আইপিএল ২০২৬: শ্রেয়স আইয়ারের বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে লখনউকে উড়িয়ে প্লে-অফের আশা জিইয়ে রাখল পাঞ্জাব
আইপিএল ২০২৬: শ্রেয়স আইয়ারের মহাকাব্যিক ইনিংসে ঘুরে দাঁড়াল পাঞ্জাব
টানা ছয়টি হারের গ্লানি মুছে অবশেষে আইপিএল ২০২৬-এ জয়ের দেখা পেল পাঞ্জাব কিংস। লখনউয়ের ভারতরত্ন শ্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী একানা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই ম্যাচে লখনউ সুপার জায়ান্টসের দেওয়া ১৯৮ রানের বিশাল লক্ষ্যকে পাত্তাই দিলেন না শ্রেয়স আইয়াররা। মাত্র ১৮ ওভারেই ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় পাঞ্জাব। এই জয়ে পাঞ্জাব কিংসের প্লে-অফে ওঠার সম্ভাবনা টিকে রইল।
চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য ও পাঞ্জাবের দুর্দান্ত শুরু
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে লখনউ সুপার জায়ান্টস শুরুতেই চাপে পড়ে গিয়েছিল। আরশিন কুলকার্নি এবং নিকোলাস পুরান বড় রান করতে ব্যর্থ হন। তবে দলের হাল ধরেন জশ ইংলিস, যিনি ৪৪ বলে ৭২ রানের একটি অসাধারণ ইনিংস খেলেন। এছাড়া আয়ুষ বাদোনির বিধ্বংসী ১৮ বলে ৪৩ রান এবং আব্দুল সামাদের অপরাজিত ৩৭ রানের সুবাদে লখনউ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৯৬ রান সংগ্রহ করে। পাঞ্জাবের হয়ে মার্কো জ্যানসেন এবং যুজবেন্দ্র চাহাল দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
শ্রেয়স আইয়ার ও প্রভসিমরনের পাল্টা আক্রমণ
১৯৭ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাঞ্জাব কিংসের শুরুটা মোটেও ভালো ছিল না। লখনউয়ের পেসার মোহাম্মদ শামি শুরুতেই প্রিয়ানশ আরিয়া এবং কুপার কনোলিকে সাজঘরে ফিরিয়ে পাঞ্জাবকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন। তবে সেই কঠিন সময়ে পাঞ্জাবের ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান প্রভসিমরন সিং এবং অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। প্রভসিমরন ৩৯ বলে ৬৯ রানের একটি মারমুখী ইনিংস খেলেন, যার মধ্যে ছিল ৭টি চার ও ২টি ছক্কা। উল্লেখ্য, ঋষভ পান্ত যদি আর্জন টেন্ডুলকারের বলে প্রভসিমরনের সহজ ক্যাচটি না ছাড়তেন, তবে ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হতে পারত।
শ্রেয়সের প্রথম আইপিএল সেঞ্চুরি
অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার এদিন ব্যাট হাতে যেন অন্য কোনো গ্রহের ক্রিকেটার হয়ে উঠেছিলেন। লখনউয়ের বোলারদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়ে তিনি তুলে নেন তার আইপিএল ক্যারিয়ারের প্রথম শতরান। মাত্র ৫১ বলে ১১টি চার ও ৫টি ছক্কার সাহায্যে ১০১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে তিনি দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। তার নিখুঁত টাইমিং এবং চাপের মুখে শান্ত থাকার ক্ষমতা এদিন পাঞ্জাবের জয়ের মূল চাবিকাঠি ছিল।
প্লে-অফের সমীকরণ এখন কোথায়?
এই জয়ের পর পাঞ্জাব কিংস ১৪ ম্যাচ খেলে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে লিগ পর্ব শেষ করল। তবে তাদের প্লে-অফে যাওয়া এখন সম্পূর্ণভাবে অন্য ম্যাচের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। আগামী ২৪ মে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এবং রাজস্থান রয়্যালসের মধ্যকার ম্যাচের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে পাঞ্জাবকে। যদি রাজস্থান জয়ী হয়, তবে পাঞ্জাব কিংস টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেবে। আবার যদি ফলাফল পাঞ্জাবের পক্ষে যায়, তবে কলকাতা নাইট রাইডার্স ও দিল্লি ক্যাপিটালস ম্যাচের দিকে নজর থাকবে। কলকাতা যদি দিল্লিকে হারিয়ে দেয়, তবে নেট রান রেটের সমীকরণে নির্ধারিত হবে প্লে-অফের ভাগ্য।
পাঞ্জাব কিংসের এই জয় সমর্থকদের নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। শ্রেয়স আইয়ারের মতো একজন দায়িত্বশীল অধিনায়কের কাঁধে ভর করে দলটি শেষ মুহূর্তে এসে যে লড়াইয়ের মানসিকতা দেখাল, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। এখন দেখার বিষয়, ভাগ্যের চাকা শেষ পর্যন্ত পাঞ্জাবের দিকে ঘোরে কি না।
