ সালে গুজরাট টাইটান্সের হয়ে খেলার সময় তিনি এক চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েন। কলকাতা নাইট রাইডার্সের (KKR) তারকা ব্যাটার রিঙ্কু সিং তার এক ওভারে টানা পাঁচটি ছক্কা মেরে ম্যাচ জিতিয়ে নিয়েছিলেন। সেই ম্যাচের পর অনেকেই মনে করেছিলেন যে যশ দয়ালের আইপিএল ক্যারিয়ার হয়তো চিরতরে শেষ হয়ে গেছে।

কিন্তু পরের নিলামে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু তার ওপর আস্থা দেখায় এবং তাকে দলে ভেড়ায়। আরসিবি-র দেওয়া এই সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেন এই বাঁহাতি পেসার। প্রথম মরসুমেই ১৪ ম্যাচে ১৫টি উইকেট নিয়ে দলকে প্লে-অফে তুলতে অনন্য ভূমিকা পালন করেন তিনি। এরপর আরসিবি-র শিরোপাজয়ী মরসুমেও তিনি বল হাতে দারুণ পারফর্ম করেন এবং ১৩টি উইকেট শিকার করে দলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথ সুগম করেন। কিন্তু বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ায় এবং আদালত থেকে ক্লিন চিট না পাওয়ায় তাকে মাঠের বাইরে থাকতে হচ্ছে।

আরসিবি-র সিদ্ধান্ত কি সঠিক ছিল?

একজন পেশাদার ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এই মুহূর্তে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত এবং বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেহেতু যশ দয়ালের বিচার এখনো আদালতে চলমান এবং তিনি কোনো ক্লিন চিট পাননি, তাই তাকে সরাসরি মাঠে নামালে ফ্র্যাঞ্চাইজির ভাবমূর্তি বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারত। তবে আরসিবি তাকে পুরোপুরি ছেড়ে না দিয়ে যে সহমর্মিতা দেখিয়েছে, তা প্রশংসার দাবিদার। ভবিষ্যতে যদি যশ দয়াল আদালতের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হন, তবে আরসিবি নিশ্চয়ই তাকে আবার সসম্মানে মাঠের মূল দলে ফিরিয়ে নেবে।

Avatar photo
Nikhil Rao

Nikhil Rao analyzes fantasy cricket picks, probable XIs, captain choices, and player form ahead of major matches.