Cricket News

আইপিএল ২০২৭ নিলামে ভাইবভ সূর্যবংশীকে পেতে এলএসজির আগ্রহ: ভারতীয় কিংবদন্তির মন্তব্য

Nikhil Rao · · 1 min read

ক্রিকেট মাঠে প্রতিভার স্ফুরণ নতুন কিছু নয়, কিন্তু যখন সেই প্রতিভা মাত্র ১৫ বছর বয়সে আইপিএলের মতো বিশ্বের সবচেয়ে বড় টি-টোয়েন্টি লিগকে কাঁপিয়ে তোলে, তখন তা সত্যিই বিশেষ কিছু। সম্প্রতি এমনই এক অবিস্মরণীয় ঘটনার সাক্ষী হলো জয়পুরের সওয়াই মানসিংহ স্টেডিয়াম, যেখানে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে ১৫ বছর বয়সী বিস্ময় বালক ভাইবভ সূর্যবংশী তার ব্যাট হাতে এক জাদুকরী ইনিংস খেলে ক্রিকেট মহলে ঝড় তুলেছেন। তার দুর্দান্ত ৯৩ রানের ইনিংস কেবল রাজস্থানকে এক গুরুত্বপূর্ণ জয় এনে দেয়নি, বরং লখনউ সুপার জায়ান্টসের (LSG) মালিক সঞ্জীব গোয়েঙ্কারও মনোযোগ কেড়েছে, যা ক্রিকেট পাড়ায় নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

ভাইবভ সূর্যবংশীর বিস্ফোরক ইনিংস: এক নতুন তারকার জন্ম

গত ১৯শে মে জয়পুরের সওয়াই মানসিংহ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল রাজস্থান রয়্যালস এবং লখনউ সুপার জায়ান্টস। প্রথমে ব্যাট করে লখনউ বোর্ডে ২২০ রানের এক বিশাল লক্ষ্য দাঁড় করায়, যা এই ফরম্যাটে একটি শক্তিশালী স্কোর হিসেবে বিবেচিত হয়। এমন কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা খুব একটা ভালো ছিল না রাজস্থানের। বিশেষ করে তরুণ ভাইবভ সূর্যবংশী প্রথম ১২ বলে মাত্র ১১ রান করে কিছুটা ধীর গতিতে শুরু করেছিলেন, যা দলের সমর্থকদের মধ্যে কিছুটা হতাশা তৈরি করেছিল। কিন্তু ক্রিকেটে মুহূর্তের মধ্যে খেলা বদলে যেতে পারে, আর ভাইবভ সেটাই প্রমাণ করে দেখালেন।

শুরুতে কিছুটা মন্থর গতিতে খেললেও, ভাইবভ দ্রুতই তার খেলার গতি বাড়িয়ে দেন। এরপর যা ঘটলো তা ছিল এক অসাধারণ প্রদর্শনী। মাত্র ৩৮ বলে ৯৩ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ছিল ৭টি চার এবং ১০টি বিশাল ছক্কা। তার এই ঝড়ো ইনিংসের সৌজন্যে রাজস্থান রয়্যালস ৫ বল বাকি থাকতেই বিশাল লক্ষ্যটি তাড়া করে ফেলে এবং এক রোমাঞ্চকর জয় ছিনিয়ে নেয়। ভাইবভের এই ইনিংস কেবল তার দলের জয় নিশ্চিত করেনি, বরং ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে তার নামটি স্থায়ীভাবে গেঁথে দিয়েছে। এই বয়সেই এমন চাপের মুখে এমন পারফরম্যান্স সত্যিই অভাবনীয় এবং তার অপরিমেয় প্রতিভার পরিচায়ক।

সঞ্জীব গোয়েঙ্কার মুগ্ধতা এবং স্নেহের পরশ

ম্যাচ শেষে লখনউ সুপার জায়ান্টসের মালিক সঞ্জীব গোয়েঙ্কা পরাজিত দলের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও ভাইবভ সূর্যবংশীর প্রতি তার মুগ্ধতা গোপন রাখতে পারেননি। ম্যাচের পর তিনি তরুণ এই প্রতিভার সঙ্গে দেখা করেন এবং তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন। গোয়েঙ্কা ভাইবভকে জানান যে, বিশ্ব তার প্রতিভা দেখেছে এবং ভারতের ভবিষ্যতের ক্রিকেট ভার বহনের দায়িত্ব এখন তার কাঁধে। এটি একজন তরুণ ক্রিকেটারের জন্য এক বিশাল স্বীকৃতি, যখন প্রতিপক্ষ দলের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তার খেলার এমন প্রশংসা করেন।

সঞ্জীব গোয়েঙ্কা নিজের এক্স (পূর্বে টুইটার) হ্যান্ডেলে যে ছবিগুলো পোস্ট করেছেন, তাতে দেখা যায় ভাইবভ সূর্যবংশী শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে গোয়েঙ্কার পা ছুঁয়ে প্রণাম করছেন। এর উত্তরে গোয়েঙ্কাও তাকে আশীর্বাদ করেন এবং ভবিষ্যতের জন্য শুভেচ্ছা জানান। এই ধরনের মুহূর্তগুলো কেবল খেলার মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ছাপিয়ে মানবিক সম্পর্ক এবং গুরু-শিষ্যের ঐতিহ্যবাহী বন্ধনকে তুলে ধরে। এটি প্রমাণ করে যে, খেলাধুলায় জয়-পরাজয়ের ঊর্ধ্বে গিয়ে প্রতিভা এবং শ্রদ্ধার কদর সবসময়ই করা হয়।

সুনীল গাভাস্কারের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য: “খুব শীঘ্রই তোমার জন্য বিড করব”

সঞ্জীব গোয়েঙ্কার এই আলাপচারিতা এবং ভাইবভের প্রতি তার মুগ্ধতা দেখে প্রাক্তন ভারতীয় কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার এক দারুণ মজার মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আমি খুব শীঘ্রই তোমার জন্য বিড করব।” গাভাস্কারের এই মন্তব্যের অন্তর্নিহিত অর্থ ছিল যে, সঞ্জীব গোয়েঙ্কা ভবিষ্যতে আইপিএলের নিলামে ভাইবভ সূর্যবংশীকে লখনউ সুপার জায়ান্টসের দলে পেতে আগ্রহী হবেন। এটি ছিল ভাইবভের প্রতি একটি বড় প্রশংসা, যা ইঙ্গিত করে যে তিনি ইতিমধ্যেই একজন ভবিষ্যৎ সুপারস্টার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন, যার জন্য ভবিষ্যতে ফ্র্যাঞ্চাইজিরা বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে প্রস্তুত থাকবে। একজন কিংবদন্তি ক্রিকেটারের মুখ থেকে এমন প্রশংসা নিঃসন্দেহে ভাইবভের আত্মবিশ্বাস কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে এবং তাকে আরও ভালো খেলার জন্য অনুপ্রাণিত করবে।

ভাইবভ সূর্যবংশী কি নিকট ভবিষ্যতে নিলামে আসবেন?

যদিও সুনীল গাভাস্কারের মন্তব্যটি ছিল কৌতুকপূর্ণ এবং প্রশংসামূলক, তবে বাস্তবতার নিরিখে ভাইবভ সূর্যবংশীর নিকট ভবিষ্যতে আইপিএল নিলামে আসার সম্ভাবনা খুবই কম। সাধারণত, আইপিএলের মেগা নিলাম প্রতি কয়েক বছর অন্তর অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলিকে নির্দিষ্ট সংখ্যক খেলোয়াড় ধরে রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। ভাইবভের মতো একজন তরুণ এবং অসাধারণ প্রতিভাধর খেলোয়াড়কে রাজস্থান রয়্যালস কোনো মূল্যেই ছাড়বে না। তার বর্তমান পারফরম্যান্স এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে, রাজস্থান রয়্যালস তাকে উচ্চ মূল্যে হলেও ধরে রাখবে। এটি আইপিএলের দলগুলোর জন্য এক সাধারণ কৌশল, যেখানে ভবিষ্যতের তারকাদের ধরে রাখতে তারা কোনো রকম ঝুঁকি নিতে চায় না।

১৫ বছর বয়সেই ভাইবভ সূর্যবংশী যেভাবে আইপিএলকে কাঁপিয়ে দিয়েছেন এবং নিয়মিতভাবে বয়স-ভিত্তিক ক্রিকেটে রান করে চলেছেন, তাতে তার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। কিশোর এই ক্রিকেটারকে ভবিষ্যতে ভারত ‘এ’ দলের হয়ে খেলতে দেখা যাবে এবং ভারতীয় ক্রিকেট ভক্তরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার পারফরম্যান্স দেখার জন্য। তার প্রতিভা, কঠোর পরিশ্রম এবং সঠিক দিকনির্দেশনা তাকে নিঃসন্দেহে ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সেরা তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করবে। তার জন্য আকাশই সীমা, এবং তার ক্যারিয়ার কোন উচ্চতায় পৌঁছায় তা দেখার জন্য সবাই উদগ্রীব।

রাজস্থান রয়্যালসের প্লেঅফ যোগ্যতা: শেষ মুহূর্তের টানটান উত্তেজনা

এদিকে, লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে এই দুর্দান্ত জয়ের পর রাজস্থান রয়্যালসের প্লেঅফ খেলার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে গেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর (RCB), সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ (SRH) এবং গুজরাট টাইটান্স (GT) ইতোমধ্যেই প্লেঅফ নিশ্চিত করেছে, যেখানে একটি মাত্র স্থান এখনও খালি রয়েছে।

রাজস্থান রয়্যালসের হাতে এখনও একটি ম্যাচ বাকি আছে এবং তাদের পয়েন্ট ১৪। যদি তারা তাদের শেষ ম্যাচে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে হারাতে পারে, তাহলে তাদের আর অন্য কোনো দলের ফলাফলের উপর নির্ভর করতে হবে না এবং সরাসরি নকআউট পর্বে পৌঁছে যাবে। এটি তাদের জন্য সবচেয়ে সহজ এবং নিশ্চিত পথ।

তবে, যদি কোনো কারণে তারা মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের কাছে হেরে যায়, তাহলে রাজস্থানকে চেন্নাই সুপার কিংস (CSK) এবং পাঞ্জাব কিংস (PBKS)-এর তাদের শেষ লিগ ম্যাচগুলোতে পয়েন্ট হারানোর অপেক্ষায় থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে প্লেঅফের সমীকরণ আরও জটিল হয়ে পড়বে। কিন্তু আপাতত, রাজস্থান রয়্যালসের একমাত্র লক্ষ্য হলো মুম্বাইকে হারিয়ে নিজেদের ভাগ্য নিজেদের হাতে রাখা এবং স্ব-মহিমায় প্লেঅফের টিকিট নিশ্চিত করা। এই ম্যাচটি তাদের জন্য ‘করো অথবা মরো’ পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যেখানে জয়ের বিকল্প নেই।

Avatar photo
Nikhil Rao

Nikhil Rao analyzes fantasy cricket picks, probable XIs, captain choices, and player form ahead of major matches.