Sunil Gavaskar goes against IPL authority to support Rishabh Pant on ‘F’ word controversy
ক্রিকেটীয় আবেগের বিতর্ক ও সুনীল গাভাস্কারের ভিন্নমত
সম্প্রতি আইপিএলের একটি ম্যাচ পরবর্তী উপস্থাপনার সময় ঋষভ পন্তের মুখ থেকে অনিচ্ছাকৃতভাবে একটি অসংগত বা ‘এফ’ শব্দ বেরিয়ে আসে, যা ক্রিকেট বিশ্বে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এই ঘটনার পর ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপ তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং খেলার স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর জোর দেন। তবে ভারতীয় ক্রিকেটের কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার এই বিষয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। সুনীল গাভাস্কারgoes against IPL authority to support Rishabh Pant on ‘F’ word controversy এবং তিনি মনে করেন, মাঠের চরম উত্তেজনার মুহূর্তে এমন ঘটনা অস্বাভাবিক কিছু নয়।
কেন পন্তের পাশে দাঁড়িয়েছেন গাভাস্কার?
মিড-ডে পত্রিকায় নিজের কলামে গাভাস্কার ব্যাখ্যা করেছেন যে, হারের গ্লানি এবং তীব্র মানসিক চাপের কারণেই পন্তের মুখ দিয়ে ওই শব্দটি বেরিয়ে গিয়েছিল। তিনি মনে করেন, কোনো ম্যাচ হারার পর একজন অধিনায়কের সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য আইপিএল কর্তৃপক্ষের বর্তমান নিয়মটি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। তার মতে, হারের পরপরই একজন অধিনায়কের মানসিক অবস্থা স্বাভাবিক থাকে না, বিশেষ করে যদি ম্যাচটি শেষ ওভার পর্যন্ত গড়ায় এবং অধিনায়ক যদি দলের উইকেটরক্ষক হন, তবে প্রচণ্ড গরমে ক্লান্তি তাকে আরও বিচলিত করে তোলে।
আইপিএল কর্তৃপক্ষের প্রতি গাভাস্কারের প্রস্তাব
সুনীল গাভাস্কারের মতে, ম্যাচ শেষ হওয়ার সাথে সাথে হারের হতাশা কাটিয়ে ওঠার আগেই অধিনায়কের সামনে মাইক্রোফোন তুলে দেওয়াটা সঠিক পদ্ধতি নয়। তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন:
- ম্যাচ শেষে প্রথমে বিজয়ী দলের ‘ম্যান অফ দ্য ম্যাচ’ বা সেরা খেলোয়াড়ের সাক্ষাৎকার নেওয়া যেতে পারে।
- পরাজিত দলের অধিনায়ককে নিজের আবেগ সামলানোর জন্য কিছু সময় দেওয়া উচিত।
- মুখ ধুয়ে বা কিছুটা শান্ত হয়ে অধিনায়কের সাক্ষাৎকার নিলে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব।
খেলার আবেগ বনাম নিয়ম
গাভাস্কার তার লেখায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ঋষভ পন্ত মাঠের অন্যতম প্রাণোচ্ছ্বল খেলোয়াড়, যিনি নিজের সহজাত ভঙ্গিতে ক্রিকেট উপভোগ করেন। তিনি বলেন, “পন্তের মতো একজন মানুষ যদি এমন আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন, তবে তা থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে, পরাজয়ের ঠিক পরপরই তাদের সাক্ষাৎকার নেওয়াটা কতটা চাপের। তাদের শ্বাস নেওয়ার সময় না দিয়েই মাইক্রোফোন এগিয়ে দেওয়াটা অনুচিত।”
ক্রিকেটীয় সংস্কৃতির পরিবর্তন প্রয়োজন
একজন কিংবদন্তি হিসেবে গাভাস্কারের এই পরামর্শ ক্রিকেট মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেও, অনেক বিশেষজ্ঞই মনে করছেন এটি একটি বাস্তবসম্মত প্রস্তাব। খেলোয়াড়রাও মানুষ এবং ম্যাচের উত্তাপ তাদের মনে দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী হয়। আইপিএল কর্তৃপক্ষ যদি সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে নিয়ম পরিবর্তন করে, তবে ভবিষ্যতে এমন বিতর্কিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে।
সবশেষে বলা যায়, ঋষভ পন্তের ঘটনাটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি পেশাদার ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের ওপর চাপের একটি প্রতিফলন। সুনীল গাভাস্কারের মতো ব্যক্তিত্ব যখন নিয়ম পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলেন, তখন তা অবশ্যই গুরুত্বের সাথে বিবেচনার দাবি রাখে। ক্রিকেট শুধু একটি খেলা নয়, এটি আবেগ ও ধৈর্যের লড়াই, এবং এই লড়াইয়ের শেষে খেলোয়াড়দের কিছুটা সময় দেওয়া ক্রিকেটের স্বার্থেই প্রয়োজন।
