মোহাম্মদ শামি উপেক্ষিত: নির্বাচকদের কড়া সমালোচনা করলেন ওয়াসিম জাফর
মোহাম্মদ শামিকে দলে না নেওয়া নিয়ে বিতর্ক
আফগানিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট এবং ওয়ানডে সিরিজের জন্য ভারতীয় দল ঘোষণা করেছে অজিত আগরকরের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক প্যানেল। এই দল ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা ও সমালোচনা। বিশেষ করে অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ শামিকে উপেক্ষা করার বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না প্রাক্তন ভারতীয় ব্যাটসম্যান ওয়াসিম জাফর। তিনি সরাসরি নির্বাচকদের সিদ্ধান্তকে ‘বাজে’ বা ‘আবর্জনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
কেন উপেক্ষিত শামি?
দল নির্বাচনের পর নির্বাচক কমিটির প্রধান অজিত আগরকর জানিয়েছেন যে, তাদের কাছে তথ্য রয়েছে মোহাম্মদ শামি বর্তমানে শুধুমাত্র টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বোলিং করার মতো শারীরিক অবস্থায় আছেন। আগরকরের কথায়, ‘আমাদের জানানো হয়েছে যে শামি কেবল দিনে চার ওভার বোলিং করার মতো ফিট। যদিও তিনি ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছেন, কিন্তু ওয়ানডে বা টেস্টের দীর্ঘ ভার বহনের মতো শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।’
উল্লেখ্য, মোহাম্মদ শামি শেষবার ভারতের হয়ে ওয়ানডে খেলেছিলেন ২০২৫ সালের মার্চ মাসে এবং টেস্ট খেলেছিলেন ২০২৩ সালের জুন মাসে। সাম্প্রতিক আইপিএল ২০২৬-এ ১২ ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন তিনি, যেখানে তার বোলিং গড় ৪১ এবং ইকোনমি রেট ৮.৮০।
ওয়াসিম জাফরের তোপ
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ওয়াসিম জাফর নির্বাচকদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটা পুরোপুরি বাজে সিদ্ধান্ত। যে খেলোয়াড় পুরো মৌসুম জুড়ে পারফর্ম করেছে, ৪০-এর বেশি উইকেট নিয়েছে, তার কাছ থেকে আর কী আশা করা যায়? আমরা মোহাম্মদ শামির কথা বলছি, কোনো সাধারণ খেলোয়াড় নয়। সে আমাদের কত ম্যাচ জিতিয়েছে, ২০২৩ বিশ্বকাপ ফাইনালে একাই দলকে টেনে নিয়ে গিয়েছিল।’
জাফর আরও যোগ করেন, ‘শামিকে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে ফিটনেস প্রমাণ করতে বলা হয়েছিল। সে তা করেছে এবং বাংলা দলকে রঞ্জি ট্রফির সেমিফাইনাল পর্যন্ত একাই নিয়ে গেছে। এরপরও তাকে টি-টোয়েন্টির জন্য সীমাবদ্ধ বলে দাবি করাটা অজুহাত ছাড়া আর কিছুই নয়। যদি তাকে বিবেচনা না করা হয়, তবে স্পষ্ট করে তা বলে দেওয়া উচিত।’
ডাবল স্ট্যান্ডার্ডের অভিযোগ
ওয়াসিম জাফর নির্বাচকদের বিরুদ্ধে দ্বিমুখী আচরণের অভিযোগ এনেছেন। তার মতে, জসপ্রীত বুমরাহ বা অন্য বড় তারকাদের ক্ষেত্রে নির্বাচকরা এমন কঠোর বা অবমাননাকর সিদ্ধান্ত নিতেন না। তিনি বলেন, ‘বুমরাহ যদি চোট পেয়ে ফিরে আসতেন, তবে কি তাকে এভাবে অবজ্ঞা করা হতো? শামি একই উচ্চতার বোলার। যেকোনো আন্তর্জাতিক ব্যাটসম্যানকে জিজ্ঞেস করলে তারা শামিকে তালিকার ওপরের দিকেই রাখবেন। তার দীর্ঘদিনের অবদানের প্রতি এই অবহেলা সত্যিই অপমানজনক।’
দলীয় পরিবর্তনের চিত্র
আফগানিস্তান সিরিজের এই দলে আরও বেশ কিছু বড় পরিবর্তন এসেছে। রোহিত শর্মা ও হার্দিক পাণ্ডিয়াকে ওয়ানডে দলে রাখা হয়েছে, তবে তা তাদের ফিটনেসের ওপর নির্ভরশীল। রবীন্দ্র জাদেজাকে টেস্ট থেকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে এবং ওয়ানডে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে অক্ষর প্যাটেলকেও দলের বাইরে রাখা হয়েছে। জসপ্রীত বুমরাহকে এই সিরিজের জন্য বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে।
নতুন মুখ হিসেবে ওয়ানডে দলে সুযোগ পেয়েছেন প্রিন্স যাদব। এছাড়া গুরনুর ব্রার এবং হর্ষ দুবে উভয় ফরম্যাটেই ডাক পেয়েছেন। ঋষভ পন্তকে ওয়ানডে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং কেএল রাহুলকে টেস্ট দলের সহ-অধিনায়ক করা হয়েছে। শুভমান গিল উভয় ফরম্যাটেই অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
উপসংহার
ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসে মোহাম্মদ শামির অবদান অনস্বীকার্য। নির্বাচকদের তথাকথিত ফিটনেস ইস্যু এবং অভিজ্ঞতার এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত শামি কি আবারও জাতীয় দলে ফিরতে পারবেন, তা এখন সময়ের অপেক্ষা। তবে ওয়াসিম জাফরের মতো অভিজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতের অভিজ্ঞ পেস ব্যাটারিকে এভাবে দূরে সরিয়ে রাখা দলের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির কারণ হতে পারে।
