কে এই গুরনুর ব্রার? গুজরাট টাইটানসের যে পেসার পেলেন প্রথমবার ভারতের জাতীয় দলে ডাক
ভারতের নতুন বোলিং চমক: গুরনুর ব্রার
ভারতীয় ক্রিকেটে প্রতিভার অভাব নেই, তবে মাঝে মাঝে এমন কিছু নাম উঠে আসে যা ক্রিকেট প্রেমীদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে আগামী ৬ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া সিরিজের জন্য যখন ভারতীয় দলের ঘোষণা করা হলো, তখন অজিত আগরকরের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক প্যানেলের তালিকায় সবচেয়ে চমকপ্রদ নাম ছিল গুরনুর ব্রার। এই তরুণ পেসারকে একইসাথে টেস্ট এবং ওয়ানডে দলে জায়গা দেওয়া হয়েছে।
কে এই গুরনুর ব্রার?
পাঞ্জাবের শ্রী মুক্তসর সাহিব জেলার বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী গুরনুর ব্রার একজন লম্বা গড়নের পেসার। ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার এই বোলার পিচ থেকে প্রচুর বাউন্স আদায় করে নিতে দক্ষ। ২০২২ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হওয়ার পর থেকে তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফর্ম করে আসছেন। তবে তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায় ২০২৪-২৫ রঞ্জি ট্রফি মৌসুমে, যেখানে তিনি পাঞ্জাবের হয়ে ৭ ম্যাচে ২৬ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক হয়েছিলেন।
গুজরাট টাইটানস ও আইপিএল যাত্রা
গুরনুর ব্রারের এই উত্থানের পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে আইপিএলের। ২০২৫ সালের আইপিএল নিলামে গুজরাট টাইটানস তাকে ১.৩০ কোটি রুপিতে দলে নেয়। এর আগে ২০২৪ সালে পাঞ্জাব কিংসের হয়ে মাত্র একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলেও, শের-ই-পাঞ্জাব টি-টোয়েন্টি লিগে তিনি নিজের জাত চিনিয়েছিলেন। সেখানে ১১ ম্যাচে ২২ উইকেট নিয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে তিনি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও কতটা কার্যকর। সেই টুর্নামেন্টে তার বোলিং গড় ছিল ১৪ এবং ইকোনমি রেট ছিল ৭.৩৩।
শুভমান গিলের সাথে পুরনো বন্ধুত্ব
গুরনুর ব্রারের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে ভারতীয় অধিনায়ক শুভমান গিলের সমর্থন। ব্রার নিজেই জানিয়েছেন যে অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের সময় থেকেই গিল তাকে চেনেন। গিল তার বোলিংয়ের প্রতিভা খুব কাছ থেকে দেখেছেন এবং তাকে ডিস্ট্রিক্ট দলে জায়গা করে নিতে সহায়তা করেছিলেন। এই দীর্ঘদিনের বোঝাপড়া এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তাদের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভবিষ্যতের তারকা হিসেবে গুরনুর
বিসিসিআইয়ের প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকর গুরনুরকে ‘ভবিষ্যতের সম্পদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। আগরকরের মতে, ইন্ডিয়া এ দলের হয়ে পারফর্ম করার সময় গুরনুর নির্বাচকদের নজর কেড়েছিলেন। তার উচ্চতা এবং গতির সংমিশ্রণ তাকে অন্যান্য পেসারদের চেয়ে কিছুটা আলাদা করে তুলেছে। ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্স এবং ইন্ডিয়া এ ট্যুরে তার শৃঙ্খলাবদ্ধ বোলিং নির্বাচকদের তাকে মূল দলে নেওয়ার সাহস জুগিয়েছে।
দলীয় স্কোয়াডে গুরনুরের অবস্থান
ভারতের ওয়ানডে স্কোয়াড: শুভমান গিল, রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, শ্রেয়স আইয়ার, কেএল রাহুল, ইশান কিষাণ, হার্দিক পান্ডিয়া, নীতীশ কুমার রেড্ডি, ওয়াশিংটন সুন্দর, কুলদীপ যাদব, আর্শদীপ সিং, প্রিন্স যাদব, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা, গুরনুর ব্রার এবং হর্ষ দুবে।
ভারতের টেস্ট স্কোয়াড: শুভমান গিল (অধিনায়ক), যশস্বী জয়সওয়াল, কেএল রাহুল (সহ-অধিনায়ক), সাই সুদর্শন, ঋষভ পন্ত, দেবদূত পাডিক্কাল, নীতীশ কুমার রেড্ডি, ওয়াশিংটন সুন্দর, কুলদীপ যাদব, মোহাম্মদ সিরাজ, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা, মানব সুথার, গুরনুর ব্রার, হর্ষ দুবে এবং ধ্রুব জুরেল।
উপসংহার
ভারতের পেস বোলিং ডিপার্টমেন্টে গুরনুর ব্রারের অন্তর্ভুক্তি দলের গভীরতা আরও বাড়ালো। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক মঞ্চের চাপ সামলে তিনি কতটা সফল হতে পারেন। লম্বা বাউন্সার এবং নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে তিনি যদি প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের পরাস্ত করতে পারেন, তবে অদূর ভবিষ্যতে ভারতীয় ক্রিকেটে তিনি যে এক বড় নাম হতে যাচ্ছেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন তাকিয়ে আছেন তার অভিষেক ম্যাচটির দিকে।
